১৫ আগস্ট, ২০১৭

'বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ছয় লাখ মানুষ, ঢাকায় বন্যার আশঙ্কা'

'বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ছয় লাখ মানুষ, ঢাকায় বন্যার আশঙ্কা'


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, 'আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছি। এবার ২০ জেলার ৩৫৬টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে ৫ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় দিনরাত কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।'

তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি মধ্যাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগরে নেমে যাবে। ফলে ঢাকার নিম্নাঞ্চলসহ আরও ৯টি জেলায় বন্যার আশঙ্কা আছে। তবে ১৯৮৮ সালের চেয়ে বড় বন্যা হলেও মোকাবিলার প্রস্তুতি আছে সরকারের।'

সোমবার দুপুরে চলমান বন্যা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজধানীর মহাখালীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, 'এখন পর্যন্ত ৯০টি পয়েন্টের মধ্যে ২৭টি পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোনা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিসহ ২০ জেলার ৩৫৬টি উপজেলার ৩৫৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৬ জন লোক আশ্রয় নিয়েছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'চলতি অর্থবছরে বন্যাপ্রবণ জেলাসমূহে দশ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন চাল, তিন কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্লাবিত জেলাগুলোতে গত কয়েকদিনে এক হাজার ২শ’ মেট্রিকটন চাল ও ৬০ লাখ নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে।'

মায়া বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী সব জেলার বন্যা পরিস্থিতি নজরে রাখছেন এবং দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। মন্ত্রণালয় সে নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। সব জেলায় মন্ত্রণালয় থেকে একজন সিনিয়র পর্যায়ের কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে, যার কাজ হবে জেলা পর্যায়ে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সমন্বয় ও ত্রাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সহযোগিতা করা।'

তিনি বলেন, 'উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে এবছর স্মরণকালের মারাত্মক বন্যা হয়েছে। মন্ত্রণালয় উজানের দেশের বন্যা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আর উজানের দেশগুলোতে বন্যা হলে ভাটির দেশ হিসেবে উজানের প্রভাব আমাদের ওপর পড়বে-এটাই স্বাভাবিক। তার আলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি।'

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, 'বন্যা মোকাবিলায় সরকার ঘরে বসে নেই। জেলা প্রশাসকদের চাহিদা মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য ও আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। একটি লোকও যাতে খাবারের অভাবে কষ্ট না পায় জেলা প্রশাসনকে সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'বিদেশে বসে ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে কোনও কাজ হবে না। সরকার বন্যাকবলিত মানুষের পাশে আছে। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের সামর্থ না থাকলে মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে হলেও জনগণের পাশে দাঁড়ান।'

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর, সিপিপি ও মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলায় পর্যাপ্ত মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।'

এ সময় তিনি মেডিক্যাল টিমের সদস্যদের নিয়মিত বন্যাকবলিত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়াও পানিবাহিত রোগ থেকে দুর্গত মানুষদের রক্ষা করতে, দ্রুত ভাঙা বেড়িবাঁধ মেরামত করতে এবং নতুন করে কোনও বেড়িবাঁধ যাতে না ভাঙে সে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব গোলাম মোস্তফা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ প্রমুখ।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: