৬ অক্টোবর, ২০১৭

যশোরে নরমাল ডেলিভারির পরিবর্তে বাড়ছে সিজার

যশোর জেলায় স্বাভাবিক ডেলিভারির চেয়ে চিকিৎসকগণ সিজার করার দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছেন। ফলে সরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও কিনিকে বেশি সিজার হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসকগণ কাড়ি-কাড়ি টাকা কামাচ্ছেন। অন্যদিকে সিজার হওয়া মায়েরা দীর্ঘ মেয়াদী অসুস্থতায় ভুগছেন। সমাজে অসুস্থ মাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের গত জুন মাসের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি কিনিক ও এনজিও পরিচালিত চিকিৎসা কেন্দ্রে সর্বমোট ১ হাজার ৭শ ১৫ জন মা সন্তাস প্রসব করেছেন। এর ভেতর স্বাভাবিকভাবে (নরমাল) ডেলিভারি হয়েছে ৫শ ৩০ জনের এবং সিজারের মাধ্যমেনন্তান প্রসব হয় ১ হাজার ১শ ৮৫ জন মায়ের। স্বাভাবিক ডেলিভারির দ্বিগুণ সংখ্যক মাকে সিজারিয়ার্স ডেলিভারি করিয়েছেন গাইনী চিকিৎসকগণ। তাও বেসরকারি কিনিক, হাসপাতাল ও এনজিও পরিচালিত চিকিৎসা কেন্দ্র। সরকারি হাসপাতালের তুলনায় তিনগুণ বেশি সিজার হয়েছে কিনিকে। সেখানে সন্তান সম্ভবা মা ভর্তি হলেই স্বাভাবিক ডেলিভারি করার সুযোগ দেন না চিকিৎসকগণ। ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার আশায় স্বাভাবিকভাবে ডেলিভারি না করিয়ে গণহারে সিজারের পথ বেছে নেয়া হয়। এতে বেসরকারি কিনিক ও হাসপাতালের মালিকপক্ষের চেয়ে চুক্তিভিত্তিক সিজার করে বেশি লাভবান হন চিকিৎসকরাই গত জুন মাসের ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী যশোর জেলায় একমাত্র মডেল হাসপাতাল চৌগাছা ্উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেসরকারি হাসপাতাল ও কিনিকের চেয়ে বেশি ডেলিভারি হয়েছে। আর বাকী সব সরকারি হাসপাতালে বেসরকারি কিনিক/হাসপাতালের চেয়ে কম ডেলিভারি হয়েছে। চৌগাছা সরকারি হাসপাতালে এক মাসে ২শ ১৭ জনের ডেলিভারি হয়েছে। এর ভেতর স্বাভাবিক ডেলিভারির সংখ্যা ১শ ৫২জন। সিজারের সংখ্যা মাত্র ৬২ জন। পক্ষান্তরে এ উপজেলায় বেসরকারি কিনিক/হাসপাতাল গুলোতে ৫৯জন মাকে সিজার করা হয়েছে। নর্মাল বা স্বাভাবিক ডেলিভারি নেই এসব বেসরকারি কিনিক ও হাসপাতালে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মত গাইনি চিকিৎসা ক্ষেত্রে তার সাফল্য ধরে রাখতে পরিনি। একাধিক গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এ হাসপাতালে ২শ ৪৯ জনের ডেলিভারি হয়েছে। এর ভেতর ১শ ১৩ জনের স্বাভাবিক ডেলিভারি ও ১শ ৩৫ জনের সিজার করা হয়েছে। শিশু ও মাতৃ মঙ্গল কেন্দ্রে ১৯ জনের ডেলিভারি হয়। ১২ জনের স্বাভাবিক ডেলিভারি ও ৭ জনকে সিজার করা হয়। সরকারি হাসপাতাল থেকে অতিরিক্ত ৩শ ৯৯ জনের সিজার হয়েছে সদর উপজেলা কমিউনিটি কিনিক, বেসরকারি কিনিক, হাসপাতাল ও এনজিও ও পরিচালিত হাসপাতালে সেখানে ৫শ ৭২ জনের ডেলিভারি হয়েছে। এর ভেতর সিজার হয়েছে ৪শ ৬৯ জনের। স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়েছে ১শ ১ জনের। এনজিও পরিচালিত হাসপাতালে ৯০ জনের ডেলিভারি হয়েছে। তাদের ৭২ জনের সিজার ও ১৮জনের স্বাভাবিক ডেলিভারি করা হয়েছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি প্রসূতি সেবার (ইওসি) চিত্র অত্যান্ত হতাশাব্যঞ্জক। সরকারি বেতন-ভাতাসহ সার্বিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করেও চিকিৎসকগণ সরকারি হাসপাতাল রেখে বেসরকারি কিনিক ও হাসপাতালে ডেলিভারি করাচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ জনের ডেলিভারি হয়েছে। এর ভেতর স্বাভাবিক ডেলিভারির সংখ্যা ১৫ জন, সিজার ১৫ জন। এ উপজেলার বেসরকারি কিনিক ও হাসপাতালে ডেলিভারি হয়েছে ১শ ৪১ জন মায়ের। স্বাভাবিক ডেলিভারি ১৪জন এবং সিজার হয়েছে ১শ ২৭ জন। সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি পর্যায়ে স্বাভাবিক ডেলিভারি সংখ্যা ১জন কম হলেও সিজারের সংখ্যা ১শ ১২ জন বেশি। অনুরূপভাবে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেলিভারি হয়েছে ১৪৭ জনের। সক্ষাভাবিক ডেলিভারি ১৩জন এবং সিজার হয়েছে ১ জনের। সরকারি হাসপাতালের চেয়ে এ উপজেলার বেসরকারি কিনিক/হাসপাতালে ৫৪ জন ডেলিভারি হয়েছে। বেসরকারি কিনিক/হাসপাতালে ৩জন স্বাভাবিক ডেলিভারিও ৫১ জনকে সিজার করা হয়। সরকারি হাসপাতাল হতে ৫০ জন বেশি সিজার হয়েছে বাঘারপাড়ায়। ঝকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৩জনকে ডেলিভারি করা হয়েছে যার ভেতর ১৩ জনকে স্বাভাবিক এবং ২০ জনকে সিজার করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের চেয়ে ৮ জন বেশি সিজার ডেলিভারি বেসরকারি কিনিক/হাসপাতালে। মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেলিভারি হয়েছে ২৩ জনের যার ভেতর স্বাভাবিক ৯জন এবং সিজার হয়েছে ১৪ জনের। বেসরকারি কিনিক/ হাসপাতালে ১৭ জনের ভেতর স্বাভাবিক ডেলিভারি মাত্র ১জন যেখানে সিজার হয়েছে ১৬ জনের। সরকারি হাসপাতালের চেয়ে ২জনের বেশি সিজার ও স্বাভাবিক ডেলিভারি কম হয়েছে বেসরকারি পর্যায়ে। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইওসি সেবা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। এখানকার সরকারি হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসকগণ হাসপাতালে নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত জুনে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়নি। মাত্র ৩জন মাকে সিজার করা হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি কিনিক/হাসপাতালে স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়েছে ১০ জনের। সিজার হয়েছে ৩৭ জনের। সরকারি হাসপাতালে যেখানে প্রসূতি মা ডেলিভারি হয়েছে ৩জন সেখানে বেসরকারি পর্যায়ে ডেলিভারি হয়েছে ৪৭ জন। সরকারি হাসপাতালের চেয়ে ৪৩ জন বেশি সিজার করেছে কেশবপুরের বেসরকারি কিনিক/হাসপাতালে। একই অবস্থা শার্শা উপজেলাতেও। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২জন স্বাভাবিক ও ২জনের সিজার ডেলিভারি হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি কিনিক/ হাসপাতালে ১৯জন স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়েছে। সিজার হয়েছে ৬০ জনের। শার্শায় বেসরকারি কিনিক/হাসপাতালে ৭৯ জন মা ডেলিভারি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের চেয়ে ৭৫ জন বেশি ডেলিভারি হয়েছে বেসরকারিভাবে। এই পরিসংখ্যানে চিকিৎসকদের হাসপাতালের সরকারি অফিস সময় পার হওয়ার পর বেসরকারি কিনিক/হাসপাতালে তাদের সিজার করার অনুমতি থাকার কারণে এ বাণিজ্যের গতি বেড়ে গেছে। যা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। স্বাভাবিক ডেলিভারি বাদ রেখে অতিমাত্রায় সিজার, সরকারি হাসপাতালে ডেলিভারির সংখ্যা কম ও বেসরকারি কিনিক/হাসপাতালে ডেলিভারির সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ খুজতে গিয়ে উঠে এসেছে চিকিৎসকদের বাণিজ্যিক মনোভাবের বিষয়টি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরাই বেসরকারি হাসপাতালের কিনিক/হাসপাতাল পরিচালনা করেন। এ সকল প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ কিনিক/হাসপাতাল ভাড়া প্যাথলজি পরীক্ষা নিরীক্ষা খরচ বাবদ টাকা পান। আর ডেলিভারি বা চিকিৎসার সব টাকা নিয়ে যান চিকিৎসকগণ। পরের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে ডেলিভারি রোগীর কাছ থেকে তারা মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। এতে কিনিক মালিকের চেয়ে চিকিৎসকগণ লাভবান হন। চিকিৎসকরা সরকারি বেতন-ভাতাসহ নানান সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন। তাই চাকরি বাঁচাতে সরকারি হাসপাতালে দায়সারা চিকিৎসাসেবা দিতেই হয়। সরকারকে চিকিৎসার অগ্রগতি দেখানোর জন্য নূন্যতম সংখ্যক ডেলিভারি করেন। অবশ্য চিকিৎসকদের মতে বেশিরভাগ মায়েরাই সেভ ডেলিভারি পছন্দ করেন। সেজন্য কেবিন প্রয়োজন। সরকারি হাসপাতালে কেবিনের সংখ্যা খুবই কম। চাহিদা মাফিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক কেবিন না থাকায় প্রসুতি মায়েরা বেসরকারি কিনিক/হাসপাতালে চলে যান। এসব অজুহাত দেখিয়ে চিকিৎসকগণ নানা কৌশলে অধিকাংশ মাকে বেসকারি কিনিক/হাসপাতালে ডেলিভারি করে থাকেন। স্বাভাবিক ডেলিভারি করতে রোগীর প্রসব বেদনা ওঠা পর্যন্ত চিকিৎসকদের অপেক্ষা করতে হয়। প্রয়োজন হয় বেশি সময়েরঅ আবার স্বাভাবিক ডেলিভারি করলে এতে টাকার পরিমানও কমে যাই। পক্ষান্তরে সিজার করলে কম সময়ে ডেলিভারি হয়। বেশি টাকাও পাওয়া যায় মূলত এ কারণে হরহামেশাই তারা বেশি রোগীকে সিজার করেন। তারা রোগীর আগে পরে কী অবস্থা হবে তা না ভেবেই সিজার করে থাকেন। সিজার করার পর মাদের নানা জটিলতা দেখা দেয়। মাথা ঘোরা, মেরুদন্ডে ব্যথাসহ শরীরে নানা রকম দীর্ঘ মেয়াদী রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মাদের বারবার গাইনি চিকিৎসকদের কাছে যেতে হয়। এতে আর যাই হোক বাড়তি আয় হয় চিকিৎসকদের। দু’বার সিজার হওয়া একজন মা আজমিরা খাতুন জানিয়েছেন, সিজার করার পর কোন মা স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরতে পারে না। সিজার স্থলে সেলাইয়ের মুখে ঘন ঘন ব্যথা হয়। স্পাইনাল ইনজেকশন দেয়ায় মাথা ঘোরে এবং মেরুদন্ডে মাঝে মাঝে ব্যথা করে। সিজারের মাধ্যমে একটা হতে দু’টা সন্তান নেয়ার পর ওই মা ৭০ ভাগ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। শুধু আজমিরা খাতুন নন, সমাজে যে সমাজের যে সকল মহিলা সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য সিজার করেন তাদের প্রায় সকলেই এ সমস্যার শিকার হন। অত্যধিক সিজার সমাজে মাদের অসুস্থ করে তুলছে। এ পরিস্থিতিতে সিজারে বিকল্প পদ্ধতি সরকারকে ভাবা উচিত বলে অভিমত করেন। এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচায্যের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, জেলার সর্বত্রই স্বাভাবিক ডেলিভারির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। মাতৃ মৃত্যু যেন না হয় সে জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ মাকে সিজার করা যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, সরকারি হাসপাতালেও অনেক সমস্যা আছে। ডাক্তার থাকলেও এনেসথেসিয়া ডাক্তার নেই। এ অবস্থার মধ্যে তিনি যশোরের সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পাওয়ার পর সব উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ডেলিভারি বা জরুরি প্রসূতি সেবা শুরু করেছেন। অনেক সমস্যা আছে এর মধ্যে ও কাজ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ কাজ আরো এগিয়ে যাবেন বলে মন্ব্য করেন সিভিল সার্জন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা স্বাভাবিক ডেলিভারি করতে চিকিৎসকদের উৎসাহি করছি। তাছাড়া যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল হচ্ছে জেলার কেন্দ্রীয় হাসপাতাল। অতি ঝুঁকিপূর্ন রোগীগুলো রেফার্ড করে এ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বিধায় সিজারের সংখ্যা বেড়ে যায়। তারপরও এ হাসপাতালে স্বাভাবিক ডেলিভারির সংখ্যা কম নয়। এ হাসপাতালের চিকিৎসকগণ স্বাভাবিক ডেলিভারি করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন তত্ত্বাবধায়ক। হাসপাতালের গাইনি কনসালটেন্ট ডা. রিনা ঘোষ বলেন, এখনকার মায়েরা সাধারণত প্রসব বেদনা সহ্য করতে চান না। হাসপাতালে আসলেই দ্রুত সিজার করার জন্য ব্যাস্ত হয়ে পড়েন যে কারণে চাপে পড়ে সিজার করতে হয় অনেককে। তবে স্বাভাবিক ডেলিভারির জন্য তারা জনসচেতনতা সৃষ্টি করেন। এছাড়া সিজার করলে মাকে সোজা হয়ে কাজ করতে হয়। এ নিয়ম না মেনে বাকা (কুজো)হয়ে কাজ করায় মাদের পরবর্তীতে সমস্যা দেখা দেয় বলে জানান ডা. রিনা ঘোষ। আবাসিক সার্জন ডা. নিলুমার ইয়াসমিন বলেন, সিজারের পাশাপাশি নর্মাল (স্বাভাবিক) ডেলিভারি হাসপাতালে হচ্ছে। এছাড়া এতে আমাদের কোন স্বার্থ নেই। তারপরও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এদিকে চৌগাছা হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা. সেলিনা পারভীন বলেন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাতে জেলার সব হাসপাতালে চেয়ে আমরা এগিয়ে আছি জরুরি প্রসূতি সেবায়। এ জন্য তারা হাসপাতাল মডেল হিসেবে পুরস্কৃত হচ্ছে। তবে এ মুহুর্তে গাইনি কনসালটেন্ট তার হাসপাতালে নেই বলে জানান তিনি। ঝিকরগাছা হাসপাতালের টিএইচএ ডা.শরিফুল ইসলাম বলেন, তার হাসপাতালে বর্তমানে ডেলিভারি হচ্ছে। ভাল গাইনি কনসালটেন্ট ও এনেসথোসিয়া আছে। তাই তারা পুরোদমে ডেলিভারি কাজ করছেন। কেশবপুর হাসপাতালের ইউএইচএফপিও ডা. আবু শাহিন ও মনিরামপুর হাসপাতালের ইউএইচএফপিও ডা. আব্দুল গফ্ফার জানিয়েছেন এ দুটি হাসপাতালের একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোক দিয়ে এনেসথিসিয়া দেয়া হয়। মনিরামপুরে একজন কনসালটেন্ট আছেন। তিনি সপ্তাহে ৩দিন হাসপাতালে সিজার করেন। বাকি সময় না। বেশি চাপ দিলে তিনি এ হাসপাতাল থেকে বদলি হয়ে যেতে পারেন। কেশবপুর হাসপাতালে একজন গাইনি মেডিকেল অফিসার ডেলিভারির কাজ করেন। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তার হাসপাতাল গাইনি কনসালটেন্ট ডা. নার্গিস আক্তার সপ্তাহে ৩দিন রোগীর ডেলিভারি করেন। বাকি ৩দিন হাসপাতালে আসেন না। বিশেষ কারণে তিনি যশোরে অবস্থান করেন। বেশি কড়াকড়ি করলে বদলি হয়ে যাবেন এ ভয়ে তাকে চাপ দেন না। বাকি ৩ দিন নিজেরা ডেলিভারি করার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাইরের চিকিৎসকগণ এ সুযোগে কিনিক/হাসপাতালে এসে ডেলিভারি করেন বলে বেসকারি ডেলিভারির সংখ্যা বেড়ে যায় বলে জানান ডা. মঞ্জুরুল ইসলাম। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. অশোক কুমার সাহা বলেন, তার হাসপাতালে গাইনি কনসালটেন্ট নেই। একজন ছিলেন তিনি বদলি হয়ে গেছেন। একজন মেডিকেল অফিসার ও এনেসথোসিয়া নিয়ে তিনি জরুরি প্রসূতি সেবা দিচ্ছেন। ডেলিভারির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হলে একজন গাইনি কনসালটেন্ট দ্রুত দরকার বলে জানান অশোক কুমার সাহা। বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আক্তারুজ্জামান বলেন, গাইনি চিকিৎসক সঞ্চিতা আধিকারির সঙ্গে এনেসথেশিয়া ট্রেনিকপ্রাপ্ত একজনকে দিয়ে ডেলিভারি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। জরুরি মা ও প্রসুতি সেবা তিনি দ্রুত এগিয়ে নিতে পারবেন বলে জানান।
লোকসমাজ প্রতিবেদন। 

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: