১০ নভেম্বর, ২০১৭

যশোরে কর্মীদের হাতে বিএনপি নেতারা লাঞ্ছিত

যশোরে দোয়া মাহফিলে এসে দলীয় কর্মীদের হাতে মার খেলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা, সঙ্গে বেনাপোলের এক ছাত্রদল নেতা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব যশোরের গেটের সামনে ঘটনাটি ঘটে।
বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন তরিকুল ইসলামের রোগমুক্তি কামনায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল জেলা শাখা গতকাল বাদ আছর প্রেসক্লাব যশোর কনফারেন্স রুমে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এতে শ্রমিকদল ছাড়াও বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা অংশ নেন। 
দলীয় সূত্র জানায়, এর আগে শার্শা সাংগঠনিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য শার্শা এলাকার নেতাদের ডেকেছিলেন জেলা বিএনপি নেতারা। বিকেল হয়ে যাওয়ায় জেলা বিএনপি নেতাদের অনুরোধে তারা প্রেসক্লাবে শ্রমিকদলের দোয়া মাহফিলে যোগ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোয়া মাহফিল শেষে সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব ত্যাগ করছিলেন নেতাকর্মীরা। প্রেসক্লাব গেটের সামনে প্রথমে আক্রান্ত হন জেলা ছাত্রদলের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক বেনাপোলের বাসিন্দা ইমদাদুল হক ইমদাদ।
যুবদল কর্মী হাবিবুল্লাহ তাকে কিল-ঘুসি, চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। হাবিবুল্লাহর সহযোগী হিসেবে ছিলেন যুবদল কর্মী খড়কী এলাকার পারভেজ, জেলা যুবদল সভাপতি এহসানুল হক মুন্নার ভাই পাপ্পু, সানি, রাজ্জাক, বাপ্পি, কুইন প্রমুখ। পাপ্পু নেতাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করে।
ইমদাদকে মারতে দেখে সেখানে এগিয়ে আসেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু, সাধারণ সম্পাদক হাসান জহির, ঝিকরগাছা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মোর্তজা এলাহী টিপু প্রমুখ। এ সময় হামলাকারীরা বিএনপি নেতা মধুর নাকে ঘুসি মারে। এতে রাস্তার ওপর পড়ে যান মধু। তাকে রক্ষা করতে এসে আক্রান্ত হন হাসান জহির, মোর্তজা এলাহী টিপু, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ।
ঘটনাটি যখন ঘটে তখন প্রেসক্লাব ও সামনে মুজিব সড়কে দলটির বহু নেতাকর্মী ছিলেন। বিশেষ করে শার্শা ও ঝিকরগাছা বিএনপির শীর্ষ নেতারা আক্রান্ত হন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, প্রচার সম্পাদক হাজী আনিসুর রহমান মুকুল প্রমুখের সামনে।
আক্রান্ত বিএনপি নেতা খায়রুজ্জামান মধু বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত আছি। জেল-জুলুম, অত্যাচার সহ্য করেছি। কিন্তু তা কখনো নিজ দলের নেতাকর্মীদের হাতে নয়। আজকের ঘটনার পর আমি আর এই দল করবো কি না তা ভেবে দেখতে হবে।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বুধবার তরিকুল ইসলামের রোগমুক্তি কামনায় শার্শা উপজেলা যুবদল-ছাত্রদলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। দোয়া মাহফিল শেষে সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা যশোর থেকে যাওয়া কয়েকজনকে ধাওয়া করে। এতে কয়েকজন আহতও হয়। আজকের ঘটনার সঙ্গে বুধবার শার্শায় ঘটে যাওয়া ধাওয়ার যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রেসক্লাবের সামনে নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকারীরা প্রকাশ্যে বলতে থাকেন, ‘তোদের সহযোগিতায় গতকাল আমরা মার খেয়েছি।’ 

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: