২ ডিসেম্বর, ২০১৭

যশোরে ১০৯ এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত

HIV in Jessore, Jessore Aids, HIV in Jessore
যশোরে প্রতি বছর বাড়ছে এইচআইভি রোগীর সংখ্যা। সর্বপ্রথম ২০০৩ সালে এ জেলায় সাতজন এইডস রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯ জনে। এইডস আক্রান্ত বা এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্তদের বেশির ভাগই ভারতফেরত অভিবাসী বলে জানা গেছে। যশোর জেলায় এ পর্যন্ত দশ হাজার ৭৯৯ জনের এইচআইভি পরীা করানো হয়েছে, যাদের মধ্যে এইচআইভি পজিটিভ ১০৯ জনের। এদের মধ্যে ২৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন। যশোর জেলা এইডস কমিটি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস। এইডস দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্য আমার অধিকার’। এই মারণব্যাধি প্রতিরোধ এবং এর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির ল্েয ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্বে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে এটি পালন শুরু করে ১৯৮৯ সালে। 
যশোর জেলা এইডস কমিটির ফোকাল পারসন মো: আবিদ হোসেন জানান, জেলায় ২০০৩ সালে সাতজন এইডস রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়, যারা সবাই মারা গেছেন। মারা যাওয়াদের মধ্যে ছিলেন চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী। চলতি বছর যশোর জেলায় ২৫৩ জনের এইচআইভি পরীা করানো হয়েছে। এদের মধ্যে পজিটিভ সাতজন। আবিদ হোসেনের মতে, এইডস প্রতিরোধের বড় প্রতিবন্ধকতা হলো সচেতনতার অভাব। 
যশোরে ২০০৩ সাল থেকে কাজ শুরুর পর এইচআইভি পরীার জন্য যারা এসেছেন তাদের বেশির ভাগই কোনো-না-কোনো সংস্থা থেকে রেফার করা। ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো উৎস থেকে পরীার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রচার-প্রচারণা না থাকা এর জন্য দায়ী বলে তিনি মনে করেন। আবার যারা আসছেন তাদের মধ্যেও অনেকে পজিটিভ অবস্থায় আত্মগোপনে চলে যান। এটি একটি ভয়াবহ প্রবণতা। 
তিনি জানান, যশোরে এইডস আক্রান্ত বা এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্তদের বেশির ভাগই ভারতফেরত অভিবাসী। 
বাংলাদেশে প্রথম এইডস রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। বর্তমানে দেশের তিন হাজার ৬৭৪ জন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। ঝুঁকিতে আছে আরো ১৪ হাজার ৩০০ জন।
২০১০ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতে প্রায় ২৫ লাখ ও মিয়ানমারে দুই লাখ ৪০ হাজার মানুষ এইডসে আক্রান্ত। চীনে তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষ এইডস আক্রান্ত। 
ইউএন এইডসের দেয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একুশে টেলিভিশন ২ নভেম্বর প্রচারিত এক প্রতিবেদনে জানায়, মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নিপীড়ন শুরুর পর সেখান থেকে বিতাড়িত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫৫ জন এইডস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এর আগে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে দশজন এইডস রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। 
যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আশিকুজ্জামান আশিক মনে করেন, যদি কোনো ব্যক্তি স্বাস্থ্য অধিকারের সাথে আপস করেন তাহলে তার যেকোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে; কিন্তু আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার সুনিশ্চিত নয়। বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যৌনকর্মী, মাদকসেবী ও অভিবাসীরা স্বাস্থ্য অধিকার লাভ করতে পারেন না। অথচ এরাই এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। 
ডা: আশিক বলেন, ‘এসডিজি অর্জনের সাথে মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি জড়িত। সে হিসাবে ২০৩০ সালের মধ্যে জনস্বাস্থ্যের হুমকি হিসেবে এইডস মহামারীর সমাপ্তিসহ সবার স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিতকরণে যথাযথ পদপে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ওষুধ গ্রহণের চেয়েও জরুরি।’
একই সাথে যারা এই রোগে আক্রান্ত তাদের সঠিক চিকিৎসা, রণাবেণ, নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ডা: আশিক।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: