১৭ মে, ২০১৭

যশোরে আবারও ফাঁসাতে গিয়ে ধরা খেল পুলিশ

ফেনসিডিল দিয়ে এক চা দোকানিকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। স্থানীয় লোকজন ওই দুই কর্মকর্তাকে হাতেনাতে ধরে আটকে রেখে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে এ দুজনসহ পুলিশের তিন সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের চৌগাছা উপজেলার খড়িঞ্চা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যাহার করা তিনজন হলেন চৌগাছা থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) সাজ্জাদুর রহমান ও মাসুদ রানা এবং কনস্টেবল সেলিম রেজা।
সম্প্রতি চৌগাছা বাজারে প্রসাধনের একটি দোকানে ইয়াবা বড়ি রেখে ব্যবসায়ীকে আটকের চেষ্টার সময় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জনতার হাতে ধরা পড়েন পুলিশের দুই সদস্য। এ ঘটনায় ওই দুই সদস্যকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে পুলিশ ও স্বরূপদহ ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, খড়িঞ্চা বাজারের চায়ের দোকানদার আবদুর রহমান আজ দুপুরে দোকান বন্ধ করে পার্শ্ববর্তী পুড়াপাড়া বাজারে যান। ফিরে দেখেন তাঁর দোকানের সামনে একটি মাইক্রোবাস। মাইক্রোবাসের পাশে এএসআই সাজ্জাদুর ও মাসুদ দাঁড়িয়ে আছেন। মাইক্রোবাসের চালক দোকানের পেছনে কিছু একটা রাখতে যান। এ সময় আবদুর রহমান ‘ওখানে কী রাখছেন’ বলে চিৎকার দিয়ে ওঠেন। চিৎকার শুনে পুলিশের দুই কর্মকর্তা তাঁকে ধরে বলেন, ‘ওটা ফেনসিডিলের বোতল। তুই দোকানের পেছনে রেখেছিস। তুই ওই ফেনসিডিলের মালিক।’ এ কথা বলে পুলিশ তাঁকে আটকের চেষ্টা করে। তিনি প্রতিবাদ জানালে পাশ থেকে বাজারের অন্য লোকজন এসে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

স্বরূপদহ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর আমি বাজারে গিয়েছিলাম। পুলিশের দুই কর্মকর্তা এক দোকানিকে ফেনসিডিল দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন বলে শুনেছি। তবে আমি ফেনসিডিল দেখিনি।’
ঘটনার পরপরই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিচারের দাবিতে স্থানীয় লোকজন চৌগাছা-পুড়াপাড়া সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে চৌগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মারুফ আহমেদ ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা আকিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকেল পৌনে চারটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এ সময় এএসপি নাইমুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে এএসপি নাইমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এই তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিউজ সুত্রঃ প্রথম আলো

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: