২২ আগস্ট, ২০১৭

যশোরে নাবিল-চাকলাদার গ্রুপের কোন্দল চরমে

পাল্টাপাল্টি হামলা ও মামলায় যশোর আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়েছে। দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ। শোক দিবসের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির জের ধরে হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে উভয় গ্রুপ।

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারী সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অশোক বোসসহ ২ জনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
পাল্টা মামলায় সাংসদ নাবিল অনুসারীদেরও আসামি করা হয়েছে। দুই গ্রুপের হামলা ও মামলার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা।
জানা যায়, গত ১০ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘিরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রুপ নেয়। চাকলাদার অনুসারী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী রওশন ইকবাল শাহীকে পদ থেকে সরাতে সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদ গ্রুপ বিবাহিত দাবি করে কাবিননামা কেন্দ্রে জমা দেয়।
সভাপতি পদ থেকে রওশন ইকবাল শাহীর পদ বাতিলের চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শাহীন চাকলাদার অনুসারীরা ওই কাবিননামা ভুয়া প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। এরপর শাহী সভাপতি পদে বহাল থাকেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এরপর গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ম্যুরালে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করেন। বিভেদের ধারাবাহিকতায় শাহীন চাকলাদার অনুসারী যশোর সদর উপজেলা ছাত্রলীগ গত ১৯ আগস্ট মণিহার এলাকায় শোক দিবসের আলোচনা সভার আয়োজন করে।
ওই স্থানে নাবিলের অনুসারী সদর উপজেলা যুবলীগও কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা হওয়ায় ১৮ আগস্ট রাতে মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই রাতে সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অশোক বোসসহ দুইজনকে কুপিয়ে জখম করে দলীয় প্রতিপক্ষের লোকজন।
এ ঘটনায় ১৯ আগস্ট সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অশোক বোস বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিরা সবাই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারের অনুসারী।
মামলার আসামিরা হলেন- জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার  হোসেন বিপুল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, সাধারণ সম্পাদক সালসাবিল আহমেদ জিসান, শহরের পূর্ববারান্দী সরদার পাড়ার আইয়ুব  হোসেনের ছেলে জাকির  হোসেন রাজিব, ঝুমঝুমপুর চান্দের মোড় এলাকার চান কসাইয়ের  ছেলে জাভেদ, ছাত্রলীগ যশোর সদর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম, শহরের পুরাতন কসবা এলাকার শেখ রুস্তম আলীর ছেলে যুবলীগ নেতা জাহিদ হোসেন ওরফে টাক মিলন, যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজি সুমন, পুরাতন কসবা এলাকার তারেক ও টুলু। এছাড়া অজ্ঞাত ৭/৮জনকে আসামি করা হয়েছে।
অপরদিকে মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনায় শাহীন চাকলাদারের অনুসারী শহরের কাঁঠালতলা এলাকার বাবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা সবাই সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারী।
মামলার আসামিরা হলেন- সদর যুবলীগের আহ্বায়ক অশোক বোস, বারান্দীপাড়া এলাকার ফিঙে লিটন, সাঈদুর রহমান ওরফে ডিম রিপন, আরএন রোড এলাকার বাসিন্দা ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক লুৎফুল কবীর বিজু, বারান্দীপাড়া এলাকার মোমিন, রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা ও যুবলীগ নেতা মাহবুব আলম ম্যানসেল, সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার মাজহারুল, বেজপাড়ার বাবলু নাথ, নীলগঞ্জ এলাকার আজিজুল ইসলাম, রামনগরের আলাউদ্দিন মুকুল, বারান্দীপাড়ার মনির হোসেন টগর, সার্কিট হাউস পাড়ার বাসিন্দা যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান মিলু, ওয়াপদাপাড়ার রাজিবুল, বারান্দি মোল্লাপাড়ার পলাশসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জন।
পাল্টাপাল্টি হামলা ও মামলার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিভেদ আরো বাড়ল। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবাই একই জায়গায় ছিল। এখনও একই জায়গায় আছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াত বিএনপির সন্ত্রাসী, নজরুল হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে রাজনীতি করছে। তার আশ্রিত সন্ত্রাসীরা শোক দিবসের মঞ্চ ভাঙচুর করেছে। উল্টো জেলা ছাত্রলীগের নির্বাচিত সভাপতি, সম্পাদকসহ নিবেদিত নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়েছে। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
এ বিষয়ে সাংসদ নাবিলের অনুসারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, যারা নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবে, দলের কথা ভাবে না তারা দলে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। তারা ঐক্য চায় না। এজন্য তারা সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ককে কুপিয়েছে। তাদের সঙ্গে ঐক্য সম্ভব নয়।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: