১৯ অক্টোবর, ২০১৭

শীতের আগমনী বার্তাঃ যশোর অঞ্চলের সবজি ঢাকার বাজারে

শীত আসার আগেই বাজারে আসতে শুরু করেছে মৌসুমী সবজি। শীত না পড়লেও বাজারে এসে গেছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, গাজর,  টমেটো, শিম, মূলা, পালংশাক।

এতো সবজির সমারোহ দেখে চোখ জুড়ালে কি হবে, ঝলক দিয়ে ওঠা এই দৃষ্টি মুহূর্তেই নিভে যায় দাম শুনে। বাজারভেদে দামেরও হেরফের রয়েছে। তাই ক্রেতাদেরও অভিযোগের কমতি নেই। যদিও বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা।

বিক্রেতারা বলছেন, শীতকালীন সরবরাহ এখনো বাজারে আসেনি। শীতের বেশ কিছু সবজি এখন অন্য সময়েও পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, কৃষির উন্নতির কারণে সারা বছরই সব সবজি মিলছে। এখনকার বেশির ভাগ সবজির আবাদ আগে হয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই অপরিপুষ্ট।

সরেজমিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান, ফার্মগেট ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের শীতের সবজি নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। এসব সবজির মধ্যে শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ২০০ টাকায়, ফুলকপি প্রতিটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ থেকে ৩০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মূলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি আঁটি পালংশাক ২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া ধনে পাতা আজ কেজি প্রতি রাখা হচ্ছে ১৫০ টাকা। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে ৭০ টাকা।

বাজারে শীতের সবজির সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে জলপাইও। অনেকে ডাল বা টকের তরকারি হিসেবে এটি ব্যবহার করেন। জলপাই বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে। তবে শীতের নতুন আলু বাজারে আসেনি এখনো। বিক্রেতারা জানালেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই নতুন আলুও বাজারে পাওয়া যাবে।

এদিকে পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারে দামের বেশ ভিন্নতা পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, খুচরা বাজারের মধ্যেও পাশাপাশি দোকানের সবজির দামে হেরফের দেখা গেছে।

কাঁঠাল বাগান বাজারে এক দোকানে শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে। আবার পাশের দোকানেই বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। বেশি দামে বিক্রি করা বিক্রেতা কামরান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ওর চেয়ে আমার শিমের মান ভালো, এটা খেতেও একটু সুস্বাদু হবে। আর আমি বেশি দামেই কিনেছি, তাই একটু বেশি নিচ্ছি।’

অনেক বিক্রেতারই দাবি, তাদের বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। এ কারণে তাঁরা ক্রেতাদের কাছে দাম বেশি রাখছেন। কয়েকজন সবজি বিক্রেতা জানালেন, কিছু দিনের মধ্যেই সরবরাহ বাড়বে। তখন দাম অনেক কমে আসবে।

বর্তমানে বাজারে যেসব শীতের সবজি রয়েছে এসব বেশি আসছে যশোর, খুলনা ও কুষ্টিয়া এলাকা থেকে। সেসব এলাকায় তুলনামূলক উঁচু জায়গায় এসব সবজির চাষ হয়। এ ছাড়া যেসব এলাকায় বন্যার পানি সরে যেতে শুরু করেছে, সেখানেও সবজির চাষ শুরু হয়েছে।

কারওরান বাজারে বাঁধাকপি কিনছিলেন পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দা কমল। তিনি  বলেন, ‘ফার্মগেট বাজারেও বাঁধাকপি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি রাখে, তাই বাসার জন্য একসাথে কয়েকটা কিনে নিলাম। তবে এখনও যেহেতু শীত আসেনি মনে হয় না তেমন মজা হবে। কিন্তু বাসার সবাই খেতে চেয়েছে তাই কিনে নিলাম।’

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: