৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

মনোনয়ন পেতে যশোর সদরের আ. লীগের দুই নেতার লড়াই

যশোর সদর উপজেলা নিয়ে যশোর-৩ আসনটি গঠিত। যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে এ আসনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রিটিশ-ভারতে বাংলাদেশের প্রথম জেলা যশোর। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্বাধীন জেলা যশোর। আর ২০১২ সালে যশোরকে দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যশোর পৌরসভা, সেনানিবাসসহ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এই আসনের অন্তর্ভুক্ত।
এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের কাজী নাবিল আহমেদ। আগামী নির্বাচনে তিনিসহ তিনজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে আলোচনা রয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোনয়ন পাওয়ার লড়াই শুরু হয়ে গেছে দুজনের মধ্যে।

অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন সাবেক মন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। কোনো কারণে তিনি নির্বাচন না করলে, তাঁর পরিবারের কেউ করবেন।

তবে দলের আরো দুজন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বলে আলোচনা আছে।
জাতীয় সংসদের ৮৭ নম্বর এ নির্বাচনী এলাকার ভোটারের সংখ্যাও অন্যান্য আসনের চেয়ে বেশি। হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ১৬১ জন ভোটার রয়েছে এখানে।

আগের নির্বাচনগুলোর ফলাফল থেকে জানা যায়, আসনটি আওয়ামী লীগের মজবুত একটি ঘাঁটি। ১৯৯৬ সালে বিএনপি প্রার্থী তরিকুল ইসলামকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তাঁরই বন্ধু আলী রেজা রাজু। ২০০১ সালে আলী রেজা রাজুকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তরিকুল ইসলাম। ২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী তরিকুল ইসলামকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন তাঁর আরেক বন্ধু খালেদুর রহমান টিটো। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগ : একাদশ সংসদ নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চান কাজী নাবিল আহমেদ। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটোও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এ তিনজন মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা গণসংযোগ শুরু করেছেন। সভা-সমাবেশও করছেন। তাঁদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন শাহীন চাকলাদার। প্রায় প্রতিদিন তিনি গ্রামে গ্রামে সমাবেশ করছেন। ওই সব সমাবেশ থেকে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। স্থানীয় পত্র-পত্রিকায়ও এ ব্যাপারে খবর ছাপা হচ্ছে।

এ বিষয়ে শাহীন চাকলাদার  বলেন, ‘যশোর সদরের ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও যশোর পৌরসভার মেয়র আমার সঙ্গে আছেন। আমি ১৭ বছর তৃণমূলের সঙ্গে আছি। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ তারাও আমার সঙ্গে আছে। আমি দলকে ঐক্যবদ্ধ করে জামায়াতবিরোধী ভূমিকা রেখেছি। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার দিয়েছি। সরকারি সাহায্য ছাড়াও আমি ব্যক্তিগতভাবে মসজিদ-মন্দির ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছি। এ কারণে আমিই মনোনয়ন পাব। ’

মনোনয়নপ্রত্যাশী কাজী নাবিল আহমেদের পক্ষেও সভা-সমাবেশ ও মিছিল হচ্ছে। কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘আমার ক্লিন ইমেজ রয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারকরা তা জানেন। সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ কারণে দলীয় মনোনয়ন আমাকেই দেওয়া হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ’

দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকার পর খালেদুর রহমান টিটো দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনিও মিছিল-সমাবেশ করে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।

বিএনপি : আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনজন হলেও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এখন পর্যন্ত একজনই। তিনি হলেন সাবেক মন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। সবাই নিশ্চিত যশোর সদর আসনে দলীয় মনোনয়ন তাঁকেই দেওয়া হবে।

দলীয়ভাবে এমন কথা শোনা যাচ্ছে যে তরিকুল ইসলাম অসুস্থতার কারণে নির্বাচনে অংশ না নিলে তাঁর সহধর্মিণী নার্গিস বেগম কিংবা তাঁর ছেলে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। অবশ্য নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম মারুফ ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল হক সাবুও মনোনয়ন চাইতে পারেন।

এ বিষয়ে দলটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত আমার বাবা তরিকুল ইসলামকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। বাবা যদি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে আমাদের বিশ্বাস, দল তাঁর মনোনীত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে। ’

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হওয়ার জন্য শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি রবিউল আলমও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: