১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বাংলাদেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা দেয়ার আশ্বাস জাপানের



বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদ কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ গত ১০ বছরে আর্থ-সামাজিক খাতে, বিশেষ করে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে চমৎকার উন্নয়নে সাফল্য অর্জন করেছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে আমরা দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা দিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
প্রেস সচিব জাপানের রাষ্ট্রদূতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ উন্নয়নের এক ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে।
হিরোইয়াসু ইজুমি বলেন, জাপানের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগে আগ্রহী। তিনি বলেন, জাপানের বহুজাতিক গাড়ি নির্মাতা মাজদা মটর কর্পোরেশন বাংলাদেশে একটি অটোমোবাইল প্ল্যান্ট স্থাপনে আগ্রহী। রাষ্ট্রদূত বলেন, জাপান বাংলাদেশে একটি এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনেও আগ্রহী।
রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে হিরোইয়াসু ইজুমি বলেন, ‘এ ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রতি সব সময় আমাদের সহানুভূতি রয়েছে।’ তিনি মিয়ানমার সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের বেড়া না দেয়ায় এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে বাংলাদেশের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তা খুবই প্রশংসনীয়।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহায়তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জাপান দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি মেট্রোরেল, মাতারবাড়ি পাওয়ার প্ল্যান্ট ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে জাপানের সহায়তার বিশেষ প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এতে ব্যবসা-বাণিজ্য আরো বাড়বে। এ প্রসঙ্গে তিনি এতদাঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরো বৃদ্ধিতে বিসিআইএম ও বিবিআইএন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার কক্সবাজারের সাবরাংয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠায় জাপানকে জমি দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। জাপান সেখানে সমুদ্র সৈকতও করতে পারে।
রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে তাদের রাজি করানোর জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট বোঝা। মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের এখান থেকে ফেরত নিতে হবে।’
প্রেস সচিব বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।
দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে জাপানের জন্য একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। সূত্র- বাসস।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: