১৮ নভেম্বর, ২০১৭

নির্মাণের পরই ফাটল যশোরে পুলিশের তিন ভবন হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা

যশোরে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পুলিশের তিনটি ভবন হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দেয়ালে ফাটল ও পলেস্তারা খসে যাওয়া ভবনে দীর্ঘস্থায়ী বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ হবে উল্লেখ করে সদর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে এসপি কার্যালয়। তবে গণপূর্ত বিভাগ বলছে, সামান্য যেসব সমস্যা ছিল তা ঠিকঠাক করে দেয়া হয়েছে। এখন তারা তিনটি ভবনই হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোরের একটি পুলিশ ফাঁড়ি ও দুটি তদন্ত কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ভবনগুলো হলো— চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি এবং বাগআঁচড়া ও বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। আনুমানিক চার বছর আগে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার পদ্মা অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড বাগআঁচড়া ও বাঁকড়া তদন্ত কেন্দ্রের ভবন নির্মাণের কাজ করেছে। এ দুটি ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। চাঁচড়া ফাঁড়ির ভবন নির্মাণ করেছে ঝিনাইদহের মেসার্স লিটন ট্রেডার্স। এতে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
যশোরের পুলিশ বিভাগ বলছে, গণপূর্ত নির্মিত তিনটি ভবনই গ্রহণ করা যাচ্ছে না। নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবগুলো ভবনে বেশকিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে।
চাঁচড়া ফাঁড়ি ভবনের নিচতলার রান্নাঘরের দেয়ালে ফাটল, ডাইনিং রুমের দরজার ওপর ফাটল, নিচতলায় মহিলা হাজতখানার ওপরের ছাদের কাছাকাছি ওয়ালে ফাটল, পুরুষ হাজতখানায় ছাদের নিচের প্লাস্টার খসে পড়েছে, দ্বিতীয় তলায় বড় কক্ষের দরজার ওপর থেকে ছাদ পর্যন্ত ফাটল, টয়লেটের সামনে নিচে ড্যাটোর ওপরের প্লাস্টার খসে পড়ে।
শার্শার বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের নবনির্মিত ভবনে চিহ্নিত ত্রুটির মধ্যে রয়েছে— নিচতলায় সিঁড়ির পশ্চিম পাশের দেয়ালে প্লাস্টার নষ্ট ও রঙ চটে যাওয়া, ডাইনিং রুমের দরজার ওপর ফাটল, নিচতলার মহিলা হাজতখানার সামনে দরজার ওপর দেয়ালে ফাটল, পশ্চিম পাশে ইনচার্জের কক্ষের ওপরের প্লাস্টার নষ্ট ও রঙ উঠে যাওয়া, টয়লেটের সামনে নিচে ড্যাটোর ওপরের প্লাস্টার খসে পড়া ও রঙ উঠে যাওয়া, দোতলার সিঁড়ির পশ্চিম পাশে ওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়া ও রঙ চটে যাওয়া, ডাইনিং রুমের বাইরে প্লাস্টার খসে পড়া এবং পাম্পের পানিতে প্রচুর পরিমাণে বালি ওঠায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়া। ঝিকরগাছার বাঁকড়া তদন্ত কেন্দ্রের নতুন ভবনেও একই সমস্যা ধরা পড়েছে।
নবনির্মিত ভবন তিনটির এসব সমস্যা উল্লেখ করে ৯ নভেম্বর পৃথক তিনটি স্মারকে যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান সদর দপ্তরের ডিআইজিকে (এস্টেট) পত্র দিয়েছেন। ভবন বুঝে নিতে আপত্তি জানিয়ে চিঠি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার।
ভবনের ত্রুটি সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের কর্মকর্তা লিমন হোসেন বলেন, বাগআঁচড়ায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই পুলিশ বিভাগের লোকজন ভবনে উঠে পড়ায় ঠিকমতো পিউরিং (পানি দেয়া) করা যায়নি। এ কারণে ভবনের দু-এক জায়গায় ফাটল দেখা দেয়। ইলেকট্রিক ওয়্যারিংয়ের কনসিল করার সময় অপেক্ষাকৃত কম গভীর হওয়ার কারণে ফাটল দেখা দেয় প্লাস্টারে। পরে এসব ঠিক করে দেয়া হয়েছে। এক বছর বাঁকড়া ও দুই বছর ধরে বাগআঁচড়া তদন্ত কেন্দ্রের নতুন ভবন পুলিশ ব্যবহার করছে বলেও জানান তিনি।
যশোর গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফারুকুজ্জামান বলেন, কিছু সমস্যা ধরা পড়ায় তা ঠিক করে দেয়া হয়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে তিনটি ভবনই হস্তান্তর করা হবে। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্রান্সিস আশীষ ডি-কস্তা দাবি করেন, সমস্যাগুলো মাইনর। এগুলো ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এসব কিছু ঠিক করে দেয়ার পরও পুলিশ কেন গ্রহণ করছে না, তা বুঝতে পারছি না।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: