১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

উপেক্ষিত যশোর বিসিক শিল্পনগরী : অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হোক

দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নে কাজ করে বিসিক বা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন। এ লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে যশোরে ৫০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় যশোর বিসিক শিল্পনগরী। স্থানীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিকাশে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি লাভজনক একটি শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এটি। তবে দীর্ঘদিন অবকাঠামোগত উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ধুঁকছে এ শিল্পনগরী। উদ্যোক্তার অভাবে দেশের অন্য শিল্পনগরীতে যেখানে বেশির ভাগ ইউনিট খালি পড়ে আছে, সেখানে যশোর শিল্পনগরীর ১২৩টি ইউনিটের মধ্যে চালু রয়েছে ১২১টি। তবে কর্তৃপক্ষের নানা ধরনের গাফিলতি যথাযথভাবে উত্পাদন কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, দারিদ্র্য দূর করার পাশাপাশি আঞ্চলিক উন্নয়নের যে উদ্দেশ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা ব্যাহত হচ্ছে।
বিসিক পরিচালিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পনগরী এটি। প্রশ্ন, পণ্য উত্পাদনে সন্তোষজনক অবস্থান থাকার পরও কেন এ শিল্পনগরীকে অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার আধুনিকায়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে? এ কারণে স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে; যা এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য একধরনের হুমকিস্বরূপ। অবহেলিত এ শিল্পাঞ্চলের উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ কেন নজর দিচ্ছে না? বণিক বার্তায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, যশোর শিল্পনগরীতে কোনো পুলিশ ক্যাম্প নেই। এছাড়া সড়কে পর্যাপ্ত সড়কবাতির অভাবে সন্ধ্যা নামলেই পুরো বিসিক শিল্পনগরী ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়। এর ফলে নিয়মিত সেখানে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সম্ভাবনাময় এ শিল্পনগরীটি গতিশীলতা হারাবে।
অবকাঠামো ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং নিরাপত্তার সংকট যদি সম্ভাবনাময় এ শিল্পনগরীর অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা হবে দুর্ভাগ্যজনক। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এখানে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিষ্ঠার সময় এখানে ২৫টি ইউনিটের জন্য একটি পানির পাম্প স্থাপন করা হয়। বর্তমানে ইউনিটের সংখ্যা বেড়ে ১২৩টি হলেও পুরনো পাম্পটিই একমাত্র ভরসা। তাই অগ্নি দুর্ঘটনায় কেবল অবকাঠামোগত অসুবিধার কারণে এ শিল্পনগরীর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই সমস্যা দূর করে এখানে নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে হবে। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা নিরসনে পদক্ষেপ না নিলে বর্তমানে এখানে যারা বিনিয়োগ করেছেন, তারা নিরাশ হয়ে বাইরে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হবেন। ফলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের যে লক্ষ্য নিয়ে সাড়ে পাঁচ দশক আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ শিল্পনগরী, সে উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। আধুনিক অবকাঠামো এবং সহজ শর্তে আর্থিক সহযোগিতা পেলে এখানে আরো শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পাশাপাশি উত্পাদন বেড়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: