৮ অক্টোবর, ২০১৭

প্রতারণার অভিযোগে যশোরে ভুয়া সাংবাদিক আটক

বিপ্লব কুমার শীল ওরফে ন্যাংড়া বিপ্লব ওরফে কিংকং (২৫) নামে এক ভুয়া সাংবাদিককে আটক করেছে যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে শহরের বারান্দীপাড়া ফুলতলার মোড় নাথপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় বিপ্লবের পিতা রনজিৎ কুমার শীলকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
একই এলাকার হামিদ মুকুল নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং দুইটি অখ্যাত পত্রিকার পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ওই অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং পত্রিকার পরিচয়পত্র চড়া দামে বিক্রি করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয় তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানাগেছে, বারান্দী ফুলতলার মোড়ে আসামির ‘মা’ স্টোর নামে একটি মুদি দোকান আছে। সেখানেই উঠাবসা করে বিপ্লব। হামিদ মুকুল সেখানে গেলে তাকে সাংবাদিক বানানোর প্রস্তাব দেয় বিপ্লব এবং তাকে পত্রিকার পরিচয়পত্র দিয়ে নির্দ্দিষ্ট বিটও বন্টন করে দেবেন। এই কারণে তাকে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। তিনি সরল বিশ্বাসে রাজি হন। এবং চলতি বছরের ২৫ জুন ‘জরুরী সংবাদ’ নামে একটি পত্রিকার কার্ড দেয়া হয়। ৫ হাজার টাকা দিয়ে তিনি ওই কার্ড নেন। তাকে নিয়োগ দেয়া হয় যশোর এয়ার পোর্ট এলাকায়। তিনি ওই এলাকায় গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সরকারি বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের রোষানলে পড়েন। হামিদ মুকুল অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক। তার অবসরভাতাও বাতিলের হুমকি আসে। কোনরকম তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বিপ্লবের কাছে যান এবং ঘটনাটি বলেন। সুচতুর বিপ্লব ফের তাকে ওই স্থান থেকে প্রত্যাহার করে নুতন স্থানে নিয়োগ দেবেন বলে আরো ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু তিনি পরে জানতে পারেন বরাবরই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তার কোন সংবাদ ছাপা হয় না।
হামিদ মুকুল আরো জানিয়েছেন, বিপ্লব সংবাদপত্রের পরিচয়পত্র নিজে তৈরি করে তা অনেকের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করেছে। তিনি পরিচয়পত্র ফিরিয়ে দিয়ে টাকা ফেরৎ চান। কিন্তু টাউট বিপ্লব টাকা ফেরৎ তো দেয়নি উল্টো তাকে নানা ভাবে হুমকি দিয়েছে। বিপ্লবের প্রতারণার শিকার হয়েছে তার মতো অনেকে। বিভিন্ন অনলাইন এবং পত্রিকার কার্ড বিক্রি করে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই কারণে তাকে আটক করা হয়।
কোতয়ালি থানার এসআই হাসানুর রহমান জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে বিপ্লবকে আটক করা হয়েছে। তার পিতাকেও একই অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সরকারি চাকুরিজীবী বিধায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: