২১ অক্টোবর, ২০১৭

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে যশোর শহরের একাংশ

দুইদিনের ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে যশোর শহর ও শহরতলীর নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পারিবার।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত যশোরে ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তাদের পূর্বাভাস মতে আজ দুপুরের পর বৃষ্টি কিছুটা কমতে পারে।
নিম্নচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার মতো বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে বর্ষণ। এরপর শনিবার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। যশোরস্থ মতিউর বিমানঘাঁটির আবহাওয়া উইংয়ের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যস্ত যশোরে ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার রেকর্ড হয়েছে ১৬২ মিলিমিটার। আর শনিবার সকাল পর্যন্ত আরো ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।
শহরের শংকরপুর, ভোলা ট্যাংক রোড, রেল রোড, টিবি ক্লিনিক এলাকা, ষষ্ঠিতলাপাড়া, খড়কী, সিটি কলেজপাড়া, পূর্ববারান্দী মাঠপাড়া, লিচুতলা, বেজপাড়া আনসার ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার ঘরের মেঝেতে দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত পানি উঠেছে। রাস্তার ওপরে পানি উঠে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
শংকরপুর ইসহাক সড়ক এলাকার ইলিয়াস হোসেন জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকার প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এবার বর্ষার আগে ড্রেনেজের কিছু কাজ হলেও তার ফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
একই এলাকার আব্দুল আজিজ ও আনছার আলী জানান, গত দু’দিনের বৃষ্টিতে ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। এতে শিশুসন্তানদের নিয়ে বেশ বিপাকে আছেন তিনি। ঠিকমতো রান্না-বান্না হচ্ছে না। প্রাকৃতিক কাজও সারতে পারছেন না।
জুলফিকার আলী নামে এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এমন যে, যশোর শহরের অর্ধেক এলাকার পানি শঙ্করপুর হয়ে বিলহরিণায় নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু বিলে পানি যাওয়ার আগে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় এ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
তার মতে, মাত্র ছোট দুটি কালভার্ট দিয়ে চুইয়ে পানি যাওয়ায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে।
মোল্লাপাড়া আমতলা এলাকার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমার ঘরের ভেতর পানি উঠে গেছে। ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে যায়। যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।’
টিবি ক্লিনিক এলাকার সরোয়ার হোসেন জানান, শহরের কোথাও পানি না জমলেও তাদের এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে যায়। এলাকাটা নিচু হওয়ায় এ অবস্থা। তবে শংকরপুর থেকে পানি বের করার সুব্যবস্থা করতে পারলে তাদের এলাকায় আর জলাবদ্ধতা দেখা দিতো না। এজন্য তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: