২৩ জুন, ২০১৮

কাতারকে বিচ্ছিন্ন করতে সীমান্তে খাল খনন করবে সৌদি আরব


নিজেদের ভূ-খন্ড থেকে কাতারকে বিচ্ছিন্ন করতে উভয় দেশের মধ্যবর্তী সীমান্তে খাল খনন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। খনন কাজ সম্পন্ন করার জন্য কয়েকটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটি। সৌদি আরবের সংবাদ মাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে টেলিগ্রাফ।
খবরে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে সৌদি আরব। এবার কাতারকে পুরোপুরি দ্বীপরাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি। ভৌগলিকভাবে কাতারের তিন পাশেই সাগর।
একদিকে শুধু সৌদি আরবের সঙ্গে কাতারের স্থল সীমান্ত রয়েছে। কিন্তু সেখানেও খাল খনন করবে সৌদি আরব। দেশটির একটি দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ খাল খনন করার জন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করেছে। দু’দেশের সীমান্তে প্রস্তাবিত ‘সালওয়া’ খালে সৌদি আরব একটি সামরিক ঘাটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। সৌদিপন্থি বিশ্লেষকরা বলছেন, সালওয়া খাল খনন করা হলে কাতার আর আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র থাকবে না। ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালে সামরিক ঘাটি ছাড়াও পর্যটন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সৌদি আরবের।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা দেয় নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে খাল খননের দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। খাল খনন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেক সৌদি নাগরিক উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা লিখেছেন, এটা হবে আমাদের দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মূহুর্ত। আমরা বিশ্বের ভৌগলিক গঠন পরিবর্তন করতে চলেছি। আর একমাত্র স্থল সীমান্তে খাল খননের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কাতারের মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা বলছেন, সালওয়া খাল খননের বিষয়টি খন্দকের যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়।
এদিকে, দ্রুতই কাতার অবরোধ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খালেন বিন আহমদ আল খলিফা। তিনি বলেন, আমাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, দ্রুতই কাতার সঙ্কটের সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
উল্লেখ্য, কাতার বহুলাংশে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। সৌদি অবরোধের কারণে তাদের আমদানি বিঘ্নিত হয়েছে। সঙ্কট সামাল দিতে দেশটির প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে সৌদি আরবের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও তুরস্ক। এতে কাতার শুধু সঙ্কটই সামাল দেয়নি, বরং নিজেদের আত্মনির্ভরশীলতা আরো বৃদ্ধি করেছে। ।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: