২১ অক্টোবর, ২০১৭

যশোরে উদ্ধার হওয়া গলাকাটা তরুনীটি পরিচয় মিলেছে, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

গতকাল শুক্রবার সকালে যশোরে পাওয়া লাশটি পার্বতী ওরফে নুসরাত জাহানের (২৪)। হিন্দু পরিবারে জন্ম নেয়া পার্বতী সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। একটি সন্তান আছে তার। স্বামী ভারতে গেছেন। পরে তিনি এক মুসলিম তরুণকে বিয়ে করেন।
পার্বতীকে ফোনে ডেকে নিয়ে গলা কেটে খুন করা হয়েছে বলে তার মায়ের দাবি। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছেন পার্বতী ওরফে নুসরাতের মা যমুনা।
নিহত পার্বতী ওরফে নুসরাত জাহান মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের অধীর দাসের মেয়ে। তার সঙ্গে মাগুরার শালিখা উপজেলার বুইখালি গ্রামের মহিতোষ রায়ের (বর্তমানে ভারতে বসবাসকারী) বিয়ে হয়েছিল। নিহতের মা যমুনা দাস যশোর শহরের কুইন্স হসপিটালের কর্মচারী। তিনি বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে যমুনা তার মেয়ে হত্যায় সদর উপজেলার মাহিদিয়া প্রাইমারি স্কুলের পাশের সিরাজুল ইসলামের ছেলে নীরব ওরফে রাব্বি (২৬), মাহিদিয়া পশ্চিমপাড়ার লিয়াকত হোসেনের ছেলে বিপুল হোসেন (২৫) এবং শংকরপুর হিজড়াপাড়ার মিলন হিজড়াকে (২৭) অভিযুক্ত করেছেন।
জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে অজ্ঞাত ২-৩ জন পার্বতী খুনে জড়িত।
যমুনার অভিযোগ, সাত বছর আগে মাগুরার শালিখা উপজেলার বৈখালী গ্রামের দ্বীন রায়ের ছেলে মহিতোষ রায়ের সঙ্গে পার্বতী রায়ের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে অভি (৬) নামে একটি সন্তান আছে।  অভি তার ঠাকুরমার কাছে থাকে। পার্বতীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বনিবনা না হওয়ায় তিনি মায়ের কাছে থাকতেন।
যমুনা আরও জানিয়েছেন অভির জন্মের ১৬ মাস পর পার্বতীর স্বামী মহিতোষ ভারতে চলে যান। তিনি এখনো ভারতেই বসবাস করেন। স্ত্রীর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই।
‘স্বামী ভারতে যাওয়ার পর পার্বতী একটি গার্মেন্টে কাজ নেয়। সেখানে শিমুল নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শিমুলের মাধ্যমে নীরব ওরফে রাব্বির সঙ্গে পরিচয় হয় বছর দুয়েক আগে। তারা মোবাইল ফোনে কথাবার্তা বলতো। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাস তিনেক আগে পার্বতী হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। নুসরাত জাহান নাম ধারণ করে সে রাব্বিকে বিয়ে করে। বিয়ের পর তারা ঝুমঝুমপুর এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতো। রাব্বি খুব নির্যাতন করতো নুসরাত জাহানকে (পার্বতী),’ বলেন যমুনা।
থানায় দেয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পার্বতী ও তার মা যমুনা সুধীর বাবুর কাঠগোলার কাছের পূজামণ্ডপে যান কালীপূজা দেখতে। সেখানে রাব্বিও যান। এর কিছুক্ষণ পর একটি কালো রঙের মোটরসাইকেলে করে ওই মণ্ডপে আসেন বিপুল ও মিলন হিজড়া। তারা সেখানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন। এরপর মোটরসাইকেলে করে পার্বতীকে নিয়ে যান তারা। রাতে তিনি পার্বতীর মোবাইল ফোনে কল করে বন্ধ পান। মেয়ে ফিরছেন না দেখে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার ঝুমঝুমপুরের ভাড়াবাসায় যান যমুনা। কিন্তু ঘর বন্ধ পান। আশেপাশের লোকজনও কিছু বলতে পারেননি।
যমুনা লিখিত অভিযোগে বলেছেন, ‘‘শুক্রবার সকালে পার্বতীর বাবা রাব্বির বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে তাদের দেখা পাননি। রাব্বির চাচা বলেন, ‘দুই-তিনদিন পর তাদের ভালোমন্দ সব জানতে পারবেন। থানা পুলিশ অভিহিত কারার দরকার নেই।’ ওই কথা শুনে পার্বতীর বাবা সেখান থেকে পুলেরহাট বাজারে আসেন। ওই বাজারের কাছের একটি চায়ের দোকানে দাঁড়ান। সেখানে লোকমুখে জানতে পারেন মালঞ্চির মুছার বান্দাল এলাকায় এক তরুণীর লাশ পাওয়া গেছে। তিনি বিষয়টি মোবাইল ফোনে আমাকে জানালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের লাশ দেখতে পাই। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারলো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন এবং গলা কাটা ছিল।”
যমুনার ধারণা, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে মালঞ্চি এলাকায় নিয়ে গিয়ে তার মেয়েকে হত্যা করেছে।
কোতয়ালী থানার এসআই মোখলেছুজ্জামান জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত করার মিনিট দশেক আগে যমুনা রায় হাসপাতালে যান এবং তার মেয়েকে শনাক্ত করেন। পরে ঘটনা অনুসন্ধান করে খুনের ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তা জানানো সম্ভব না।
নিহতের মা শুক্রবার রাতে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

যশোরে অজ্ঞাত তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার
যশোরের পতেঙ্গালী এলাকা থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে পতেঙ্গালী এলাকায় সড়কের ওপর থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কেএম আজমল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পতেঙ্গালী ও মালঞ্চির মাঝামাঝি এলাকায় রাস্তার ওপর থেকে ওই নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে। তবে তার নাম-পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিচয় শনাক্ত করার পর হত্যার মোটিভ উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে জানান ওসি।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: