১৪ অক্টোবর, ২০১৭

যশোরে ব্যবসায়ী সাজিদ হত্যা রহস্য উদঘাটনে দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডি

যশোর শহরের ঘোপের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমান সাজিদ হত্যার মূল খুনিদের সনাক্ত এবং হত্যার কারণ উদঘাটনে মাঠে নেমেছে সিআইডি পুলিশ। তদন্তভার হাতে পেয়েই গত ২১ সেপ্টেম্বর থানা পুলিশের হাতে আটক সাকিবুজ্জামান সাকিবকে একদিনের রিমান্ডে নিয়েছেন সিআইডির পরিদর্শক হারুন অর রশিদ। আটক সাকিব শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের নূরুজ্জামানের ছেলে।
সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, সম্প্রতি সাজিদ হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। এ হত্যাকা-টি ভিন্ন রকম। তাই খুব সতর্কতার সাথে এ তদন্ত কাজ শুরু করেছি। তিনি আরো বলেছেন, ইতিপূর্বে থানা পুলিশের হাতে আটক সাকিবুজ্জামান সাকিবকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের ডিসি বাংলো এলাকায় ঘোপ এলাকার ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমান সাজিদ নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। প্রথমে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের (পরিদর্শক অপারেশন) সামসুদ্দোহা মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্তকালে তিনি বিভিন্ন সময়ে ৬ জনকে আটক করেন। এর মধ্যে সাকিল নামে এক যুবক এ হত্যাকা-ে আদালতে জবানবন্দি দেয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরো কয়েকজনকে আটক করা হয়।
বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ হত্যাকা-টি তিনটি কারণে হতে পারে। যেহেতু সাজিদ একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীক কারণে সংশ্লিষ্ট কেউ পূর্ব বিরোধে এ হত্যাকা- ঘটতে পারে। আবার তার তালাক দেয়া স্ত্রী সাদিয়া সুলতানা শাম্মী তাকে তালাক দেয়ার কারণে উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধে তার স্ত্রী এ হত্যাকা-ের সূচনা করতে পারে। এছাড়া সাজিদের সাবেক স্ত্রী শাম্মীর কথিত প্রেমিক মানিক পথের কাটা সরাতে এ হত্যাকা- ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে থানা পুলিশের হাতে আটক মানিকের ভাই সাকিল আদালতে যে জবানবন্দি দিয়েছে তাতে শাম্মী এবং মানিক দু’জনের পরিকল্পনায় এ হত্যাকা- হতে পারে। পাশাপাশি সাজিদের সাথে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের কললিস্টের সূত্র ধরেও কয়েকজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে সাকিবুজ্জামান সাকিবও একজন। তাই তাকে আদালতের আদেশে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এছাড়া বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন এবং খুনিদের আটকের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন, থানা পুলিশ এ মামলা তদন্তকালে যাদের আটক করেছেন তাদের মধ্যে একজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। বাকিরা রিমান্ডে এলেও তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি। এখন আবার নুতন করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদসহ এ ঘটনা সংক্রান্তে কাউকে সন্দেহ বা জড়িত থাকার মত কোন তথ্য পাওয়ার ব্যাপারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: