২ এপ্রিল, ২০২১

বইমেলা বন্ধের শঙ্কা, অন্তত ১৫ লেখক-প্রকাশ করোনায় আক্রান্ত

 



প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে বাঙালির প্রাণের মাসব্যাপী উৎসব ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ শুরু হলেও এবছর করোনা মহামারির কারণে প্রায় দেড় মাস পিছিয়ে গত ১৮ মার্চ বইমেলা শুরু হয়। এরইমধ্যে গেল দুই-তিন সপ্তাহ ধরে করোনা পরিস্থিতিও ক্রমশ অবনতি দিকে যেতে শুরু করে। বিশেষত গত এক সপ্তাহে আক্রান্ত ও মৃত্যুতে আগের সব রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। 


এ অবস্থায় বইমেলা শুরুর পর থেকে অন্তত ১৫ জন লেখক, প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মী নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে মেলায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ভেবে আক্রান্তরা মুখ খুলছেন না।

করোনা পরিস্থিতির কারণে মেলার শুরু থেকেই কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হচ্ছিল। কিন্তু সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়তে থাকায় গেল বুধবার (৩১ মার্চ) বাংলা একাডেমির জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেলার সময় আরও কমিয়ে আনার কথা জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন থেকে বইমেলা প্রতিদিন বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। ৩০ মার্চ পর্যন্ত বইমেলা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলছিল।

প্রকাশকরা বলছেন, করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে মেলার সময় কমিয়ে দিয়েছে সরকার। এখন প্রকাশক, লেখক ও বিক্রয়কর্মীরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার ছড়িয়ে পড়লেও মেলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই তারাও আক্রান্ত হওয়ার খবরটি গোপন রাখার পক্ষেই মত দিচ্ছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে অন্য প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মাহজারুল ইসলাম, আহমদ পাবলিশার্স হাউজের প্রকাশ মিজবাহ, বিজয় প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী তপন, পাঞ্জেরী প্রকাশনীর কামরুল হাসান শায়ক ও লেখক মোশতাক আহমেদের করোনা পজিটিভ এসেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দর্শণার্থী কিংবা ক্রেতারা মাস্ক পরে স্বাস্থ্য মেনে মেলায় প্রবেশ করলেও মেলা প্রাঙ্গণে এসে মাস্ক ঘুরে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেক বিক্রয়কর্মীকেও মাস্ক মুখ থেকে নামিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। 

তবে লোক দেখানো মাস্ক ব্যবহারে সংক্রমণ থেকে মুক্তি মিলবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি দাবি করছেন তারা।

এদিকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বইমেলা বন্ধসহ সরকারকে ৫ দফা সুপারিশ করে গতকাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। একইসঙ্গে করোনা মোকাবিলায় সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনাকেও স্বাগত জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ হাজার ৪৬৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যা দেশের ইতিহাসে ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি শনাক্ত। একই সময়ে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গত বছরের ৩০ জন একদিনে ৬৪ জন মারা গিয়েছিলেন। বর্তমানে মোট আক্রান্ত ৬ লাখ ১৭ হাজার ৪৬৪ জন এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ হাজার ১০৫ জন।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

1 টি মন্তব্য: