৬ আগস্ট, ২০১৭

বিদায়ী ট্রাকে হারলেন বোল্ট




কিছুক্ষণ আগেই ট্রাকে জিতে এসেছেন জাস্টিন গ্যাটলিন। কিন্তু গ্যালারি থেকে গগনবিদায়ী আওয়াজ ‘বোল্ট’, ‘বোল্ট’। বিজয়ী গ্যাটলিনও বুঝলেন এই মঞ্চের মহানায়ক জ্যামাইক্যান বীর। দেরি না করে হাঁটু গেড়ে কিংবদন্তিকে কুর্নিশ করে বিদায় জানালেন আমেরিকান গ্যাটলিন।
লন্ডন স্টেডিয়ামে রোববার জীবনের শেষ দৌড়ে তৃতীয় হয়ে উসাইন বোল্টও প্রমাণ করলেন তিনি এই গ্রহেরই মানুষ! না হলে বিগত ৯ বছর ধরে যে ট্রাক তাকে সেরার খেতাব দিয়ে এসেছে, শেষবারে কেন সে এমন প্রবঞ্চনা করবে?
বোল্ট হয়তো নিজেও আঁচ করতে পেরেছিলেন তার দিন ফুরিয়ে আসছে। তা না হলে হিটে বাজে শুরুর পর সেমিফাইনালেও গরমিল করে ফেললেন। তারই ধারাবাহিকতা ফাইনালেও পেয়ে বসল বোল্টকে।তাকে পেছনে ফেলে গতির ঝড় তুলে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারে সোনার পদক জিতলেন জাস্টিন গ্যাটলিন।
গ্যাটলিন ৯.৯২ সেকেন্ডে সবার আগে দৌড় শেষ করেন। ৯.৯৪ সেকেন্ডে রূপা জিতেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিয়ান কোলম্যান। আর ৯.৯৫ সেকেন্ডে তৃতীয় হন বোল্ট।
ডোপ পাপে দু-দু’বার নিষিদ্ধ গ্যাটলিন আবারও ফিরলেন বীরের বেশে। ২০০৫ সালে হেলসিঙ্কির আসরের এক যুগ পর বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারে সেরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী এই অ্যাথলেট।
বোল্ট হিটের শুরু নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন, সময় নিয়েছিলেন ১০.০৭ সেকেন্ড। সেমিফাইনালের শুরুটাও তার ভালো ছিল না; তিন নম্বর সেমির হিটে কোলম্যানের (৯.৯৭) পিছনে থেকে দ্বিতীয় হন অলিম্পিকে আটটি সোনাজয়ী (৯.৯৮) এই জ্যামাইকান।
দুই বছর পর পর হওয়া এই প্রতিযোগিতায় ২০১১ সালে ১০০ মিটারে ডিসকোয়ালিফাইড হয়েছিলেন বোল্ট। ওই একটি হতাশার অধ্যায় ছাড়া ২০০৯ থেকে এই আসরের আগ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ্সের প্রতিটি ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪*১০০ মিটার রিলে দৌড়ে সেরা ছিলেন তিনি।
শেষটাও রাঙানোর প্রত্যাশায় ছিলেন বোল্ট। লক্ষ্য ছিল অ্যাথলেটিক্সের সবচেয়ে বড় এই আসরে ১০০ মিটারে চতুর্থ সোনা জয়ের; কিন্তু হলো না স্বপ্নপূরণ। এখানে তার সোনার পদক রয়ে গেল ১১টিই।
২০০৪ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করলেও বোল্টকে বিশ্ববাসী প্রথম চেনে ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকের মধ্যদিয়ে। বেইজিং ‘ট্রেবল’ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। সেই থেকেই বিশ্ব প্রতিযোগিতার ১০০ মিটার মানেই বোল্ট রাজত্ব।
ক্যারিয়ারে একমাত্র আক্ষেপ, ২০১১ দেগু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ‘ফলস স্টার্টের’ খড়্গে পা দিয়ে ছিটকে পড়েছিলেন। কিন্তু দৌড় শেষ করেছেন, এমন কোনো ইভেন্টে বোল্টকে হারের স্বাদ পেতে হয়নি, যা জীবনের শেষ দৌড়ে পেলেন তিনি।
তবে তৃতীয় হয়েও কোনো আক্ষেপ নেই বোল্টের মনে, ‘আমি দুঃখিত যে জয় দিয়ে শেষ করতে পারলাম না। কিন্তু সবাইকে এমন সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। সব সময়ের মতো অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা ছিল এটি।’

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: