২০ নভেম্বর, ২০১৭

যশোরে মাল্টা চাষে কৃষকের ব্যাপক সাফল্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের হাতছানি

যশোরের মনিরামপুরে বারি-১ জাতের দেশীয় মালটা চাষে ব্যাপক সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। পরিক্ষামুলক ভাবে মালটা চাষ করে সফল হয়েছেন আব্দুল করিম নামে এক যুবক। এক বিঘা জমিতে বারি-১ জাতের মালটা চাষ করে সফলতা পাওয়ায় বর্তমানে তিনি প্রায় ৭ বিঘা জমিতে মালটা চাষের জন্য নিজ বাড়িতে গ্রাফটিং কলমের মাধ্যমে বারি-১ জাতের মালটার চারা উৎপাদন শুরু করেছে। সরেজমিনে উপজেলার মুজগন্নি গ্রামে গিয়ে জানাগেছে, আব্দুল করিম একজন শিক্ষিত যুবক। পড়া-লেখা করে চাকরী না করে কিভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায় তিনি তা নিয়ে ভাবতে থাকে। এক পর্যায় তিনি। বারি-১ জাতের মাল্টা উদ্ভাবক ও গবেষক খুলনা বিভাগীয় কৃষি ইন্সটিটিউটের কর্মকর্তা ড. প্রশান্ত কুমার এর পরামর্শে কৃষি বিভাগের দ্বিতীয় শস্য বহুমুখী করন প্রকল্প (এসসিডিপি)’র আওতায় গত ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে জৈব প্রযুক্তিতে পরিক্ষামুলক বারি-১ জাতের ১’শ ৪৫টি চারা রোপনের মাধ্যমে মালটা চাষ শুরু করেন। পরিক্ষামুলক ভাবে মাল্টা চাষ করে সাফল্য পাওয়ায় এলাকায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক ভাবে সাড়া ফেলেছে। এ জেলায় এক মাত্র মাল্টা বাগান হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা এসে ভিড় করছে। বাগান ঘুরে দেখা যায় ছোট-ছোট গাছে থোকায়-থোকায় রসালো মালটা ঝুলছে। প্রায় প্রতিটি গাছে হালকা কমলা রঙ্গের শত-শত মালটায় বাহারি দৃশ্য ধারন করে আছে রাসায়নিক সার বিবর্জিত বাগানটি। এবিষয়ে মাল্টা চাষি আব্দুল করিম বলেন প্রতিটি গাছে ১’শ থেকে ১’শ ৭০টি ফল ধরেছে। যা বিদেশ থেকে আমদানীকৃত ফলের চেয়ে রসালো ও সুস্বাদু এবং অনেক বেশী মিষ্টি। তিনি আরো বলেন ১বিঘা জমিতে মালটা চাষে তার খরচ হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। গত বছর প্রথম গাছে ফল ধরে, যা প্রায় ৪০ হাজার টাকা বিক্রী করা যেত। কিন্তু নতুন ফল হওয়ায় আত্বীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের মাঝে বিতরন করেন তিনি। এবছর তিনি ১ লক্ষ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছে। বর্তমানে গাছে যে ফল রয়েছে তা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি হতে পারে। আগামী বছর ৩/৪ লক্ষ টাকার মাল্টা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি। তিনি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শুশান্ত কুমার তরফদার বলেন আব্দুল করিম মাল্টা চাষে সম্পুর্ন রাসায়নিক সার মুক্ত জৈব প্রযুক্তির (ভার্মি কম্পোষ্ট) সার এবং জৈব বালাই নাশক ব্যবহার করে মাল্টা চাষ করে সফল হয়েছেন। বারি-১ জাতের মাল্টা উদ্ভাবক ও গবেষক খুলনা বিভাগীয় কৃষি ইন্সটিটিউটের কর্মকর্তা ড. প্রশান্ত কুমার বলেন বারি-১ জাতের মাল্টা একটি সম্ভবনায় ফসল, যা বানিজ্যিক ভাবে চাষ করে কৃষকরা সাবলম্বী হবে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: