২৩ জুন, ২০১৮

জিততে গিয়ে বদনাম যেন না হয়: প্রধানমন্ত্রী


স্থানীয় সরকারের নির্বাচনসহ সংসদের উপনির্বাচনগুলোকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে তার সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, এই নির্বাচনগুলোতে হারলেই যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারাবে কিংবা ইজ্জত চলে যাবে, তা নয়। আমাদের জিততে গিয়ে যেন কোনো বদনাম না হয়। বিএনপির ‘মাগুরা মার্কা’ ভোট যেন না হয়, সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। এটা কেবল আওয়ামী লীগ নয়, সব দলের জন্যই প্রযোজ্য।
শুক্রবার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের উপনির্বাচন এবং বিভিন্ন উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে এ বৈঠক ডাকা হয়েছিল। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে হার-জিত থাকতে পারে। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায়ও দেখতে পাচ্ছেন, যারা জেতার কথা তারা জিতছে না, গোলই দিতে পারে না। এটা রাজনীতিতেও হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিয়ে নির্বাচন পদ্ধতিতে শৃঙ্খলা এনেছে। আমরা চাই না, কোনো নির্বাচন ‘মাগুরা মার্কা’ হোক। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মতো হোক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ছয় হাজারের বেশি নির্বাচনের মধ্যে কোনোটির বিরুদ্ধে বিএনপি অভিযোগ দাঁড় করাতে পারেনি। সরকার মাগুরা মার্কা নির্বাচন করতে চায় না।
নির্বাচন বানচাল ও সরকার পতন আন্দোলনের নামে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও ধ্বংসযজ্ঞ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ঠেকাতে তারা (বিএনপি-জামায়াত) ২০১৪ সালে মানুষ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়েছে। ২০১৫ সালেও তারা আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করেছে। আন্দোলনের নামে মানুষ খুন করে তারা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে। আমরা চাই না, সেই পরিবেশ আর থাকুক। আমরা বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের পক্ষে এক হয়ে কাজ করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সব নেতাকর্মী যে যেখানে আছেন, কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা মেনে সবাই এক হয়ে কাজ করবেন। সবাইকে মানুষের কাছে যেতে হবে। সরকারের উন্নয়নের কথা বলতে হবে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: