রোহিঙ্গা নির্যাতনে ফুঁসে উঠেছে গোটা এশিয়া!

রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে এশিয়া। দেশে দেশে শুক্রবার বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় তারা অবিল...



রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে এশিয়া। দেশে দেশে শুক্রবার বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় তারা অবিলম্বে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অকথ্য নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান। বিক্ষোভে অংশ নেয়া অনেক মানুষকে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে। বিক্ষোভ হয়েছে বাংলাদে, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও অন্যান্য স্থানে। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভে দেখা গেছে রোহিঙ্গাদের রক্ষা কর- স্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড।
পাকিস্তানের করাচিতে বিক্ষোভে অংশ নেন কয়েক হাজার মুসলিম। ঢাকার বিক্ষোভে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে এক বিক্ষোভকারীকে। এমনকি র‌্যালিতে নেমে আসে শিশুরা পর্যন্ত। অং সান সুচির প্রতি নিন্দা জানিয়ে ব্যানার দেখা যায় নারী বিক্ষোভকারীদের হাতে। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় মিয়ানমার দূতাবাসের সামেন বিক্ষোভ করেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। এ সময় তাদেরকে দেখা যায়, রাস্তায়ই নামাজ আদায় করছেন। সামনে রেখে দিয়েছেন রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে লেখা পোস্টার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
এতে বলা হয়, দেশে দেশে এসব বিক্ষোভ থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের আচরণে নিন্দা জানানো হয় কড়া ভাষায়। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দু’সপ্তাহে নির্যাতনের হাত থেকে প্রাণে রক্ষা পেতে রাখাইন রাজ্য থেকে কমপক্ষে দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
এ হিসাব জাতিসংঘের। রাখাইনে যে পরিমাণ রোহিঙ্গা বাস করেন এ সংখ্যা তার এক-তৃতীয়াংশ। জাতিসংঘের হিসাবেই রাখাইনে কমপক্ষে এক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবারের বিক্ষোভে রাজধানী ঢাকার বিক্ষোভে যোগ দেন রাজনৈতিক দল, ইসলামিক বিভিন্ন গ্রুপ, সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংগঠন। তা থেকে গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। আরো আহ্বান জানানো হয় শরণার্থী রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে। বিক্ষোভে যেসব প্লাকার্ড ও ব্যানার ব্যবহার করা হয় তাতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচির তীব্র সমালোচনা করা হয়।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের প্রতিবাদে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তারা তা আমলে নিচ্ছে না। কারণ, তাদের পাশে রয়েছে ভারতের মতো দেশ। তারা উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে এ অঞ্চলের শক্তিধর চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছে। ফলে তারা ক্রমশ শক্তিধর হয়ে উঠছে। ঢাকার বিক্ষোভ থেকে মিয়ানমারে নির্যাতনের বিরুদ্ধে যেন ক্ষোভের আগুন বেরুতে থাকে। অধিকারকর্মী মাহফুজা হক নীলা সিএনএন’কে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য আমি এই র‌্যালিতে অংশ নিয়েছি।
রোহিঙ্গা নারী, শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। তাই প্রত্যেকের উচিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো। বিক্ষোভ র‌্যালির আয়োজন করে গণজাগরণ মঞ্চ। এর নেতা বলেছেন, সরকার যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে তারা সোমবার ঢাকায় অবস্থিত মিয়ানমারের দূতাবাস ঘেরাও করবেন। টিভিতে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার খবর দেখে র‌্যালিতে যোগ দিয়েছিলেন ১০ বছর বয়সী স্কুল ছাত্রী শায়লা আহমেদ। জুমার নামাজের পর ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশের আয়োজনে কয়েক হাজার মুসলিম পল্টনের র‌্যালিতে অংশ নেন।
এ র‌্যালি থেকে অবিলম্বে রাখাইনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান্দের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন যে সুপারিশ করেছে তা বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানানো হয়। ওই রিপোর্টে বলা হয়, কঠোর ব্যবস্থা না নিলে বর্তমানের এই অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ঢাকা ও অন্যান্য স্থানে র‌্যালি করেছে। এ সব র‌্যালি থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ ইস্যুতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার রাখাইনে বিদ্রোহীদের কর্মকা-ের নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী। মিয়ানমার সরকারও এই সহিংসতার জন্য ওই বিদ্রোহীদের দায়ী করছে। ওদিকে শুক্রবার রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকার বৌদ্ধ সম্প্রদায়।
বলা হয়, ওই সঙ্কটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ওদিকে ঢাকা ও অন্যান্য অংশে বৌদ্ধদের প্যাগোডা ও অন্য স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারে কট্টরপন্থি বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে বাণের পানির মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ছুটে আসায় এখানেও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা সীমান্তের যে পথ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে সেই সব পথে, সীমান্তের ওপাড়ে স্থল মাইন পেতে রেখেছে মিয়ানমার।
চলমান পরিস্থিতিতে বুধবার বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশ সরকার। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্রাইসিস রেসপন্স ডিরেক্টর তিরানা হাসান বর্তমানে াবস্থান করছেন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া ও সিরিয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হলো বিশ্বের অন্যতম শক্তি, যাদের কাছে মানুষ হত্যার মতো স্থল মাইন আছে। যেসব মানুষ এরই মধ্যে পালিয়ে গেছেন তাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই অবিলম্বে এই চর্চা বন্ধ করতে হবে। অ্যামনেস্টি বলেছেন, তারা বিস্ফোরণে এক বয়স্ক নারীর পা উড়ে যাওয়ার ছবি পর্যালোচনা করেছে।
মেডিকেল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা ঘটেছে স্থল মাইন বিস্ফোরণে। এ সপ্তাহে আরো স্থল মাইন বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে ১০ ও ১৩ বছর বয়সী দু’টি বালক আহত হয়েছে মারাত্মকভাবে। নিহত হয়েছেন একজন। শুক্রবারের বিক্ষোভে অনেক বিক্ষোভকারী অং সান সুচির সমালোচনা করেছেন ব্যক্তিগতভাবে। তারা তার শান্তিতে পাওয়া নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।
রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোনো কথা না বলায় সাবেক রাজনৈতিক বন্দি অং সান সুচি ক্রমাগত সমালোচনার মুখে রয়েছে। এর আগে মানবাধিকারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তার যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল বর্তমানের অবস্থান ঠিক তার উল্টো। অং সান সুচির সমালোচনায় আরেক শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে শুক্রবার যোগ হয়েছেন আর্চবিশপ এমিরিটাস ডেসমন্ড টুটু।
তিনি তার টুইটার একাউন্ডে এ নিয়ে একটি খোলা চিঠি পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি সুচিকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, আপনার দেশে রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের যে দুর্দশা তাতে ভীষণ দুঃখ প্রকাশ করতে আমার নীরবতা ভাঙতে বাধ্য হলোশ। কেউ কেউ এটাকে বলছেন জাতি নির্মূল। কেউ বলছেন, ধীর গতিতে গণহত্যা। বর্তমানে এটা তীব্রতর হয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের বেদনার চিত্র আমাদেরকে বেদনাহত করে। যদি আপনার নীরবতা হয় মিয়ানমারের সর্বোচ্চ অফিস ধরে রাখার জন্য তাহলে অবশ্যই এর মূল্য হবে অনেক বেশি।
অন্যদিকে অং সান সুচি বলেছেন, তার সরকার তার দেশের সবাইকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। হোক তারা দেশের নাগরিব বা নয়। শুক্রবার কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে ওয়াশিংটন নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানানো হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে।

COMMENTS

Mountain View
নাম

অপরাধ বার্তা অভয়নগর অর্থনীতি আন্তর্জাতিক ইতিহাস/মুক্তিযুদ্ধ ইলেক্ট্রনিক্স ইসলাম ঐতিহ্য ঐতিহ্য/সংস্কৃতি কলাম কৃষি কৃষি বার্তা কেশবপুর খেলাধুলা গ্যালারী চাকরির খবর চাকুরী চুয়াডাঙ্গা চৌগাছা জাতী জাতীয় ঝিকরগাছা ঝিনাইদহ টিপস তথ্য প্রযুক্তি দর্শনীয় স্থান নড়াইল নিবন্ধ পরিবেশ প্রকৃতি/পরিবেশ প্রতিবেদন প্রবাস প্রশাসন ফেসবুক বাঘারপাড়া বিনোদন বিশেষ খবর বেনাপোল ব্যক্তিত্ব ব্যবসা/বানিজ্য ব্রেকিং নিউজ ভর্তি পরীক্ষা ভিডিও ভ্রমন মনিরামপুর মাগুরা মুক্তিযুদ্ধ যশোর যশোর সদর রাজনীতি রান্না লাইফ স্টাইল শার্শা শিক্ষাঙ্গন সংবাদ সংস্কৃতি সম্পাদকীয় সর্বশেষ সাফল্য সারাদেশ সাহিত্য সিনেমা স্বাস্থ্য Breaking Feature Greater Jessore Tips
false
ltr
item
যশোর নিউজ ২৪: Jessore News 24:: রোহিঙ্গা নির্যাতনে ফুঁসে উঠেছে গোটা এশিয়া!
রোহিঙ্গা নির্যাতনে ফুঁসে উঠেছে গোটা এশিয়া!
https://1.bp.blogspot.com/-VKhfx1C-KUI/WbQDGghj2VI/AAAAAAAABXI/ry3CDYIZuj4VwMjvVYM--wohUilrLisLACLcBGAs/s1600/karachi.jpg
https://1.bp.blogspot.com/-VKhfx1C-KUI/WbQDGghj2VI/AAAAAAAABXI/ry3CDYIZuj4VwMjvVYM--wohUilrLisLACLcBGAs/s72-c/karachi.jpg
যশোর নিউজ ২৪: Jessore News 24:
http://www.jessorenews24.com/2017/09/blog-post_68.html
http://www.jessorenews24.com/
http://www.jessorenews24.com/
http://www.jessorenews24.com/2017/09/blog-post_68.html
true
286737489812364167
UTF-8
Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy