১৮ আগস্ট, ২০১৭

যশোরে ৫ জাতীয় সড়কের বেহাল দশাঃ ঈদের আগে মেরামত নিয়ে সংশয়

আসন্ন কোরবানি ঈদের ১০ দিন আগে দেশের সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে যশোরের পাঁচটি জাতীয় সড়ক চলাচলের উপযোগী হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।  সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) যশোর বলছে, গত জুলাইয়ে ভারি বৃষ্টিপাতজনিত কারণে যশোরের পাঁচটি জাতীয় সড়কসহ দুটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে অন্তত ১০ কোটি টাকা। আর এসব সড়ক মেরামতের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ সময়।  ক্ষতিগ্রস্ত জাতীয় সড়কগুলো হলো— যশোর-খুলনা, যশোর-বেনাপোল, যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-মাগুরা ও যশোর-নড়াইল। এছাড়া যশোর থেকে রাজারহাট, মণিরামপুর, কেশবপুর, চুকনগর, কেশবপুর-সরষকাঠি-কলারোয়া ও পালবাড়ী-দড়াটানা-মণিহার হয়ে মুড়লী পর্যন্ত সড়কগুলোর মারাত্মক ক্ষতিসাধন হয়েছে।  সওজ যশোর অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যশোর-খুলনা মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটারের মধ্যে চাঁচড়া মোড়, মুড়লী, রাজঘাট, বসুন্দিয়া, প্রেমবাগ, চেঙ্গুটিয়া ও ভাঙ্গাগেটে বড় বড় গর্ত হয়েছে। সড়কটি ঈদের আগে মেরামতের জন্য ২ কোটি টাকা প্রয়োজন।  যশোর-বেনাপোল সড়কের ৩৮ কিলোমিটারের মধ্যে পুলেরহাট থেকে নাভারন মোড় পর্যন্ত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যশোর থেকে বেনাপোল যেতে ৪০ মিনিট লাগলেও বেহাল সড়কের কারণে সময় লাগছে অন্তত দেড় ঘণ্টা। আর যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের ১৬ কিলোমিটারের মধ্যে বেহাল হয়ে পড়েছে ১২ কিলোমিটার। যশোর-মাগুরা সড়কের ২২ দশমিক ৫ কিলোমিটারের মধ্যে কদমতলী, পুলেরহাট থেকে লেবুতলা বাজার ও রজনীগন্ধা পাম্প পর্যন্ত বেহাল। এছাড়া ২০ কিলোমিটার যশোর-নড়াইল সড়কের মণিহার থেকে হামিদপুর অংশ পুরোটাই অসংখ্য বড় গর্তে ভরে গেছে।  সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর-খুলনা সড়কের মনিহার থেকে বকচর মুড়লী পর্যন্ত বড় বড় ঢিবির মতো সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে সড়কটির সংস্কারে কোটি টাকা ব্যয় হলেও দুর্ভোগ রয়েই গেছে। সড়কের মাটি পরীক্ষা করেও কোনো সুফল পায়নি সওজ।  বকচর এলাকার বাসিন্দারা জানায়, বেহাল সড়কের কারণে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে বর্ষা হলেই পানি জমে যায়।  একই অবস্থা যশোর-বেনাপোল সড়কেরও। দেখা যায়, যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের ভাঙা অংশে বিটুমিনের ওপর ইট বিছিয়ে যানবাহন চলাচল ঠিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।  সওজ সূত্রে জানা গেছে, ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৩ সালে যশোর শহরের দড়াটানা মোড় থেকে নাভারন মোড় পর্যন্ত এ মহাসড়কের ২৩ কিলোমিটারে বিটুমিনের আস্তরণ দিয়ে সংস্কারকাজ করা হয়। কিন্তু এ কাজে নিম্নমানের পাথরকুচি ও বিটুমিন ব্যবহারের কারণে সংস্কারের এক বছর না যেতেই বেশ কয়েকটি জায়গার বিটুমিন উঠে যায়।  বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, ‘বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এমন বেহাল মেনে নেয়া যায় না।’  এদিকে যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকায় সড়কের অর্ধেক অংশ কালভার্ট নির্মাণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কের একপাশ দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণে যানবাহন চলাচল করছে। আর ওই কালভার্টের দুই পাশে অন্তত আধা কিলোমিটার করে সড়ক ভাঙাচোরা। ফলে ভাঙা অংশের দুই পাশে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। তাছাড়া এখান থেকে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী পর্যন্ত অন্তত ২০ কিলোমিটার সড়কে বিটুমিনের আস্তরণ উঠে বেহাল হয়ে পড়েছে।  বেহাল হয়ে পড়েছে ঝিকরগাছা উপজেলা সদরের কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশের অন্তত আধা কিলোমিটার। তাছাড়া সেতুর পাটাতনেও ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে পাটাতন ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।  রইচ উদ্দিন নামে পণ্যবাহী ট্রাকের এক চালক বলেন, ‘রাস্তা এতটাই খারাপ যে, স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ঠিক রাখা যাচ্ছে না। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা রয়েছে।’  এ ব্যাপারে যশোর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাংগীর আলম বলেন, ঈদের আগে সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করার কাজ শুরু হয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে মানুষ ঈদে স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারে। তবে বৃষ্টির কারণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে এগুলো মেরামতে সময় প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, যশোর-খুলনা ও যশোর-বেনাপোল জাতীয় সড়ক মেরামতে সরকার ৬৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। শিগগিরই এগুলোর দরপত্র আহ্বান করা হবে।


SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: