৩ নভেম্বর, ২০১৭

এমপির বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশের অভিযোগ যশোর ছাত্রলীগের একাংশের

যশোর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন ইমন হত্যায় স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে জেলা ছাত্রলীগের একাংশ। সংগঠনটির নেতাদের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের নির্দেশেই এই খুনে জড়িত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ।

বৃহস্পতিবার যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করে জেলা ছাত্রলীগ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহমেদ জিসান। সংগঠনটির সভাপতি রওশন আলী শাহী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

গত সোমবার রাতে শহরের বেজপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মনোয়ার হোসেন ইমন। এ ঘটনার পর যশোর আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই পক্ষ (এক পক্ষের নেতৃত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এবং অপর পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহীন চাকলাদারের অনুসারীরা যশোর জেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

ইমন হত্যার প্রতিবাদ এবং আটকদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে ৪ নভেম্বর জেলা ছাত্রলীগ, ৫ নভেম্বর সব উপজেলা শাখা মানববন্ধন করবে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ ছাড়া ৬ নভেম্বর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পালিত হবে একই কর্মসূচি।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ নেতারা অভিযোগ করেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিতকুমার নাথের মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ইমনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর এ হত্যার পুরো পরিকল্পনা হয় মোহিতনাথের বাসায় বসে। আর সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ হত্যাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে প্রশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যশোর সদর আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কাজী নাবিল আহমেদ নিজ দলের প্রতিপক্ষদের দমনে হত্যা মিশনে নেমে পড়েন। তার নির্দেশেই সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ এসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছেন।

ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, ‘দলের সভানেত্রী যখন আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীরা ঠাঁই না পায়, সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছেন, তখন এমপি নাবিল আহমেদ নিজের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের জন্য দলে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের স্থান করে দিচ্ছেন। সর্বশেষ কাজী নাবিল আহমেদ ও মোহিত নাথের ইন্ধনে ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ইমনকে হত্যা করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুর রশিদ, যশোর পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান, এক নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ঝাউদিয়া আওয়ামী লীগ কর্মী শহিদুল ও এজাজ আহমেদসহ আরো বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী হত্যায়ও এই দুজন ও স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ নেতারা।

ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনটির অভিযোগ, এসব হত্যার সঙ্গে মোহিত নাথের পালিত ‘সন্ত্রাসী’ ম্যানসেল, রাকিব, ডিম রিপন, পেচো, শিশির, শুভ, নয়ন, পিচ্চি ইয়াসিন, মোমিন, রবিউল প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

নিউজ সূত্রঃ 
ঢাকাটাইমস

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: