২২ অক্টোবর, ২০১৭

যশোরে নোভা মেডিকেল সেন্টারে অসুস্থ রোগীকে ধর্ষণের চেষ্টা

যশোর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ মাহমুদুল হাসান পান্নু নামে এক স্টাফকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছ্‌ে ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল দুপুরে। এ ঘটনায় আক্রান্ত স্কুল শিক্ষিকা বাদী হয়ে যশোর কোতয়ালি থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। 
আটক মাহমুদুল হাসান পান্নু (২৭) শহরতলীর শেখহাটি বাবলাতলা এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে। বর্তমানে পূর্ববারান্দীপাড়া সরদারপাড়ায় ব্যাংকার শুকুর আলীর ভাড়াটিয়া। অভিযোগে বলা হয়েছে, মণিরামপুরের এক অসুস্থ স্কুলশিক্ষিকা (৪৫) তার স্বামীকে নিয়ে শনিবার সকালে ডাক্তার দেখানোর জন্য যশোর শহরের কিংস হসপিটালে আসেন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি আল্ট্রাসনো করার জন্য দুপুরের দিকে শহরের মাইকপট্টি এলাকার নোভা মেডিকেল সেন্টারে যান।
দুপুর পৌনে ২টার দিকে তিনি পরীক্ষা শেষে ওই সেন্টারের নিচতলায় ওয়াশরুমে যান প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে। 
ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার সময় দরজার কাছে এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ওই ব্যক্তি চাকুর মুখে জোর করে ফের ওয়াশরুমের মধ্যে ঢোকান ওই রোগিণীকে। এরপর তার শরীরের স্পর্শকাতর অংশে হাত দেন এবং জোর করে কাপড় খুলে শুইয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। সে সময় উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আক্রান্ত রোগিণীর চিৎকারে স্বামী ছুটে এসে ওয়াশরুমের দরজা ভেঙে তাকে মুক্ত করেন। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে মেডিকেল সেন্টারের ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজার এগিয়ে এসে হাসপাতালের স্টাফ পান্নুকে তৃতীয়তলার একটি রুমে নিয়ে যান। 
এরপর তারা পান্নুর কাছে ঘটনা জানতে চান। কিন্তু পান্নু অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। নোভা মেডিকেল সেন্টার কর্তৃপক্ষ এ সময় ঘটনা মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আক্রান্ত নারী ও তার স্বামী মীমাংসায় রাজি হননি। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে কোতয়ালি থানার এসআই সাহাবুল আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পান্নুকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
এসআই সাহাবুল আলম জানান, আটক পান্নু নোভা মেডিকেল সেন্টারের মালিক ফারুক হোসেনের গাড়িচালক। তার বিরুদ্ধে আক্রান্ত নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন। শনিবার বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 
নোভা মেডিকেলের একটি সূত্র জানিয়েছে, মাহমুদুর রহমান পান্নু এর আগেও হাসপাতালে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু আক্রান্তরা সম্মানের ভয়ে অভিযোগ করেননি। ফলে পার পেয়ে গেছেন পান্নু। 
কিন্তু গতকালের আক্রান্ত নারী শিক্ষিত সচেতন হওয়ায় তিনি পুলিশে অভিযোগ করে প্রতিকার দাবি করায় ফেঁসে গেছে পান্নু। 

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: