২৩ মে, ২০১৭

বনানীতে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে বাসা ছাড়ার নির্দেশ




বনানীতে ধর্ষণের শিকার এক তরুণীকে বাসা ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছেন তার বাড়ির মালিক। অজুহাত হিসেবে বাড়ির মালিক বলছেন, ঘটনাটি জানাজানির পর পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা বাসার সামনে ভিড় করছেন। এটা তার জন্য ‘অস্বস্তিকর’। ওই তরুণী গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে বনানীতে হোটেল রেইনট্রিতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গতকাল রোববার তিন ধরনের আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তা হলো- এক ভিকটিমের পরিধেয় কাপড়, সাফাত-সাদমানের পাঁচটি মোবাইল ফোনসেট ও একটি পাওয়ারব্যাংক ও হাসান আবদুল হালিম ওরফে নাঈম আশরাফের ডিএনএ নমুনা।
এ ছাড়া এ ঘটনায় গতকাল সাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে সে ধর্ষণের ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেনি। এ মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিল। এর আগে সাফাত ও সাদমান সাকিফ জবানবন্দি দেয়। এ ছাড়া বনানী থানা পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করতে আরও তিন দিনের সময় নিয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে ওসি ফরমানের দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, বনানীতে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য মিলেছে। তদন্ত শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী এক তরুণী জানান, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অখ্যাত অনলাইনে তার নামে অপপ্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তারা ভাবছেন। ফেসবুক থেকে তরুণীদের ছবি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এরই মধ্যে পুলিশের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই তরুণী আরও জানান, বিষয়টি জানাজানির পর গণমাধ্যম থেকে তারা পূর্ণ সহযোগিতা পেয়ে আসছেন।
প্রথম দিকে পুলিশের গুলশান বিভাগ অসহযোগিতা করলেও পরে অন্যান্য ইউনিটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সাধ্যমতো তাদের পাশে ছিলেন। তবে পরিবারের কেউ কেউ এমন অভিযোগ করছে- কেন বিষয়টি তাদের বিলম্বে জানানো হলো? এ ছাড়া আরেক তরুণীকে এরই মধ্যে তাদের বাড়ির মালিক বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই তরুণীর তার কয়েক বান্ধবীকে নিয়ে রাজধানীর একটি এলাকায় থাকেন। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন।
সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন জানায়, ধর্ষণের পর দুই তরুণীর সঙ্গে বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা করে সাফাত ও সাদমান। বিভিন্ন সময় গাড়িতে এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হতো। তারা ভেবেছিল, ধর্ষণের ঘটনাটি এতদূর পর্যন্ত গড়াবে না। সবাই তাদের ‘হাতে’ রয়েছে।
গত ২৮ মার্চ রাতে রাজধানীর বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। এরপর বেরিয়ে আসে, সেই রাতে আরও দুই তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়। ওই ঘটনায় গত ৬ মে আপন জুয়েলার্সের অন্যতম কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও ই-মেকার্স ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের পরিচালক নাঈম আশরাফ ওরফে হাসান আবদুল হালিমসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন এক ছাত্রী। মামলার অন্য তিন আসামির একজন সাদমান সাকিফ রেগনাম গ্রুপের পরিচালক। চাঞ্চল্যকর মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের উইমেন সাপোর্ট সেন্টার।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: