২ জানু, ২০১৮

বিদায়ী বছরে যশোরে খুন ১১৭ গ্রেফতার হয়নি অপরাধীরা


বিদায়ী ২০১৭ সালে যশোর জেলায় ১১৭ জন খুন হয়েছেন। গুলি ও ছুরিকাঘাতে বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ছাড়া কথিত গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন কয়েকজন। কিন্তু এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ডিসেম্বরে পাঁচজন খুন হন। 
সর্বশেষ ২৩ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে চা দোকানি টিপু সুলতান নিহত হন। এর আগে ১ ডিসেম্বর শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের কালেক্টরেট পার্কে খুন হন রনি ওরফে বাবু ও ২ ডিসেম্বর যশোর উপশহরে খুন হন এনজিও পরিচালক গোলাম কুদ্দুস ভিকু। 
২৩ ডিসেম্বর শহরের বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক মোড়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রকাশ্যে এক সন্ত্রাসীকে লক্ষ্য করে তার প্রতিপক্ষ গুলি করলে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে টিপু সুলতান প্রাণ হারান। এর পরপরই বেজপাড়া ও ষষ্টিতলা এলাকায় পাল্টাপাল্টি বাড়ি ভাঙচুর ও বোমাবাজি করে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। 
গত ২ ডিসেম্বর যশোর নতুন উপশহরে সন্ত্রাসীরা গুলি করে ও বোমা মেরে এনজিও পরিচালক গোলাম কুদ্দুস ভিকুকে (৫০) হত্যা করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপশহর সি ব্লক এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে তাকে গুলি করা হয়। নিহত ভিকু ‘প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থা’ নামে একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।
গত ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় যশোরের ডিসি অফিস এলাকায় কালেক্টরেট পার্কে যুবক বাবু হোসেন ওরফে রনিকে (২১) সন্ত্রাসীরা ছুরিকাঘাত করে। যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত রনি শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। ১৪ ডিসেম্বর বেনাপোলের পুটখালীতে বিএসএফের নির্যাতনে গুরুতর আহত হন সেলিম হোসেন এবং ১৬ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। ১৬ ডিসেম্বর ঝিকরগাছা উপজেলার বোটঘাট এলাকায় দলীয় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হন যুবলীগ কর্মী মিলন হোসেন। ১৮ ডিসেম্বর অভয়নগরের নওয়াপাড়া তালতলা বাজারের ভৈরব নদের পাশ থেকে নৈশপ্রহরী হাবিবুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নভেম্বরে ৬ হত্যাকাণ্ড
নভেম্বরে যশোরে ছয়টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। ২ নভেম্বর চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে হত্যাকাণ্ডের শিকার স্বাস্থ্য সহকারী ইয়াছিন আরাফাতের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। ৬ ডিসেম্বর যশোর শহরের এইচএমএম রোডে দলীয় প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে আহত হন আওয়ামী লীগ নেতা সর্দার মিলন এবং তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ১৩ নভেম্বর যশোর-মাগুরা সড়কের নোঙরপুর দরগাহ এলাকায় সন্ত্রাসীদের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি। ১৭ নভেম্বর মনিরামপুর উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামে সন্ত্রাসীরা দিনমজুর আকবর আলী গাজীকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করে। ২৪ নভেম্বর বেনাপোলের ভবেরবেড় গ্রামের একটি পুকুর থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৭ নভেম্বর চৌগাছা উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া মাঠে গণপিটুনিতে নিহত হয় গরুচোর ইনতাজ আলী।
অক্টোবরে ৫ হত্যাকাণ্ড
৭ অক্টোবর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা থেকে গৃহবধূ আঁখি বেগমের ঝুলন্ত লাশ ও পর দিন ৮ অক্টোবর সদর উপজেলার রামনগরে রেললাইনের পাশ থেকে জুটমিল কর্মচারী রতœা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৬ অক্টোবর সদর উপজেলার পতেঙ্গালীতে নওমুসলিম গৃহবধূ নশরাত জাহান পাবর্তী খুন হন।
২৮ অক্টোবর রাতে যশোর শহরের বেজপাড়া গুলগুল্লার মোড়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ইমন। ৩০ অক্টোবর যশোর সদর উপজেলার রামনগর রেলক্রসিং থেকে কৃষ্ণা রানীর মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়
সেপ্টেম্বরে ৮ খুন
৪ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার তফসীডাঙ্গার কিশোর আনারুল খুন হয়। তার লাশ উদ্ধার করা হয় মুক্তেশ্বরী নদী থেকে। ৮ সেপ্টেম্বর যশোর শহরের ডিসি বাংলোর পাশ থেকে হত্যাকাণ্ডের শিকার ঘোপের সাজিদুর রহমান সাজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর বাঘারপাড়া উপজেলার পাঠানপাইকপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় যুবক জিল্লুর রহমানের। ১৪ সেপ্টেম্বর বেনাপোলের পুটখালীতে ছেলের হাতে খুন হন মা আয়রা খাতুন। ১৬ সেপ্টেম্বর অভয়নগর উপজেলার দিয়াপাড়ায় স্বামীর হাতে খুন হন স্ত্রী কেয়া রানী দাস। ১৮ সেপ্টেম্বর ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী পটুয়াপাড়ায় খুন হন যুবক আতিয়ার রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া কলেজ রোডে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে সাবেক ইউপি সদস্য সিদ্দিক হোসেনকে। ২৬ সেপ্টেম্বর শার্শা উপজেলার মানকিয়া কোদলাহাট মাঠ থেকে স্কুলছাত্র ওমর ফারুকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।
আগস্ট মাসে ৯ খুন
৫ আগস্ট শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় শ্রমিক সেলিম মিয়া নিহত হন। ৬ আগস্ট চৌগাছা উপজেলার শিবনগরে যুবক সমেশ মণ্ডলের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ৮ আগস্ট সদর উপজেলার বাহাদুরপুরে স্বামীর হাতে খুন হন স্ত্রী শিলা বেগম। ১০ আগস্ট কেশবপুরে ভাতিজার হাতে আহত কামরুল ইসলাম মারা যান। ১৫ আগস্ট বাঘারপাড়া উপজেলার তৈলকূপ গ্রামে নানাবাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় শিশু মিনহাজের। ১৮ আগস্ট যশোর শহরের ধর্মতলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্র বন্ধনে যুবক সজীব বাড়ৈর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ২০ আগস্ট কেশবপুর উপজেলার বায়শা এলাকার একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। একই দিন বেনাপোলের পুটখালীতে অপহৃত যুবক শরিফুল ইসলাম খুন হন। তার লাশ উদ্ধার করা হয় ইছামতি নদী থেকে। 
২৪ আগস্ট সদর উপজেলা ক্ষিতিবদিয়ায় রেললাইন থেকে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৫ আগস্ট সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামে ভাতিজার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত চাচা আবদুস সাত্তার মারা যান। ২৮ আগস্ট চৌগাছা উপজেলার বড় নিয়ামতপুর গ্রামে গৃহবধূ রেশমা খাতুনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ৩১ আগস্ট সদর উপজেলার হোগলাডাঙ্গা গ্রামে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে খুন হন গৃহবধূ জুলি বেগম।
জুলাই মাসে ১৫ খুন
১ জুলাই রাতে মনিরামপুরের দোলখোলায় ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিমাল পালকে কুপিয়ে হত্যার পর ১০ লাখ টাকা লুট করে সন্ত্রাসীরা। ২ জুলাই রাতে ঝিকরগাছা উপজেলার মঠবাড়িতে বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি এয়ারটেল টাওয়ারের নিরাপত্তাপ্রহরী ওহাব তরফদারকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৪ জুলাই সদর উপজেলার শানতলায় রেললাইন থেকে অজ্ঞাত যুবকের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়। ৯ জুলাই কেশবপুরের মাদারডাঙ্গায় গৃহবধূ আফসানা মীমের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ১৩ জুলাই বাঘারপাড়া উপজেলার জামালপুর গ্রামে ছেলের হাতে খুন হন বাবা রুস্তম আলী সরদার। 
১৫ জুলাই যশোর শহরের নড়াইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন পরিবহন শ্রমিক ইমরান। ১৬ জুলাই সদর উপজেলার বড় ভেকুটিয়া গ্রামে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ লালনভক্ত আকবর শাহীর লাশ স্থানীয় মুক্তেশ্বরী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। ১৮ জুলাই অভয়নগরের দিয়াপাড়া খালকূল এলাকায় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মিকাইল মোল্যাকে। ২০ জুলাই সদর উপজেলার রঘুরামপুরে সিআইডি কর্মকর্তা আজিজুল হকের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন পারুলের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ২১ জুলাই মনিরামপুর উপজেলার দুর্বাডাঙ্গা গ্রামে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাকের লাশ স্থানীয় একটি মৎস্য ঘেরের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। একই দিন সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামে ছেলের হাতে খুন হন কাঠমিস্ত্রি আবদুস সাত্তার। 
২২ জুলাই যশোর রেলস্টেশন এলাকায় আবদুর রহমানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। একই দিন অভয়নগর উপজেলার নাউলী গ্রাম থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৬ জুলাই শার্শা উপজেলার বালুন্ডায় যুবক এজাহার আলীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ২৮ জুলাই কেশবপুর উপজেলার দুর্গাপুর ব্রিজের পাশ থেকে সন্ত্রাসী সাজ্জাদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ৩০ জুলাই মনিরামপুর উপজেলার গাবুখালী থেকে অভয়নগরের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৭ দিন আগে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। ৩০ জুলাই সদর উপজেলার চাউলিয়া গ্রামের মফিজ পাগলা খুন হয়।
জুন মাসে ৮ হত্যাকাণ্ড
৬ জুন ঝিকরগাছা উপজেলার পায়রাডাঙ্গা গ্রামে বৃদ্ধ ট্রাকচালক আবু তাহেরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ৮ জুন মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড়-ময়নাবাড়ি মাঠের একটি পাটক্ষেত থেকে হত্যাকাণ্ডের শিকার ভ্যানচালক আল আমিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ৯ জুন শার্শা উপজেলার ছোট আঁচড়ার চাতরার বিলের একটি মেহগনিগাছ থেকে মিলন নামে এক যুবককের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ১২ জুন যশোর উপশহরের খাজুরা বাসস্যান্ডে সন্ত্রাসীদের হাতে আহত পরিবহন শ্রমিক আল আমিন ১৪ জুন ঢাকায় মারা যায়। ১৬ জুন কেশবপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে চাচার ছুরিকাঘাতে ভাতিজা মুকুল হোসেন নিহত হন। ১৮ জুন বাঘারপাড়া উপজেলার আয়াপুরে কথিত গোলাগুলিতে নিহত হয় মাদক বিক্রেতা সাব্বির হোসেন। ২৭ জুন যশোর শহরের নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়ায় স্বামীর হাতে খুন হন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন।
মে মাসে ৭ খুন
১ মে মনিরামপুর উপজেলার পাড়িয়ালী গ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন পুলিশের কথিত সোর্স আতাউর রহমান। ১১ মে ঝিকরগাছা উপজেলার সোনাকুড় গ্রামে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ মনিরা খাতুন খুন হন। ১৮ মে অভয়নগর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামে ভাতিজার হাতে খুন হন চাচা নুর আলম শেখ। ২১ মে যশোর উপশহর পার্কের সামনে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন এনামুল হক সবুজ নামে এক যুবক। একই দিন ঝিকরগাছা উপজেলার বারবাকপুর গ্রামে এক গৃহবধূর হাতে খুন হন ফিরোজ নামে এক লম্পট। ২৬ মে চৌগাছা উপজেলার কোমরপুর গ্রামে ঊর্মি খাতুন নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ৩১ মে সদর উপজেলার সালতা গ্রাম থেকে পুলিশ রতœা খাতুন নামে বাকপ্রতিবন্ধী এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে।
এপ্রিল মাসে ১২ হত্যাকাণ্ড
১ এপ্রিল কেশবপুর উপজেলার মূলগ্রামে পুকুর থেকে এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে যশোর শহরের নাজির শংকরপুরে স্বামীর হাতে খুন হন খুকুমনি নামে এক গৃহবধূ। ৬ এপ্রিল মনিরামপুর উপজেলার একটি মাছের ঘের থেকে মনিমোহন সরকার নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। একই দিন যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রেস্ট হাউজ থেকে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিদফতরের পরিচালক আরিফ-উল-আলমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ৮ এপ্রিল যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গায় কথিত গোলাগুলিতে নিহত হয় সন্ত্রাসী রাজীব। ৯ এপ্রিল মনিরামপুর উপজেলার কুশখালী গ্রাম থেকে গৃহবধূ বীথি মল্লিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। 
১১ এপ্রিল যশোর শহরতলীর শেখহাটিতে স্বামীর নির্যাতনে নিহত হন রহিমা খাতুন। একই দিন যশোর-চৌগাছা সড়কের নিমতলা বাজারে কথিত গোলাগুলিতে নিহত হয় মাদক সম্রাট একসের ও তার গাড়িচালক আবু সাঈদ। ১৯ এপ্রিল কেশবপুর উপজেলার ক্রাইম পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত দেউলী চৌরাস্তা মোড়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ডাকাত ইউনুস আলী সানা। ২২ এপ্রিল রাতে যশোর শহরের মনিহার এলাকার একটি খাবার হোটেল ভবনে সন্ত্রাসীরা ছায়া খাতুন নামে এক নারী শ্রমিককে হত্যা করে। ২৩ এপ্রিল সদর উপজেলার সাতমাইল বাজার থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
মার্চ মাসে ৯ খুন
১ মার্চ সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামে গৃহবধূ কোহিনুর বেগমকে হত্যা করা হয়। ২ মার্চ যশোর উপশহর ই-ব্লকের একটি ছাত্রী মেসে কলেজছাত্রী শেফা খাতুনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ৪ মার্চ যশোর শহরের শংকরপুরে রেললাইনের পাশ থেকে ১২ বছর বয়সের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ৫ মার্চ রাতে যশোর টাউন হল মাঠে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন পাপ্পা নামে এক যুবক। ১৯ মার্চ শার্শা উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামে গৃহবধূ ফাতেমা খাতুন ঝর্ণার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। 
২১ মার্চ সদর উপজেলার কচুয়া ঘাটকুল গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে জহির হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়। একই দিন বাঘারপাড়া উপজেলার সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ছোট ভাইয়ের ইটের আঘাতে আহত হন দরাজহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুর রহমান এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান। ৩০ মার্চ যশোর রেলস্টেশন থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়। ৩১ মার্চ যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুর সংলগ্ন ভৈরব নদ থেকে পুলিশের কথিত সোর্স আবদুর রহিম ওরফে রুম্মানের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়।
ফেব্রুয়ারিতে ৫ খুন
৩ ফেব্রুয়ারি যশোর সরকারি সিটি কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদের মারধরে গুরুতর আহত হন ভারতীয় নাগরিক জুতা ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী। ৬ ফেব্রুয়ারি যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি শার্শা উপজেলার মাটিপুকুর গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী নুর হোসেন বিপ্লব। ১৫ ফেব্রুয়ারি বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলায় আসফিয়া খাতুন বৃষ্টি নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। স্বামী তাকে হত্যা করেছেন বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। 
২১ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার সিরাজসিঙ্গা গ্রামে ইটভাটার একজন ঠিকাদারের লোকজন দিনমজুর শরিফুল ইসলামকে চলন্ত ট্রাকের নিচে ফেলে হত্যা করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামে সোনালী ব্যাংক কর্মচারী রেজাউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
জানুয়ারিতে ৮ হত্যাকাণ্ড
গত ৪ জানুয়ারি ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানীতে জাকিয়া খাতুন নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ৮ জানুয়ারি বেনাপোলে ইছামতি নদী থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ১০ জানুয়ারি যশোর-চৌগাছা সড়কের জগহাটিতে কথিত গোলাগুলিতে ডাকাত রাসেল হোসেন রনি নিহত হন। ২০ জানুয়ারি রাতে সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামে যৌতুকের দাবিতে হাসি বেগম নামে একজন গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। একই দিনে কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামে ইদ্রিস আলী নামে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু হয় এবং বেনাপোলের রজনীগন্ধা আবাসিক হোটেল থেকে সাইফুল ইসলাম নামে এক বোর্ডারের লাশ উদ্ধার করা হয়। 
২৫ জানুয়ারি শার্শা উপজেলার বোয়ালিয়া মানিকা গ্রামে ভাইপোর ছুরিকাঘাতে নিহত হন চাচা নাছির উদ্দিন। ৩১ জানুয়ারি বেনাপোলের পাটবাড়ি মধ্যপাড়ায় আশিকুল ইসলাম নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এসব হত্যাকাণ্ডের বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে গুলি ও সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তথ্য ও নিউজঃ নয়া দিগন্ত অনলাইন 

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: