১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

যশোরে উদ্ধারকৃত গলিত লাশের পরিচয় মিলেছে

যশোরে অর্ধগলিত লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহত হতভাগ্য যুবকের নাম সাজেদুর রহমান সাজিদ (৩০)। নিহতের ডানপায়ের বুড়ো আগুন কাটা চিহ্ন দেখে পিতা পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। সে যশোর শহরের ১০ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের ‘উপহার ভিলা’র জালাল উদ্দিনের ছেলে। শহরের বড়বাজারের ফেন্সিমার্কেটে তার সাজিদ স্টোর নামে একটি দোকান ছিল।  নিহতের বাবা জালাল হোসেন বলেন, বুধবার বিকেল ৪টার পর থেকে তার ছেলে সাজিদ বাড়ি থেকে বের হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় সাজিদ তার মা শিল্পী খাতুনের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায়, সে ভালো আছে। পরে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা যায়নি; তার ফোনও বন্ধ ছিল।’ বাবা জালাল আরো বলেন, সাজিদ নিখোঁজের পরে তিনি দুই বার থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান। কিন্তু পুলিশ ডাইরি নেয়নি। শুক্রবার রাত ১১টার পরে পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে থানায় ডেকে নিয়ে ছেলের পরনে কী ছিল, শনাক্তকারী চিহ্ন ইত্যাদি খুটিনাটি জিজ্ঞেস করে। রাত ১২টার দিকে বাবা হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ছেলের ডান পায়ে কাটা আঙ্গুলের চিহ্ন দেখে তাকে চিনতে পারে।  হাসপাতালে কোতয়ালী থানার এসআই মাহবুব বলেন, লাশের পরিচয় মিলেছে। সে শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের ‘উপহার ভিলা’র জলাল হোসেনের ছেলে সাজেদুর রহমান সজিদ।  হাসপাতালে শনিবার বেলা ১২টার দিকে লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্নর পর স্বজনেরা দাফনের জন্য লাশ নিয়ে যায়। এদিকে সাজিদ হত্যাকা-ের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা শনিবার সকাল থেকে বড় বাজারের ফেন্সি মার্কেট বন্ধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এদিকে দিনভর যশোর শহরের সর্বত্রই আলোচনা সাজিদ হত্যাকা- নিয়ে। কারা কেন তাকে হত্যা করে ডিসি বাংলো রোডের সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলীর বাসার সামনে ফেলে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তার স্ত্রী সাজিদকে তালাক দেয়। এতে ক্ষিপ্ত সোমবার সাজিদ তার স্ত্রীকে কয়েকজন বন্ধুর মাধ্যমে জোর করে তুলে নিয়ে আসে। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ হলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন গভীর রাত পর্যন্ত মিমাংসা করে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে তার পিতার কাছে তুলে দেন। এরপর বুধবার বিকাল থেকে সে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ ও হত্যাকা-ের সাথে স্ত্রীর কোন সম্পর্ক আছে কি না তা পুলিশকে খতিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় নিহতের পরিবার থেকে কোনা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে লাশ উদ্ধারকারী কোতয়ালি মডেল থানার এসআই মাহাবুব কারা এবং কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতে পারেননি বলে সাংবাদিককে জানিয়েছেন।  উল্লেখ্য.যশোর শহরের ডিসি বাংলোর সামনের সিএনবি রোড থেকে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাত নামা ওই যুবকের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে । গলিত যুবকের মুখ এসিড মেরে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সবুজ জিনসের প্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট পরিহিত যুবকের ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুল কাটা ছিল।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: