৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

সাকিবের প্রতি মেয়ের গভীর ভালোবাসা মন কেড়েছে সবার



এশিয়া কাপ ২০১৮ থেকে ইনজুরির কারণে তামিম ইকবাল প্রথম ম্যাচেই এবং সাকিব আল হাসান কয়েকটি ম্যাচ খেলার পর থেকে মাঠের বাইরে চলে যান।
ইনজুরির ভয়াল থাবায় দু’জনই ছিটকে পড়েন মাঠের বাইরে। পরে দেশে ফিরে আসার কয়েকদিন পর তামিম কব্জির চিকিৎসা করাতে উড়ে গেছেন যুক্তরাজ্যে।
আর সাকিবের অবস্থা যে আরও করুণ। সঙ্গীর্থরা যখন ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে হারানোর কঠিন পণ নিয়ে মাঠে নামে সাকিব আল হাসান তখন রাজধানী ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালের বিছানায় শোয়া। দল যখন ভারতের সঙ্গে লড়ছে সাকিব তখন হাসপাতালের বিছানায় আঙুলের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। তীব্র ব্যথাও তাকে খেলা থেকে দূরে রাখতে পারেনি। কেবিনের টিভিতে অসহায় চোখে দেখেছেন ভারত-বাংলাদেশ ফাইনাল ম্যাচ। ভারতের কাছে ৩ উইকেটে পরাজিত হওয়ার পর আঙুলের সঙ্গে নিশ্চয়ই যন্ত্রণা অনুভব করেছেন হৃদয়েও।
এর আগে, শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাকিব আল হাসান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন।
ছবির ক্যাপশনে সাকিব লিখেছেন, ‘হাতের ব্যথায় যখন দল ছেড়ে দেশে ফিরছি, তখনও বুঝতে পারিনি এত খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।
দেশে আসার পর প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব ও হাত অস্বাভাবিক রকম ফুলে যাওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে অ্যাডমিট হয়ে একটি সার্জারি করাতে হয়েছে। আঙুলের ভেতর ইনফেকশনের ফলে ৬০-৭০ সে.মি. পুঁজ বের করতে হয়েছে।
আপনাদের দোয়ায় খুব অল্পের জন্য বড় ধরনের বিপদ থেকে এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছি। তবে দ্রুতই আরও একটি সার্জারি করাতে হবে।
আপনাদের সবার দোয়া প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় দ্রুত সুস্থ হয়ে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারি। ধন্যবাদ…’
সাকিব এখনও হাসপাতালে রয়েছে বলে জানা যায়। যদি আজ তার আঙুলের ব্যথা আর ফোলা কমে, তাহলে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে পারেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।
সূত্রে জানা গেছে, সাকিব-কন্যা আলায়না হাসান তো এখন চিকিৎসকদেরও তার বাবার কাছে আসতে দিতে চায় না!
শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির কেবিনে বাবার কোলঘেঁষা একমাত্র মেয়ে আলায়নার একটা হৃদয়স্পর্শী ছবি পোস্ট করেছেন। যে ছবি দেখে আপনার চোখে জল আসবেই। এখানেই শেষ নয় চোখ ভেজাবে সাকিব কন্যার চাওয়াটা শুনলেও। সেখানে সাকিব আল হাসান লিখেছেন, ‘সে আমার চোখের আড়াল হতে চায় না। ঢাল হয়ে থাকা আমার মেয়ে চিকিৎসকদেরও কাছে আসতে দিতে চায় না, যাতে তার বাবাকে তারা (চিকিৎসকেরা) ব্যথা না দিতে পারে!’
স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরও সাকিবের কথারই পথে হেঁটেছেন, তিনি বলেছেন, ‘সে (আলায়না) তাকে (সাকিব) ছাড়তে চায় না। ঢাল হয়ে থাকা এক কন্যা তার বাবার কাছে কিছুতেই কাছে চিকিৎসকদের আসতে দিতে চায় না। সে ভাবছে, চিকিৎসকেরা বুঝি ওর বাবাকে ব্যথা দেবে। তার হৃদয় কাঁদছে, চিকিৎসক থেকে বাবাকে দূরে রাখতে কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছে।’
প্রসঙ্গত, এশিয়া কাপে আঙুলের চোট নিয়েই খেলছিলেন সাকিব। পাকিস্তানের বিপক্ষে গত বুধবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সাকিবের আঙুলের ব্যথা বেড়ে যায়। কোনো প্রতিষেধকই কাজে আসছিল না। ব্যথার কারণে হাতে ব্যাট ধরতেই কষ্ট হচ্ছিল। যে কারণে সাকিবকে রেখেই একাদশ সাজাতে হয় টিম ম্যানেজমেন্টকে। পরে আঙুলের ব্যথা নিয়েই বুধবার দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় সাকিব আল হাসান।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: