৬ নভেম্বর, ২০১৭

যশোরে যুবলীগ নেতা মিঠুকে লক্ষ্য করে গুলি

যশোর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুদ্দিন মিঠুকে লক্ষ্য করে একদল দুর্বৃত্ত গুলি ছুড়েছে। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তিনি। 
আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে বিরোধ চাঙ্গা হওয়ার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে দিনদুপুরে এই ঘটনা ঘটলো। আক্রান্ত মিঠু আওয়ামী লীগের নাবিল গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত।
আজ সোমবার দুপুরে শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ লাইনের পাশে নিজ বাড়ির সামনে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত হন মিঠু। চার দুর্বৃত্ত একযোগে গুলি ছুড়লেও তিনি ‘আল্লাহর রহমতে’ রক্ষা পেয়েছেন বলে দাবি করেন। বলেন, তিনি দৌড়ে পুলিশ লাইন মসজিদে আশ্রয় নেওয়ার পর দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ছাড়ে।
এই ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার অনুসারী দুর্বৃত্তরা জড়িত বলে দাবি মিঠুর। এই নিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে মিঠুকে হত্যা করতে দুই দফা গুলি ছুড়লো দুর্বৃত্তরা।
খবর পেয়ে ঘটনার পর পরই এলাকায় পুলিশ যায়। থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আবুল বাশার জানান, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
মঈনুদ্দিন মিঠু  বলেন, ‘সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের গাড়িতে চেপে বেলা দেড়টার দিকে আমি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিই। পুলিশ লাইনের কাছে মণিকা শিশু ক্লিনিকের সামনে গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির উদ্দেশে হেঁটে রওনা হই। বাড়ির গলিতে ঢুকে ৫০ গজ মতো এগুনোর পর সাংবাদিক এম এ মান্নান মিয়ার গেটের কাছে পৌঁছুলে দুটি মোটরসাইকেলে ছয় দুর্বৃত্ত আমার কাছাকাছি চলে আসে। তাদের মধ্যে থেকে চারজন চারটি অস্ত্র বের করে আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। কিন্তু চারটি অস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি থেকে এক রাউন্ড গুলি বর্ষিত হয়। অন্য অস্ত্রগুলো থেকে চেষ্টা করেও দুর্বৃত্তরা গুলিবর্ষণ করতে পারেনি।’
‘যে এক রাউন্ড গুলি বর্ষিত হয়, তা আমার গায়ে লাগেনি। সুযোগ পেয়ে উল্টো দিকে দৌড়ে পুলিশ লাইন মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নিই। সেখানে তখন  জোহরের নামাজ চলছিল। দুর্বৃত্তরা আমাকে ধাওয়া করলেও মসজিদের মধ্যে ঢোকেনি। মোটরসাইকেলে চেপে চলে যায় তারা,’ বলছিলেন মিঠু।
ঘটনার পর পরই কোতয়ালী পুলিশ ও তার পক্ষের আওয়ামী লীগ নেতাদের বিষয়টি জানান মঈনুদ্দিন মিঠু।
কিছু সময়ের মধ্যে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। তারা মিঠুকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আবুল বাশার  বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর পরই এলাকায় পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। তারা এখনো সেখানে অবস্থান করছে। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।’
মঈনুদ্দিন মিঠু যশোর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পুরাতন কসবা পুলিশ লাইন এলাকার বাসিন্দা। আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে তিনি সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারী গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত। যুবলীগের আসছে কমিটিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে চলেছেন বলে নাবিল অনুসারী নেতাকর্মীরা মনে করেন।
সম্প্রতি যশোর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ইমন গেল সপ্তাহে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন শহরের বেজপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির পাশে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিবদমান দুই অংশ। অব্যাহত মিছিল-মিটিং, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলনে ইমন হত্যায় এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দুষছে। উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতির মধ্যে গত ২ নভেম্বর চুড়ামনকাটিতে আক্রান্ত হন যুবলীগ জেলা কমিটির সদস্য মেহেদি হাসান রুনু।
মঈনুদ্দিন মিঠু সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘ইমন হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে আমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছি। সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে আমি ইমন হত্যার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার অনুসারী সন্ত্রাসীদের অভিযুক্ত করেছি। সেই কারণে আমাকে হত্যার জন্য আজ গুলি ছুড়েছে দলের ওই অংশের দুর্বৃত্তরা। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি প্রাণে বেঁচে গেছি। প্রায় পাঁচ বছর আগে টালিখোলা এলাকায় তরিকুল হত্যার পরও আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল দলের একাংশ আশ্রিত সন্ত্রাসীরা। সেবারও আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে গিয়েছিলাম।’
তবে আজকের যারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তাদের কাউকে চিনতে পারেননি মিঠু। তিনি বলেন, ‘সম্ভবত এরা ভাড়াটে খুনি।’
জানতে চাইলে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিতকুমার নাথ বেলা আড়াইটার দিকে সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘‘মঈনুদ্দিন মিঠুকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা শুনেছি। আমি তখনই মিঠুর সঙ্গে কথা বলেছি। সৌভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গেছে। মিঠু বলেছে, ‘দাদা আমি একটু স্বাভাবিক হওয়ার পর কথা বলছি।’’
প্রায় একই এলাকার বাসিন্দা যুবলীগের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েলের কাছে জানতে চাইলে বেলা পৌনে তিনটার দিকে তিনি বলেন, ‘আমি বাসায় রয়েছি। এমন কোনো ঘটনা শুনিনি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
পরে বিকেল পৌনে চারটার দিকে তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে শুনেছি, মঈনুদ্দিন মিঠুকে লক্ষ্য করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা-প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। কিন্তু খুন-খারাবি কাম্য নয়।’
নিউজ ঃ সুবর্ণভূমি

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: