২৭ আগস্ট, ২০১৭

জনবল সংকট, যশোরে তিনটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র এখন ভূতের বাড়ি

যশোরের প্রান্তিক মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকার তিনটি হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। অথচ অবকাঠামো নির্মাণ হলেও চিকিৎসক না থাকায় গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনটি হাসপাতাল অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রান্তিক মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকার যশোরে তিনটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতাল স্থাপন করে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে ভবন নির্মাণের আড়াই বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও হাসপাতালের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।  চিকিৎসক চেয়ে ২০১৪ সালের ১০ জুন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হলেও তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে। যে কারণে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ভবন তিনটি পড়ে আছে। ভবনের কোন কোন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। আর রাত হলেই এই ভবনগুলো চলে যায় মাদকসেবিদের দখলে। চুরি হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি।  যশোর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১২ সালে অভয়নগরের সিঙ্গাড়ি ও শার্শার গোড়পাড়ায় দুইটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্যর হাসপাতাল ভবন নির্মণ শুরু হয়। সিঙ্গাড়িতে পাঁচ কোটি ১৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা ও গোড়পাড়ায় পাঁচ কোটি ৪৭ হাজার ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে দুইটি ভবন নির্মান সমপন্ন করা হয়েছে।  ভবন দুইটি ২০১৪ সালের ১৯ ও ২০ মার্চ যশোর সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর।  এছাড়া একই নকশার বেনাপোলের ‘ল্যান্ডপোল মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতাল ভবনটি নির্মানের জন্য ব্যয় হয় তিন কোটি ২২ লাখ ১৪ হাজার টাকা। যা স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে গত বছর ৮ অক্টোবর। কিন্তু হাসপাতাল তিনটির একটিও এখনো চালু হয়নি। রক্ষানাবেক্ষনের অভাবে ভবন তিনটি নষ্ট হওয়ার পথে।  সরেজমিনে যশোর শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূর শার্শার গোড়পাড়ায় ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শাহাজাহান নামে একজন এমএলএসএস হাসপাতাল খুলে বসে আছেন। এখানে দ্বিতল ভবনসহ রয়েছে চিকিৎসকের আবাসিক থাকার ব্যবস্থা।  কিন্তু বাস্তবে এখানে কোন কাজ হয় না। কোন যন্ত্রপতি, আসবাবপত্র নেই। আছে শুধুই ভবন। যে ভবনের কোন কোন স্থানে ইতোমধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে।  হাসপাতালের এমএলএসএস শাহাজাহান বলেন, আমি ছাড়া এই হাসপাতালের স্থায়ী কোন জনবল নেই। রাতে কোন সিকিউরিটি না থাকায় ইতোমধ্যে ভবনের ফ্যান ও লাইট চুরি হয়ে গেছে। হাসপাতাল কবে চালু হবে জানি না।  স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বর হাইম উদ্দিন বলেন, গোড়পাড়া থেকে যশোর শহরে যাওয়ার রাস্তা বেশ খারাপ। তাই গর্ভবতী মায়েদের যশোরের হাসপাতালে নেওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই হাসপাতালটি চালু হলে এই এলাকার মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা সহজ হতো। আমরা চালুর জন্য বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। আড়াই বছর ধরে ভবনটি পড়ে আছে। ভবনের কোন কোন স্থানে ইতোমধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে।  যশোর স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল আলম বলেন, আমাদের কাজ ভবন নির্মান করা। সে কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা অনেক আগেই ভবন হস্তান্তর করে দিয়েছি।  শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশোক কুমার বলেন, গোড়পাড়া হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক না থাকায় পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তবে হাসপাতাল চালু না হলেও মাঝে মধ্যে আউট ডোরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করি।  যশোর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ১০ জুন জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু এখনো কোন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এজন্য হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।  দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সিঙ্গাড়ি হাসপাতাল ক্যাম্পাস ময়লা আর আগাছায় ভরে গেছে।  স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল আক্তার বলেন, হাসপাতালটি ঘিরে স্থানীয়দের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ভবন নির্মানের পরও দীর্ঘদিন চালু না হওয়ায় তারা হতাশ।  যশোর সিভিল সার্জন গোপেন্দ্রনাথ আচার্য বলেন, গোড়পাড়া ও সিঙ্গাড়ি হাসাতাল পরিদর্শন করেছি। ভবন ছাড়া কোন আসবাবপত্র নেই। জনবলও এখানে শূন্য। এজন্য হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছেনা। প্রয়োজনীয় জনবল ও আসবাবপত্র কেনার জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেও বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে।  যশোরের ১০ শয্যা হাসপাতালের আরেকটি বেনাপোলের ‘ল্যান্ডপোল মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতাল। এখানে কোন জনবল নেই। ভবনটি রাত-দিন অরক্ষিতভাবে পড়ে থাকে। এ সুযোগে রাতে মাদকসেবিদের আড্ডা বসে ভবনটিতে।  ল্যান্ডপোল মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালটি তদারকির দায়িত্ব যশোর পরিবার পরিকল্পনা অফিসের। এই হাসপাতাল ভবনটি নির্মানের কাজ শেষ হয় গত বছর ৮ অক্টোবর। কিন্তু এখনো হাসপাতাল চালু হয়নি।  এ ব্যাপারে যশোর পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহকারী পরিচালক ডা. মুনসী মনোয়ার হোসেন বলেন, জনবল ও আসবাবপত্র চেয়ে একাধিকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি। কাজ হয়নি যেকারণে  এটি চালু করা যাচ্ছেনা।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: