২০ মার্চ, ২০২১

মিয়ানমার জান্তার লাগাম টানতে অর্থনৈতিক চাপই কি যথেষ্ট?




 নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের হত্যা করতে বুক কাঁপেনি মিয়ানমার সেনাদের। গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে তারা ২০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ভুক্তভোগীকে হত্যা করা হয়েছে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ করার সময় দূর থেকে মাথায় গুলি করে। বাকিদের প্রাণ গেছে অভ্যুত্থানবিরোধী সন্দেহে সেনাদের বেপরোয়া গুলিতে।

এরপরও হাল ছাড়েননি মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীরা। এ সপ্তাহে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ আর বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক আইন জারির পরেও বিক্ষোভ হয়েছে ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয় শহরে। তবে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে কার্যত গোটা মিয়ানমারেই।এর মধ্যে বেশ কিছু ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, মিয়ানমারের সেনাশাসকরা অর্থসংকটে ভুগছেন। অভ্যুত্থানের কয়েকদিন পরেই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে এক বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে মার্কিন প্রশাসন মিয়ানমার সেনাদের সেই প্রচেষ্টা আটকে দেয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশটির জান্তা সরকার ২০০ বিলিয়ন কিয়াট (মিয়ানমারের মুদ্রা) পাঁচ বছর মেয়াদী বন্ড বিক্রি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা পায় মাত্র ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন কিয়াট, তা-ও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক চড়া সুদে।

আন্তর্জাতিক মুদ্র তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, মিয়ানমারের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আটকে যাওয়া এক বিলিয়ন ডলারও রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে খুব বেশি হলে পাঁচ মাসের আমদানি-ব্যয় মেটানো যাবে। গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর মধ্যে মিয়ানমার জ্বালানি ও রান্নায় ব্যবহৃত সব তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। এসব পণ্যের দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে, অন্যদিকে কিয়াটের মান কমছে। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগেও পড়েছে বিক্ষোভ-সহিংসতার প্রভাব। সম্প্রতি মিয়ানমারে একাধিক চীনা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অবশ্যই কিছু বিনিয়োগকারী পিছু হটবেন বলে ধরা যায়।


SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: