১ অক্টোবর, ২০১৭

কে হবেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের পরবর্তী এমপি?

যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) নির্বাচনী আসনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। কে পাবেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। বিএনপি-জামায়াত কি জোটবদ্ধ নির্বাচন করছে? করলে তাদের প্রার্থীইবা কে? মনোনয়ন দৌড়ে আছেন দুই দলের ১৫ নেতা।
২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আবু সাঈদ মো. শাহাদৎ হুসাইন। তবে ২০০১ সালে নির্বাচিত হলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি মহাজোটের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এবার বিএনপি ওই আসন জামায়াতকে দিতে চায় না। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলায় দুটি পৌরসভা এবং ২২টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৩০৭ জন।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী পাঁচটি নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিসহ দুটি নির্বাচনে বিএনপির, দুটি নির্বাচনে জামায়াতের ও একটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হন।
২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির। এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন বলে তার অনুসারীদের দাবি। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান তিনি।
সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এ আসন থেকে দুবার এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। ২০১৪ সালে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বর্তমান এমপির কাছে পরাজিত হন। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। তিনি বর্তমানে চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনিও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার শক্ত দাবিদার। চৌগাছা উপজেলায় তার রয়েছে শক্ত অবস্থান। মনোনয়ন পেতে জোর তদবির চালাচ্ছেন তিনি।
মনোনয়ন দৌড়ে এবার নতুন মুখ মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীন। রাজনীতিতে নতুন হলেও দলের কর্মীদের মাঝে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
এ ছাড়া মনোনয়ন দৌড়ের আলোচনায় আছে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ হারুন অর রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হান, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন তরুণ প্রার্থী হিসেবে এলাকায় বেশ গণসংযোগ করছেন। তরুণ নেতা হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবিএম আহসানুল হকও রয়েছেন মনোনয়ন দৌড়ে।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ৫ নেতা। এর মধ্যে রয়েছেন ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির সম্পাদক ও বর্তমানে সভাপতি জহুরুল ইসলাম। ১৯৯১ সাল থেকেই তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়ে আসছেন। এবার তিনি নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে চৌগাছা-ঝিকরগাছায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় দফার উপজেলা নির্বাচনে তিনি ছিলেন দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী। দল তার ত্যাগের মূল্য দেবে বলে তিনি আশাবাদী।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও যশোর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট কাজী মুনিরুল হুদা, বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহাক দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আবু সাঈদ মো. শাহাদৎ হুসাইন এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি মহাজোটের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এবার জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে জামায়াত নেতাদের দাবি। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, এবার আর জামায়াতকে ছাড় দেওয়া হবে না। জামায়াতের যেহেতু দলীয় প্রতীক নেই, সেহেতু ধানের শীষ দিতে হলে বিএনপির প্রার্থীকেই দিতে হবে। তবে জোটবদ্ধ নির্বাচন না হলে আবু সাঈদ স্বতন্ত্র হিসেবে লড়বেন বলে জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।
এ ছাড়া নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা বিএম সেলিম রেজা ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি আসাদুজ্জামান।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: