৫ নভেম্বর, ২০১৭

যশোরে হাসপাতাল থেকে রোগী উচ্ছেদ: ওভার ব্রীজের নিচে মৃত্যু

শনিবার দুপুরে যশোরে জেনারেল হাসপাতালের ওভার ব্রীজের নিচে অজ্ঞাত এক নারীকে (৭০) মরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চিকিৎসাধীন ওই নারীকে ডাক্তার ছাড়পত্র দিয়ে দেন এবং আয়ারা তাকে ধরে হাসপাতালের ওভার ব্রীজের নিচে খোলা জায়গায় রেখে আসেন। 

ওই অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চেহারা ও পোশাক দেখে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা অজ্ঞাত ওই নারী ছিন্নমূল। ওই নারীর লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। তার পরনে সাদা গেনজি ও লাল সালোয়ার রয়েছে।

মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসারত এক রোগীর স্বজন শহরের বেজপাড়া আনসার ক্যাম্প এলাকার তাজুলের স্ত্রী নুরুন্নাহারসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে অজ্ঞাত ওই নারী হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের বারান্দায় শুয়ে ছিলেন। ওই ওয়ার্ডের আয়া রোজিনা ও প্রতিমা মিলে রাত ১১টার দিকে ওই নারীকে হাসপাতালের ওভার ব্রীজের নিচে রেখে আসেন।

মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের আয়া আয়শা বেগম আমাদের প্রতিবেদককে জানান, আমি গত ৭-৮ দিন ধরে অজ্ঞাত ওই নারীকে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের বারান্দায় শুয়ে থাকতে দেখেছি। আমি শুনেছি, কারা নাকি ওই নারীকে ধরে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের ওভার ব্রীজের নিচে রেখে এসেছে।

মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র নার্স হোসেনে আরা বলেন, ১০-১২ দিন আগে অজ্ঞাত ওই নারী হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। ৪-৫ দিন আগে ডাক্তার তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। কিন্তু ওই রোগীর কোনো স্বজন না থাকায় ছাড়পত্র দেওয়ার পরেও সে ওয়ার্ডের বারান্দা ছাড়েনি। সকালে ডিউটিতে এসে তাকে আর দেখিনি। কিন্তু আজ শুনেছি ওভার ব্রীজের নিচে সে নাকি মারা গেছে।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার কাজল মল্লিক বলেন, আজ শনিবার বেলা ২টার দিকে ওভার ব্রীজের নিচ থেকে অজ্ঞাত ওই নারীকে উদ্ধার করে জরুরী বিভাগের সামনে আনা হয়। আমি পরীক্ষা করে দেখি, তিনি মারা গেছেন। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া বলা যাবে না। তবে জরুরী বিভাগে আনার ৩-৪ ঘণ্টা আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এম কামরুল ইসলাম বেনু বলেন, নার্স-ডাক্তারদের অবহেলায় কোনো নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে শুনিনি।

জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আবুল বাসার বলেন, এরকম ঘটনা আমার জানা নেই। তবে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। 

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: