১৫ আগস্ট, ২০১৭

সূর্য ‘ছোঁয়ার’ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নাসা



সূর্য ‘ছোঁয়ার’ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নাসা





সূর্যের ধারেরকাছে যাবার কল্পনাও কেউ করতে পারেননি এতোদিন। কারণ সূর্যের তাপমাত্রা এত বেশি যে তা মুহুর্তের মধ্যে সবকিছু গলিয়ে দিতে পারে। কিন্তু আমেরিকার মহাকাশ সংস্থা নাসা এবার সূর্য ‘ছোঁয়ার’ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এবার নাসার অনুসন্ধান যান সূর্যের সম্ভাব্য সবচে কাছের পয়েন্ট পর্যন্ত পৌছে যাবে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সুর্যের উপরিতলের তাপমাত্রা ১০ হাজার ডিগ্রী ফারেনহাইট (৫ হাজার ৫৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস)। অথচ এর সংলগ্ন অ্যাটমোস্ফিয়ারের (দ্য করোনা) তাপমাত্রা প্রায় সাড়ে ১৯ লাখ ডিগ্রী সেলসিয়াস! তাপমাত্রার এই বৈপরীত্যের কারণ কি তার সঠিক ব্যাখ্যা এখনো মেলেনি। তাই সূর্যের পৃষ্ঠে পৌছাতে গেলে আগে করোনার এই তাপমাত্রা হজম করতে হবে। অর্থাৎ এমন জিনিস দিয়ে অনুসন্ধান যান বানাতে হবে যা করোনা অঞ্চলের সেই সাড়ে ১৯ লাখ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা সহ্য করে টিকে থাকতে পারবে। 

কিন্তু বাস্তবে সেটা সম্ভব নয়। কারণ মহাবিশ্বের কোনো পদার্থেরই এই তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা নেই। একারণে এই অ্যাটমোস্ফিয়ারের বাইরে থেকেই সূর্যকে ‘ছোঁয়ার’ সাধ মেটাতে হবে। অর্থাৎ সূর্যের ৪০ লাখ মাইল দূরত্বের মধ্যে পৌছানো সম্ভব হবে নাসার অনুসন্ধান যানের পক্ষে। এর বেশি এগোলেই পুড়ে-গলে ‘ভস্ম’ হয়ে যাবে।

নাসার এই যানের নাম দেয়া হয়েছে পার্কার সোলার প্রোব। এই যানের ঢাল তৈরী করা হয়েছে কার্বন-কার্বন যৌগ নির্মিত বিশেষ ধাতব পদার্থ দিয়ে। এর ভেতর সুরক্ষিত থাকবে গবেষণার সব যন্ত্রপাতি। ৮ ফুট চওড়া এবং ৫ ইঞ্চি পুরু ধাতুর তৈরী এই যান ২ হাজার ৫০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট (১ হাজার ৩৭১ ডিগ্রী সে.) পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করে অক্ষত থাকতে পারবে। একারণে এটি সূর্যের ৪০ লাখ মাইলের মধ্যে পৌছাতে পারবে।

২০১৮ সালের ৩১ জুলাই এই সৌর অনুসন্ধান যানটি যাত্রা শুরু করবে। ওই বছর ১ নভেম্বর এটি বুধের কক্ষপথ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে যাবে। এরপর এটি সূর্যের সবচে কাছে অর্থাৎ সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছে যাবে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর। 

-ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: