২৪ জুলাই, ২০১৭

যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের পাসের হার ভালো হলেও জিপিএ-৫ কমেছে


যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে বরাবরের মতো পাসের হার ভালো। গত বছরের তুলনায় কমেছে শতকরা মাত্র ০.৫৫ ভাগ। ৭৪১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই প্রাপ্তিটা ছিল ২৪৫। এবার কমেছে ১১৭। এ বছর ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে ৪৩৮ জন। বাকিরা বিভিন্ন গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। কলেজ সূত্র জানিয়েছে, তাদের কলেজে অকৃতকার্যের সংখ্যা ৭। আরও ২২ শিক্ষার্থীর রেজাল্ট অপ্রকাশিত (উইথেল্ড)। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল শতকরা ৯৮ দশমিক ৮৭। বাণিজ্য ও মানবিকের তুলনায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা অন্যান্য বিভাগের তুলনায় কম।
শাহরিয়ার তাসনুব ফাহিম চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হতে চায়। যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের এই শিক্ষার্থী গতকাল বাণিজ্য শাখায় জিপিএ-৫ সমৃদ্ধ রেজাল্ট হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাসিত। এসএসসিতেও তার ‘পাঁচ’ ছিলো। কিন্তু তার মতো উচ্ছ্বাসিত দেখা যায়নি অনেককেই। মলিন মুখ আর চোখে ছিল কারও কারও চিন্তার ছাপ। কারণ মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেলেও এবার জোটেনি আশানরূপ ফল। ফলে পয়েন্ট কমে যাওয়ায় উচ্চ শিক্ষায় ঠিকানা কোথায় হবে তা তারা বুঝতে পারছে না।সব মিলিয়ে অনেককেই মলিন দেখা গিয়েছে। অনেকের মুখে ছিল চিন্তার ছাপ। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগামীতে কোন ভার্সিটিতে তাদের ঠাঁই হবে, তা নিয়ে এই চিন্তা।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জুলকার নাহিন জানান, প্রতি বছর কলেজের রেজাল্ট ভালো হয়। এবারও ভালোই। শতভাগ সাফল্যের খুব কাছাকাছি। সামান্য খারাপ হয়েছে জেনে একটু মন খারাপ। কারণ, এটা হওয়ার কথা ছিল না। কলেজ শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদৈর সহযোগী হয়ে পাঠদান করে থাকেন।’
তবে সার্বিক রেজাল্টে খুশি গতকাল কলেজে অধ্যয়নরত একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষার্থীরা। ফলাফল প্রকাশের পরপরই কলেজে প্রাঙ্গনে তাদের মধ্যে উল্লাস দেখা যায়। ব্যান্ড, ড্রাম ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র নিয়ে মেতে ছিলেন বিকেল অবধি।
নিয়মশৃঙ্খলা, পঠনপাঠন, রেজাল্ট ও অন্যান্য দিক দিয়ে ঐতিহ্যবাহী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে এবার জিপিএ-৫ কমে যাওয়া বিষয়ে কারণ জানতে চাইলে কলেজের উপাধ্যক্ষ কাজী ইকবালুর রশীদ বলেন, ‘সারা দেশে জিপিএ-৫ কমেছে। ধারাবাহিতায় আমাদের কলেজেও তার প্রভাব পড়েছে। তবে সার্বিক ফলাফল ভালো। এমনকি ৫শ’ ৬৬ শিক্ষার্থীর রেজাল্ট জিপিএ-৪ এর মধ্যে রয়েছে। যেহেতু পাঠদানে শিক্ষার্থীদের ব্যাসিক গড়ে দেয় হয়, সুতরাং আগামীর সিঁড়িতে তারা ভালো একটি প্লাটফর্মে পৌঁছুবে- এটা আমাদের বিশ্বাস।’

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: