১৫ আগস্ট, ২০১৭

ইন্টারনেট আসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে কিশোরের মৃত্যু, চীনজুড়ে ক্ষোভ



চীনে ইন্টারনেট আসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর কয়েকদিন পরই এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এই বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সী ওই কিশোরের দেহে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আনহুই প্রদেশের ওই নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকসহ চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ।
কিশোর মৃত্যুর ঘটনাটি চলতি মাসের শুরুর দিকে ঘটলেও সোমবারই এটি প্রকাশ করা হলো গণমাধ্যমের কাছে।
মারা যাওয়া ওই কিশোরের মা লিউ স্থানীয় পত্রিকা আনহুই শাংবাও’কে জানান, তার ছেলে ইন্টারনেটের প্রতি এতটাই ভয়াবহভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল যে তার বা তার স্বামীর পক্ষে কোনো রকম সাহায্য করা অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল।
তারা বাধ্য হয়েই সিদ্ধান্ত নেন ছেলেকে ফুইয়াং শহরের ওই আসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করার। মানসিক দিক-নির্দেশনা এবং শারীরিক সুস্থতার প্রশিক্ষণের সমন্বয়ের মাধ্যমে সেখানে শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট আসক্তি থেকে বের করে আনা হয় বলে বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল। সেটা দেখেই প্রতিষ্ঠানটির শরণাপন্ন হন ওই অসহায় বাবা-মা।
গত ৩ আগস্ট রাতে ছেলেকে ওই আসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রেখে আসেন লিউ। তার দু’দিন পরই সেখান থেকে ফোন আসে, তাদের ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে মা-বাবাকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের ছেলের গায়ে ২০টিরও বেশি বাহ্যিক ক্ষত পাওয়া গেছে। বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ক্ষতও রয়েছে।
মর্গে ছেলের মৃতদেহ দেখে লিউ বলেন, ‘আমার ছেলের মাথা থেকে পা পর্যন্ত অসংখ্য ক্ষতে ভরা ছিল… আমরা যখন তাকে কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলাম তখন তো সে ভালোই ছিল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে মারা গেল সে?’
ইন্টারনেট এবং গেম খেলার প্রতি আসক্তিকে কমিয়ে ছেলেমেয়েদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে চীনে অনেকটা ব্যাঙের ছাতার মতোই গজিয়ে উঠছে ‘বুট ক্যাম্প’ নামের এ ধরণের নিরাময় কেন্দ্র। এদের মধ্যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান সামরিক-ঢঙের কঠোর জীবনধারা অনুসরণের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত। পাশাপাশি সেখানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হওয়া কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে অতিরিক্ত কড়াকড়ি এবং রূঢ় আচরণের জন্য যথেষ্ট সমালোচিত।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: