২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

যশোরে সাড়ে তিন মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

যশোরে একটি রড ফ্যাক্টরির ম্যানেজার জালাল মোল্যা লাশ কবর থেকে উত্তোলন করেছে সিআইডি পুলিশ। তিন মাস ২০ দিন পর লাশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এনডিসি আরিফুর রহামানের উপস্থিতে মাগুরা জেলার শালিখা থানার শতখালি গ্রামে তার পারিবারিক কবরস্থান থেকে তোলা হয়।

লাশটির ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আনা হয়েছে। 
নিহতের স্বজনদের দাবি, জালাল মোল্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়েছে।
জালাল মোল্যা যশোর সুজলপুর আকবর মিয়ার রড ফ্যাক্টরির ম্যানেজার ছিলেন। এবং মাগুরা জেলার শালিখা থানার শতখালি গ্রামের মৃত সাহেব আলী মোল্যার ছেলে। 
নিহতের ভগ্নিপতি জাহিদুল হক ঢাকাটাইমসকে বলেন, তার শ্যালক জালাল মোল্যা যশোর সুজলপুর আকবর মিয়ার রড ফ্যাক্টরির ম্যানেজার ছিলেন। জালাল মোল্যা স্ত্রী মারুফা ইয়াসমিন পলির চরিত্র ভাল ছিল না। সে আকবর মিয়ার জামাই নিপ্পনের সাথে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত ছিল। জালাল মারা যাওয়ার তিন মাস আগে নিপ্পনের সাথে পলি ভারতে বেড়াতে যায়। এই নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। এছাড়া নিপ্পন এবং পলিকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ধরে ফেলে জালাল। পথের কাটা দূর করতে ঘটনার দিন ৩ জুন গভীর রাতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে নিহতের লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসলেও লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘরি করে ৪ জুন সকালে দাফন সম্পন্ন করেন।
যশোর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুনর রশিদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, জালাল মোল্যা মারা যাওয়ায় নিহতের বড়ভাই সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে আদালত একটি মামলা হত্যা করেন। মামলাটি গত ১৩ আগস্ট যশোর কোতয়ালি থানায় রেকর্ট হয়। ৩০ আগস্ট মামলাটির তদন্তের দায়িত্বের ভার পান পরিদর্শক হারুনর রশিদ। এরপর তিনি আদালতে নিহতের লাশ তুলে ময়নাতদন্তের অনুমতি চান।
আদালতের অনুমতিতে শনিবার দুপুর  ১২টার দিকে শতখালি গ্রাম থেকে লাশ তুলে যশোর হাসপাতাল মর্গে আনা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এনডিসি আরিফুর রহামান বলেন, তার উপস্থিতিতে শালিখা থানার শতখালি গ্রাম থেকে নিহতের লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। নিহতের কবর থেকে কিছু মাটি কাফনের কাপড়ের কিছু অংশ এবং লাশ তুলে এনে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
নিহতের স্ত্রী মারুফা ইয়াসমিন পলি বলেন, গত ৩ জুন গভীর রাতে আমার স্বামী জালালের বুকের ব্যথায় এবং শ্বাস কষ্টে সে মারা যায়। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়নি। আমার স্বামীর অনেক জায়গা জমি আছে, সে গুলো আত্মসাদ করার জন্য আমার নামে মিথ্যা কলঙ্ক রটানো হয়েছে। 

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: