৯ জানু, ২০১৮

বেতন পাননি যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের কর্মীরা

তত্ত্বাবধায়কের বদলিসংক্রান্ত জটিলতায় আটকে গেছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কর্মীদের বেতন। জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্বরত ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনুর স্বাক্ষরে বেতন-ভাতা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস জানিয়েছে, গত বছরের এপ্রিলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনুর সংযুক্তি বাতিল করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ কারণে তার স্বাক্ষরে বেতন-ভাতা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে ফাইল ফেরত পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসক পদে ৭০, সেবিকা ১৪৩ ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে ১০০ জন কর্মরত আছে। গত বছরের ৮ মার্চ তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ অবসরে যাওয়ার পর সহকারী পরিচালক ডা. একেএম কামরুল ইসলামকে এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে ১৩ এপ্রিল তত্ত্বাবধায়ক পদে তার নিয়োগ আদেশ বাতিল করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, যার স্মারক নম্বর ৪৫.১৪৩.০১৯.০৩.০০.০০১.২০১৬-২৩১। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পার-২ অধিশাখার যুগ্ম সচিব একেএম ফজলুল হক স্বাক্ষরিত ওই আদেশে ডা. বেনুকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ওএসডি) হিসেবে পদায়নের জন্য বলা হয়। এ আদেশ জারির পর হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা জোটবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশেন যশোর শাখার সভাপতি ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনুকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক পদে আর কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এ সুযোগে বদলির আদেশ সত্ত্বেও ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। গত সপ্তাহে চিকিৎসক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিনোদন ভাতার জন্য ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনুর স্বাক্ষরিত একটি ফাইল পাঠানো হয় জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে। কিন্তু জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জাকির হোসেন আপত্তি প্রকাশ করে ভাতার ফাইলটি ফেরত পাঠান।
এ বিষয়ে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক রুহল আলম কিছু বলতে রাজি হননি।
ফাইল ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন,  নিয়মানুযায়ী এখন ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু এ হাসপাতালের কর্মকর্তা নন। তাই তার স্বাক্ষরে কারো কোনো বেতন-ভাতা প্রদান করা হবে না। তত্ত্বাবধায়কের সংযুক্তি পদ বাতিলের একটি কপি জেলা হিসাবরক্ষক কার্যালয়ে দেয়ার আদেশ থাকলেও তা মানা হয়নি। এ তথ্য গোপন করে ডা. বেনুর স্বাক্ষরে গত আট মাসের বেতন-ভাতা নেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কামরুল ইসলাম বেনু জানান, আমার বদলি নিয়ে জটিলতা হয়েছিল, তা কেটে গেছে। আশা করছি, চলতি সপ্তাহে সবাই বেতন-ভাতা পেয়ে যাবেন।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: