১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত, ৩০ জন আহত


গতকাল যশোরে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছে ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ঘাতক একটি ট্রাক আটক হয়েছে।
নিহতরা হচ্ছে- যশোর সদর উপজেলার নুরপুর গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের পুত্র নিশাত (১৫), আগ্রাইল গ্রামের আলমগীর হোসেনের পুত্র হৃদয় হোসেন (১৯) ও নড়াইল সদর উপজেলার পেড়োলী গ্রামের উজ্জ্বল শেখের পুত্র তাজুল ইসলাম (১৮)। যশোর-নড়াইল সড়কের জামদিয়া নামক স্থানে যাত্রীবাহী বাস উল্টে হেলপার তাজুল ইসলাম নিহত ও ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গতকাল সকাল ৮টার দিকে নড়াইল হতে একটি বাস যাত্রী নিয়ে যশোর আসছিল। বাসটি জামদিয়া নামক স্থানে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বাসটি রাস্তার পাশে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লেগে খাদে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা অন্তত ৩০ জন যাত্রী কমবেশি আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় তাজুল ইসলাম,, সোলাইমান শেখ ও সাগর হোসেন নামে ৩ জনকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাজুল ও সোলাইমান শেখের অবস্থার অবনতি হলে তাদের দু’জনকে উন্নসত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেয়ার পথে তাজুল ইসলাম মারা যান। আহত সাগর এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যান্যরা যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেন।
অপরদিকে, যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের শানতলায় বিনোদিয়া পার্কের গেটের সামনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় সাইকেল আরোহী নিশাত গুরুতর আহত হন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কিছুণ পর তার মৃত্যু হয়।
যশোর সদর উপজেলার সমসপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গতকাল তারা নসিমনযোগে যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে অনুষ্ঠিত ইমাম পরিষদের বিােভ সমাবেশে আসছিলেন। সকাল অনুমান সাড়ে ৯টার দিকে শানতলায় বিনোদিয়া পার্কের কাছে পৌঁছালে সেখানে সাইকেল আরোহী ওই কিশোরকে একটি কাভার্ডভ্যানে ধাক্কা দিয়ে চুড়ামনকাটি অভিমুখে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা কিশোরকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতলে ভর্তি করেন। কিছুণ পর তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে হৃদয় হোসেন (১৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। হৃদয় হোসেনের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার আগ্রাইল গ্রামে। পিতার নাম আলমগীর হোসেন। তার চাচা সার্জেন্ট আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, গতকাল বেলা ১১টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে হৃদয় বাড়ি ফিরছিল। পথে বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে হৃদয় গুরুতর আহত হলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছে। বর্তমানে ট্রাকটি খাজুরা পুলিশ ফাঁড়িতে রয়েছে। আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, হৃদয় হোসেন তার পিতার একমাত্র ছেলে। ৩ মাস আগে সে বিয়ে করেছে। কিছুদিন আগে দাদি তাকে মোটরসাইকেল কিনে দেন।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: