২ আগস্ট, ২০১৭

যেভাবে বাংলাদেশকে দমনের চেষ্টা করেছিলেন হিলারি


ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের অন্যতম দাতা ও ক্লিনটন পরিবারের এক বন্ধুকে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত থেকে বাঁচাতে গিয়ে বাংলাদেশকে দমনের চেষ্টা করেছিলেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। পারিবারিক বন্ধুর দুর্নীতির তদন্ত থামাতে শুধু প্রাণপণ চেষ্টাই করেননি তিনি; বাংলাদেশের ওপর অনৈতিক অনধিকার চর্চাও করেছিলেন সাবেক এই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
শান্তিতে বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারের ওপর হুমকি-ধামকি ও চাপ প্রয়োগ করেছিলেন হিলারি। মার্কিন দৈনিক ডেইলি কলারের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন এই দৈনিক দাবি করে বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুরোধে বাংলাদেশের দুটি সরকার বেশ কিছু নথি দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দরিদ্রতম দেশটির বিরুদ্ধে ‘হার্ড-বল’ কৌশলের ব্যবহার করে ক্লিনটন তার কোটিপতি বন্ধু এবং ফাউন্ডেশনের দাতাকে সাহায্য করার জন্য বিরক্তিকর ছায়া ফেলেছিল।
নথিতে দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ ব্যাংক নামে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের আর্থিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সম্মুখীন ইউনূসকে বাঁচাতে হিলারি ক্লিনটন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, দূতাবাস এবং বিশ্বব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি পরিকল্পনা আঁকেন। পরে ইউনূসকে ওই ব্যাংক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে ৩ লাখ ডলারের বেশি দান করেছিলেন তিনি।
২০১০ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ইউনূস একাধিক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি হন। এর মধ্যে ডেনমার্কের ডক্যুমেন্টারিতে উঠে আসে তিনি কীভাবে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়েছেন।
ইউনূসের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ বাংলাদেশে ব্যাপক তোলপাড় ফেলে; যেখানে মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় এক হাজার ডলার।
ইউনূসের হয়ে ক্লিনটন বারবার এবং সরাসরি বাংলাদেশকে হুমকি-ধামকি দেন। এমনকি তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক যে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন দিয়েছে; তা প্রত্যাহার করে নেবে।
বিশ্বব্যাংকের সর্ববৃহৎ দাতা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালে দেশটি বিশ্বব্যাংককে ১৫০ কোটি (দেড় বিলিয়ন) ডলার দান করে। হিলারি ক্লিনটন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এই ব্যাংকের ওপর প্রচণ্ড রকমের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।
মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রধান শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের ভীত নাড়িয়ে দিতে ও অপমান করতে পদ্মা সেতু ইস্যুতে ক্লিনটনের পদক্ষেপ আগে থেকেই সাজানো হয়েছিল। মার্কিন আরেক প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি হচ্ছে পদ্মা নদী প্রকল্প।
তিনি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের একটি অনুন্নত অঞ্চলের সংযোগ স্থাপনে পদ্মা নদীর ওপর একটি রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণের আশা করেছিলেন; যা নতুন ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
হিলারি ক্লিনটনের ঔদ্ধত্যমূলক চাপ প্রয়োগ কৌশল ও ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের দাতার পক্ষে বিশ্বব্যাংককে ব্যবহার মার্কিন সিনেটের কমিটিতে চলমান তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার এই ছোট দেশের বিরুদ্ধে হিলারি ক্লিনটনের চাপ প্রয়োগ কৌশলের তদন্ত করছে সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটি।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় সজীব ওয়াজেদ জয়ের মাধ্যমে ওই সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে আর্থিক হিসাব তদন্তে (আইআরএস) শেখ হাসিনাকে হুমকি দেয়া হয়েছিল কি না তা জানতে চলতি বছরের ১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলীয় সিনেটর ও সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলি বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের বক্তব্য চান।
আইওয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলীয় এই রাজনীতিক ডেইলি কলারকে বলেন, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের দাতাকে বাঁচাতে বিশেষ বিবেচনার জন্য আর্থিক হিসাব বিভাগের তদন্ত ব্যবহার করে অথবা অন্য কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না তা জানতে আমি পররাষ্ট্র দফতরের কাছে প্রতিনিয়ত জবাব চাইব।
হিলারি ক্লিনটন খোলস ঝেড়ে বেরিয়ে আসেন ২০১১ সালের শুরুর দিকে; যখন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মণির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: