২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

যশোরে তরিকুল্লা ওয়াক্ফ এস্টেটে চলছে হরিলুট

যশোরে তরিকুল্লাহ বিশ্বাস ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি এম এ কুদ্দুস ওরফে বকুলের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মোতাওয়াল্লি কর্তৃক সম্পত্তি বিক্রির নিয়ম না থাকলেও তিনি শহরের এইচ এম এম রোড়ের ৩ শতক জমি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 
একাধিক সূত্রে জানা যায়, যশোর সদর উপজেলায় তরিকুল্লাহ বিশ্বাস ওয়াক্ফ এস্টেটের সাড়ে ৩শ’ বিঘা জমি রয়েছে। যার অধিকাংশই শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। এ সম্পত্তি মোতাওয়াল্লি হিসেবে দেখভাল করেন শহরের এইচ এম এম রোড এলাকার বাসিন্দা মৃত মাওলা বক্সের ছেলে এম এ কুদ্দুস ওরফে বকুল। কিন্তু দেখভালের দায়িত্ব পেয়ে বকুল নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একের পর এক অনিয়ম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 
সূত্র বলছে, ওয়াক্ফ সম্পত্তি বিক্রির নিয়ম না থাকলেও তরিকুল্লাহ বিশ্বাস ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি বকুল সুচতুরভাবে শহরের ৩১/৩১ (এ) এইচ এম এম রোড়ের ৩ শতক জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। ওই জমির দাগ নং ১২৪। বিক্রয় দলিল নং-১০৮০৯। এছাড়া যশোর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার কয়েকটি জমি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুত্র মতে, ওই ওয়াকফ স্টেটের কোনো ভাড়াটিয়াকে রশিদ পর্যন্ত দেওয়া হয় না। যশোর শহরের ১৫ এইচ এম এম রোড়ের রেজা এন্টারপ্রাইজ, রহমান বস্ত্রালয়, মনির সু, চকম ক্লথ স্টোর ও একই স্থানে অবস্থিত রহমান ক্লথ অ্যান্ড সু এবং দড়াটানা জামে মসজিদ উত্তর গেট সংলগ্ন রুপালী ট্রের্ডাস ও একই স্থানে অবস্থিত আল মদিনা স্টোর থেকে যে ভাড়া আদায় করা হয় তার সঠিক তথ্য গোপন করে নামমাত্র ভাড়া আদায় দেখানো হয়। সূত্রগুলো বলছে, কোনো ভাড়াটিয়া প্রতিবাদ করলে তাদের নামে মিথ্যা মামলা জুড়ে দেন। ইতিপূর্বে যশোরের সাবেক জেলা প্রশাসক এবং দড়াটানা মসজিদ কর্তৃপক্ষের নামেও মামলা করেছেন এই বকুল। ফলে হয়রানির ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। 
এ ব্যাপারে যশোর শহরের এইচ এম এম রোডের রহমান ক্লথ স্টোর মালিক জাহিদ চাকলাদার জানান, তরিকুল্লাহ বিশ্বাস ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি বকুল ওয়াক্ফ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন এক অফিসারকে ম্যানেজ করে নানা অনিয়ম করে যাচ্ছে। 
অভিযোগের ব্যাপারে তরিকুল্লাহ বিশ্বাস ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি এম এ কুদ্দুস ওরফে বকুলের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। 
এ ব্যাপারে ওয়াক্ফ প্রশাসকের যশোর আঞ্চলিক অফিসের হিসাব নিরীক্ষক শামীমুল হক বলেন, তরিকুল্লাহ বিশ্বাস ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি বকুলের সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের সমস্যার বিষয়টি দেখার জন্য যশোর জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে দোকান বিক্রির চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারেনি। অনিয়মের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এ ব্যপারে ওয়াক্ফ প্রশাসকের সহকারী প্রশাসক কামরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: