১৬ আগস্ট, ২০১৭

মাদক নির্মূলে ২৮০০ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল থাইল্যান্ড



সমাজ, গ্রাম, শহর পেরিয়ে সবখানেই মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বেড়েই চলেছে। মরণ নেশায় মাদকের ছোবলে উঠতি বয়সে যুবক-যুবতীরা ধ্বংস হচ্ছে। মাদকের করাল গ্রাসে বিপন্ন হচ্ছে আমাদের দেশ। সীমান্তপথে অনায়াসে আসছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ ও গাঁজা। তুলে দিচ্ছে যুবকদের হাতে। মাদক গ্রহণের ফলে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কাউকে আবার মাদকসেবীর হাতেই জীবন দিতে হচ্ছে।
এদিকে থাইল্যান্ডে মাদকের উত্তাপ বেড়ে যাওয়ায় দেশের সরকার খুব চিন্তিত হয়ে পরে। যে কোন মূল্যে মাদকের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ২০০৩ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। এর পর থেকে থাইল্যান্ডে এই মাদকের প্রকোপ কমে এসেছে।
সে সময় থাই সরকার মাদকের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ শুরু করে দেয়। তবে সেটা কিভাবে সম্ভব হয়েছিল?আন্তর্জাতিক নারকোটিক্স কন্ট্রোল বোর্ড, ২০০৮ এর রিপোর্ট মতে, ২০০৩ এর ফেব্রুয়ারি মাসে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার অধীনে মাদক চোরাচালান দমন ও মাদকদ্রব্যের প্রতিরোধের লক্ষ্যে ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শুরু করেন।
আসলে, এই নীতির একটি বড় পরিণতি ছিল নির্বিচারে হত্যা। প্রচারাভিযানের প্রথম তিন মাসের মধ্যে ২৮০০ টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
২০০৭ সালে এক সরকারি তদন্তে দেখা যায় যে নিহতদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি লোকের মাদকদ্রব্যের সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক ছিল না।
উল্লেখ্য, সেসময় থাইল্যান্ডে প্রচুর ইয়াবার ছড়াছড়ি ছিল। সেখানে বেশ কিছু মানুষকে প্রকাশ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডে দেওয়ার কারণে থেমে গেছে। সরকার সেখানে আইন করেছে, ২০টির কম ইয়াবা পেলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর ২০টির বেশি পেলে মৃত্যুদণ্ড। এরপর থেকে সেখানে ইয়াবা নেই বললেই চলে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: