১৮ আগস্ট, ২০১৭

কার কতটি পরমাণু বোমা, কতটাই বা ভয়ানক






পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে সারা বিশ্বের মাথা ব্যাথায় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তর কোরিয়া। কারণ জুলাই মাসেও দুইটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে কিম জং উনের দেশ উত্তর কোরিয়া। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যের এই বাগযুদ্ধের মধ্যে আবারো আলোচনায় উঠে এসেছে পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যু। 

গত ডিসেম্বরে পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে বেশ উত্তেজনাকর বক্তব্য দিয়েছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধ দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নিজ দেশের প্রতিরক্ষা প্রধানদের সাথে এক বৈঠকে পুতিন বলেছিলেন, পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার বাড়ানোই ২০১৭ সালের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে আবির্ভূত হবে। বারবার বিশ্ব নেতৃবৃন্দের এমন বাগাড়াম্বর বিশ্ববাসীকে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। কারণ এখনই যে পরিমাণ পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার পৃথিবীতে মজুদ রয়েছে তা দিয়ে পুরো পৃথিবীকে বেশ কয়েকবার ধ্বংস  করে ফেলা সম্ভব।  

আর্মস কন্ট্রোল এসোসিয়েশনের তথ্য মতে, পৃথিবীতে বর্তমানে মোট ১৫ হাজার পরমাণু অস্ত্র রয়েছে যার বেশিরভাগই রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। যার মধ্যে দশ হাজারের কম রয়েছে মিলিটারি সার্ভিসের হাতে। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য এই পাঁচটি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টি স্বীকৃত। 

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইন্সটিটিউট সিপ্রি-র তথ্য অনুসারে, রাশিয়ার কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। দেশটিতে এ ধরনের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সাত হাজার। 

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের কাছে রয়েছে ৬,৮০০ টি পারমাণবিক বোমা। 

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফ্রান্সের কাছে রয়েছে তিনশ’র পারমানবিক ওয়ারহেড। এগুলোর অধিকাংশই রয়েছে সাবমেরিনে। 

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে চীন। তাদের কাছে রয়েছে ২৭০টি পারমাণবিক বোমা। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের কাছে রয়েছে ২১৫টি পারমাণবিক বোমা।

এই পাঁচ দেশের বাইরে পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০টি পারমাণবিক বোমা যা কিনা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ভারতের কাছে রয়েছে ১২০ থেকে ১৩০টি। ধারণা করা হয়, ইসরাইলের কাছে ৮০টির মতো পারমাণবিক ‘ওয়ারহেড’ আছে। আর উত্তর কোরিয়ার কাছে রয়েছে ১০ থেকে ২০টির মতো পারমাণবিক বোমা।

টেলিগ্রাফের গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বোমা বি-৮৩ কোন জায়গায় আঘাত হানলে প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই এক কোটি ৪০ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে। এর বাইরে তিন কোটি সত্তর লাখ মানুষ তেজস্ত্রিয় বিকিরণে কারণে আহত হবে। এটি ১৩ কিলোমিটার ব্যসার্ধ এলাকায় তেজস্ত্রিয় বিকিরণ ঘটাতে সক্ষম হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

একইভাবে রাশিয়ার পরীক্ষা চালানো হয় টিসা বোম্বা যদি নিউইয়র্ক শহরে আঘাত করে তাহলে তা সাত কোটি সত্তর লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে সক্ষম। আহত হবে আরো চার কোটি ২০ লাখ মানুষ। এটি ৭৮৮০ কিলোমিটার দূরের কোন এলাকায় আঘাত হানতে সক্ষম।

আশঙ্কার কথা, সমপ্রতি পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে জাতিসংঘের দুই-তৃতীয়াংশ দেশ সম্মতি জানালেও এ চুক্তি বয়কট করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সসহ অন্য কিছু দেশ। ভোটে অংশ গ্রহণ থেকে বিরত ছিল পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ ৯টি দেশ। নতুন এই চুক্তিবিরোধী দেশগুলো আস্থা রাখছে বহু দশকের পুরোনো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে। কিন্তু যদি কথা কাটাকাটি উত্তেজনায় সত্যি সত্যি পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ দেশগুলো শক্তি প্রদর্শনের খেলায় মেতে ওঠে তা পৃথিবীর জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

-টেলিগ্রাফ

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: