২ অক্টোবর, ২০১৭

দুর্ভোগের নাম যশোর-চৌগাছা সড়ক

যশোর-চৌগাছা সড়কের চুড়ামনকাটি বাজার থেকে চৌগাছা পর্যন্ত মোট ১৮ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। পুরো রাস্তা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় খানাখন্দকের। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারও যাত্রী। প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। ফলে যশোর-চৌগাছা সড়ক ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।  

ভুক্তভোগীরা বলছেন, সড়কটি এখন মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে। পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। 

সড়ক ও জনপদ যশোরের কর্মকর্তারা জানান, যশোর-চৌগাছা সড়কের ব্যাপারে ডিপিপি (প্রয়োজনীয় তথ্যসহ) আবেদন পাঠানো হয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর থেকে চৌগাছা বাজার হয়ে মহেশপুর, পুড়াপাড়া, ও কোটচাঁদপুর প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ সড়কে সব ধরনের যানবহন চলাচল করে। 

বিশেষ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি এ সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় যানবহনের চাপ অনেক বেশি। এ সড়কে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রায় অর্ধশতাধিক যানবহন চলাচল করছে। এরমধ্যে দ্বিতল বাসও রয়েছে কয়েকটি। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশেষ করে চুড়ামনকাটি বাজার থেকে চৌগাছা পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় খানাখন্দকের। যে কারনে এ সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। 

গত ২৫ সেপ্টেম্বরও অন্য একটি গাড়ির পাশ কাটাতে গিয়ে বাস উল্টে যায় চৌগাছার কয়ারপাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় হাজেরা খাতুন (৬০) নামে এক যাত্রী নিহত হন। আহত হয়েছিলেন ২০ জন। আহতরা অভিযোগ করেছিলেন, বেহাল সড়কের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতল বাস চালক শমসের আলী জানান, সড়কের একাধিক স্থানে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকির মধ্যে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। 

চৌগাছা সড়কের বাস চালক আমিরুল ইসলাম জানান, চৌগাছা থেকে যশোর যাওয়ার যে সময় মালিক সমিতি নির্ধারণ করেছে তার মধ্যে গাড়ি চালাতে তাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। ভাঙ্গা সড়কে দ্রুত গাড়ি চালানোর কারণে প্রায় দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। 

ইজিবাইক চালক সরোয়ার হোসেন জানান, সামান্য বৃষ্টি হলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। ফলে সড়কে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

যশোর-চৌগাছা সড়কের বাস মালিক সমিতির সদস্য দিপু দফাদার অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না করায় এমন বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ওই সড়কে চলাচলকারী একাধিক যাত্রী জানান, যশোর-চৌগাছা সড়কটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবুও মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করছেন। 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল রানা জানান, বেহাল সড়কের কারণে যানবাহনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। যে কোন সময় দুর্ঘটনার শঙ্কায় থাকি।

অটো ভ্যান চালক আবু তালেব জানান, বেহাল অবস্থার কারণে আমরা এ সড়কে ভ্যান চালানো ছেড়ে দিয়েছেন। এখন গ্রামের রাস্তায় অটো ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। এ সড়কে চলাচলকারী সকল যাত্রী রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, যশোর-চৌগাছা সড়কটি সংস্কারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সড়কটির ব্যাপারে ঢাকায় ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফোজল (ডিপিপি) আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই কাজ শুরু করতে পারবো।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: