৯ মার্চ, ২০১৮

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রথম ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ উদ্বোধন


বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রথমবারের মতো ৮.৩ কিলোমিটার এলাকাকে অপরাধমুক্ত এলাকা (‘ক্রাইম ফ্রি জোন’) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শার্শা উপজেলার পুটখালী থেকে দৌলতপুর বিওপি সীমান্ত এবং ওপারে ভারতের কালিয়ানি ও ঘোনারমাঠ বিওপির সীমান্ত এই অপরাধমুক্ত এলাকার আওয়াতাভুক্ত।
দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে আজ শুক্রবার দুপুরে বেনাপোলের পুটখালি সীমান্তের বিপরীতে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কালিয়ানি সীমান্তে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ উদ্বোধন করা হয়।
৪৯ বিজিবির কামান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আরিফুল হক জানান, যৌথভাবে ‘ক্রাইম ফ্রি জোনের’ উদ্বোধন করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) প্রধান কে কে শর্মা। অপরাধমুক্ত এলাকাটি বাংলাদেশের পুটখালী ও দৌলতপুর সীমাšত এবং ভারতের গুনারমাঠ ও কালিয়ানী সীমান্তের মধ্যে পড়েছে। (বর্ডার পিলার নম্বর ১৭/১৪৩-আর থেকে ১৭/১৮১-আর পর্যন্ত মোট ৮.৩ কিলোমিটার)।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর জেলা প্রশাসক আশরাফউদ্দিন, বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটনসহ দুই বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষিত সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিজিবির উদ্যোগে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের বর্ডার সার্ভেইল্যান্স ডিভাইস যেমন- ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, সার্চলাইট, থার্মাল ইমেজার ইত্যাদি স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিজিবির উদ্যোগে সীমান্তে অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এ ছাড়া নিজ নিজ দেশের স্থানীয় প্রশাসন এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের সহযোগিতায় সীমান্ত অপরাধে জড়িতদের অপরাধমূলক কর্মকা- থেকে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
বিএসএফের একজন কর্মকর্তা ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, গত বছরের অক্টোবরে বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের দ্বিবার্ষিক সীমান্ত সম্মেলনে এই অপরাধমুক্ত এলাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ওই এলাকায় নারী-শিশু পাচার, মাদক, অস্ত্র পাচারসহ অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকা- রোধ করা।
বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক সাংবাদিকদের জানান, সীমান্তে অপরাধ দমনে ড্রোন ব্যবহার করা হবে। যৌথভাবে এই সীমান্তে স্পিটবোট, সিসি টিভি ক্যামেরা ও ডিভাইস ব্যবহার করে যেকোনো মূল্যে সীমান্তে অপরাধ দমন করা হবে। জেলা প্রশাসন, এনজিও এবং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সহায়তায় বিজিবি ও বিএসএফ তা নিশ্চিত করবেন।
এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে আগামী দিনে সীমান্তের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার এলাকা এ ধরনের জোনের আওতায় আনা হবে বলে জানান দুই দুই বাহিনীর মহাপরিচালকরা।
জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অুনষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিজিবি সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের কৌশল হিসেবে অপরাধমুক্ত অঞ্চল ঘোষণার প্রস্তাব করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ উদ্বোধন করা হলো অপরাধমুক্ত এলাকা। ঘোষিত এলাকাটি তুলনামূলক বেশি অপরাধপ্রবণ বলে জানা যায়।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: