১৪ মে, ২০১৭

সাঈদীর রিভিউ শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বললেন, ‘প্লিজ কসাই বলবেন না’




মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ শুনানির সময় ‘কসাই’ না বলার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। রবিবার সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা রিভিউ আবেদন ও আসামি পক্ষে খালাস চেয়ে করা রিভিউ আবেদনের শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কসাই বলবেন না, প্লিজ’।
রাষ্ট্রপক্ষ ও সাঈদীর করা রিভিউ আবেদনের ওপর রোববার (১৪ মে) দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ১টা ৫মিনিট পর্যন্ত দু’পক্ষ শুনানি করা হয়। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের সদস্যরা হলেন— আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও মির্জা হোসেইন হায়দার।
শুনানির শুরুতে আসামির খালাসের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী পিরোজপুরে ছিলেন না। যশোরে থেকে ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা করে তিনি সংসার চালাতেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ওই সময় বর্ষাকাল ছিল, মে মাস ছিল। বর্ষাকালে তিনি কিভাবে ওয়াজ করতেন?’ এর জবাবে সাঈদীর আইনজীবী দাবি করেন, ‘তিনি সারাবছরই ওয়াজ করতেন।’
শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের অনেকেই পাকিস্তানে ছিলেন। একাত্তরের বাস্তবতার মেঘ ৭৫-এর পর বুড়িগঙ্গা হয়ে বঙ্গোপসাগরে থেকে হিমালয়ে গড়িয়েছে।’ শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল একাধিকবার সাঈদীকে ‘কসাই’ হিসেবে অভিহিত করলে এস কে সিনহা বলেন, ‘প্লিজ, কসাই বলবেন না’।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। পরে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।
গত বছরের ১৭ জানুয়ারি আপিলের রায় থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন দায়ের করেন সাঈদী। মোট ৯০ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে আমৃত্যু কারাদণ্ড থেকে খালাস পেতে ১৬টি যুক্তি দেখানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রিভিউ করে। উভয় পক্ষের রিভিউ শুনানি একসঙ্গে চলছে।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: