১৮ আগস্ট, ২০১৭

যশোর-২ আসনে নৌকার আধা ডজন প্রার্থী

নির্বাচনের এখনো ঢের বাকি থাকলেও নির্বাচনী এলাকায় শুরু হয়েছে মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের তৎপরতা। চৌগাছা-ঝিকরগাছা উপজেলা নিয়ে যশোর-২, জাতীয় সংসদের ৮৬ নির্বাচনী এলাকা। দুটি উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত হওয়ার কারণে দুই এলাকা থেকেই রাজনীতিবিদরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করে থাকেন। তবে দেশ স্বাধীনের পর থেকে চৌগাছা উপজেলা থেকে কোনো বড় দলই প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি। একাদশ নির্বাচনে ব্যতিক্রম হবে কি-না তা এখনো নিশ্চিত নয়। তারপরও দুই উপজেলা থেকেই মনোনয়ন-প্রত্যাশীরা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত যারা মাঠে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির। যিনি মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। বয়সে তরুণ হওয়ার কারণে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। অবশ্য বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি নিজ উপজেলায় ভালো ফল অর্জন করতে পারেননি। চৌগাছা উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে তাকে বিজয়ী করেন। আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। যিনি স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। দুই উপজেলার প্রায় সব মানুষই তাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। তিনিও এই অঞ্চলের অসংখ্য মানুষকে বিশেষভাবে চেনেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির বাইরেও অসংখ্য মানুষের সঙ্গে তার সখ্য সর্বজনবিদিত। কিন্তু এতো কিছুর পরও তিনি বিগত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন। প্রচার আছে, সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হলে তিনি দলীয় প্রধানকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়ায় তার কপাল পোড়ে। তারপরও এবার আবার তিনি দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন। নৌকা পাওয়ার জোর চেষ্টা করছেন মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিন। যিনি রাজনৈতিক ময়দানে একেবারেই নতুন। কিন্তু ইতিমধ্যে এলাকায় বেশকিছু শুভাকাঙ্ক্ষী তৈরি করে ফেলেছেন। তার অনুসারীরা প্রচার করছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এবং দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেয়েই তিনি গণসংযোগ করছেন। ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে আরেকজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চেষ্টা তদবির করে যাচ্ছেন। তিনি হলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। তিনি এলাকায় পোস্টারিং, মোবাইল ফোনে শুভেচ্ছা মেসেজ ও গণসংযোগ চালিয়ে বেশ পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। আনোয়ারের অনুসারীরা বলছেন, তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। এদিকে, চৌগাছা উপজেলা থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন দলের উপজেলা সেক্রেটারি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান। চৌগাছায় আওয়ামী লীগকে বিকশিত করতে যার অবদান অনস্বীকার্য। যোগ্যতা ও সাহসীকতা দিয়ে তিনি দলকে আগলে রেখেছেন তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে। একসময় এ উপজেলার মানুষ আওয়ামী লীগ বলতে এসএম হাবিবকেই মনে করতো। তবে সে অবস্থা এখন খানিকটা বদলেছে। এখন আর কাজে গরজে সবাই তার কাছে যায় না। দলীয় অনেক নেতাকর্মীর ক্ষোভ আছে তার দুর্ব্যবহার নিয়ে। তিনিও এবছর মনোনয়ন পাবার আশায় ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। দলীয় রাজনীতিতে তিনি সংসদ সদস্যের প্রতিপক্ষ হলেও তবে সম্প্রতি একটি ঘটনায় দুইজনকে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এ উপজেলার আরেকজন মনোনয়ন-প্রত্যাশী হলেন এবিএম আহসানুল হক আহসান। তিনি বেশ কয়েকবছর যাবৎ এলাকায় ব্যাপক পোস্টারিং করছেন ও সুধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে যাচ্ছেন। আহসান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সম্পাদক। এছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ঢাকা ট্যাকসেস বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক। ‘কেন্দ্রে ভালো প্রভাব আছে’ দাবি করে তার অনুসারীরা বলছেন, আহসানের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: