২৮ এপ্রিল, ২০১৭

চীনা প্রেসিডেন্টের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প



যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে এবং জয়ের পরও চীনের সঙ্গে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক ছিল রীতিমতো ‘দা-কুমড়ো’। ওই সময়ে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ইস্যুতে দেশটিকে নানা রকম হুমকি-ধামকিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হোয়াইট হাউসে ঢোকার ১০০ দিনের মাথায় বদলে গেল ট্রাম্পের সেই নীতি।
বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাকে ‘অত্যন্ত ভালো মানুষ’ আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তার সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানি। তিনি চীনকে ভালোবাসেন, চীনের মানুষকে ভালোবাসেন।’
উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে চীনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আমি জানি, তিনি শেষ পর্যন্ত তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে কিছু না কিছু করার চেষ্টা করবেন।’
প্রসঙ্গত, বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনায় চীনকে ব্যবহার করতে চাইছে মার্কিন প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছে উত্তর কোরিয়া। এ ইস্যুতে দুদেশের উত্তেজনা মাত্রা ছাড়িয়েছে। দেখা দিয়েছে যুদ্ধাবস্থা।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিয়েই ট্রাম্পের যত আপত্তি। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলা চালাতেই আন্তর্জাতিক আইন ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের শপথের পর থেকে উত্তর কোরিয়াও একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে এ দাবির পক্ষে রসদ জুগিয়েছে।
চীন উত্তর কোরিয়াকে দমনে সহায়তা না করলে প্রয়োজনে একাই সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। পিয়ংইয়ং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় দুপক্ষকেই সতর্ক করেছে চীন ও রাশিয়া।
এর আগে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করে ট্রাম্প প্রশাসন। দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছে পারমাণবিক অস্ত্রবাহী মার্কিন সাবমেরিন ইউএসএস মিশিগান। কোরীয় উপদ্বীপের পথে রয়েছে বিমানবাহী মার্কিন নৌবহর কার্ল ভিনসন। এর সঙ্গে যোগ দিয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীও।
যুদ্ধের আশঙ্কায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও বিপুল পরিমাণ শরণার্থীর চাপ সামলাতে উত্তর কোরিয়া সংলগ্ন নিজ নিজ দেশের সীমান্তে বাড়তি সেনা ও যুদ্ধযান মোতায়েন করেছে মস্কো ও বেইজিং।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: