১০ এপ্রিল, ২০১৭

মডেল রাওদার আইফোনের লক খুলছে না







রাওদা আতিফ যে আন্তর্জাতিক মডেল ছিলেন তা তার মৃত্যুর আগে জানতেন না সহপাঠীরা। এমন কী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছেও তিনি কখনও জানাননি। চলাফেরায় ছিলেন একেবারেই অন্তর্মুখী। জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে ঘোরাঘুরি করতেন না। বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা বা হৈচৈয়েও তেমন থাকতেন না মালদ্বীপের এই শিক্ষার্থী। লেখাপড়া আর নিজের কক্ষটিই ছিল তার নিজস্ব জগত। মেডিকেল কলেজের কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অন্য বিদেশী শিক্ষার্থীরা খুব একটা হাজির থাকতেন না। কিন্তু রাওদা ঠিকই অনুষ্ঠান উপভোগ করতেন। ঘুরে ঘুরে ছবি উঠাতেন। কোনো ধরনের অহমিকাও ছিল না। সবার সঙ্গেই কথা বলতেন ভাঙা ভাঙা বাংলায়। কিন্তু হুট করেই যে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেবেন, তা কেউ ভাবতেই পারছেন না।

পুলিশ জানিয়েছে, মডেল রাওদার আত্মহত্যার সম্ভাব্য কারণ খুঁজতে তারা কাজ শুরু করেছেন। তবে তার ব্যবহৃত আইফোনের লক খুলতে পারছেন না তারা। আনলক করার মতো কোনো প্রযুক্তিও নেই পুলিশের কাছে। ফলে তার আত্মহত্যার পেছনে প্রেম বা ব্যক্তিগত কোনো কারণ ছিল কি-না, তারও ধারণা পাচ্ছে না পুলিশ।

রাওদার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বৃহস্পতিবার বন্ধ রাখা হয় ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটিও করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. আবদুল মুকিত সরকারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এ কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে বুধবারই রাওদার মৃত্যুর খবর পায় তার পরিবার। বৃহস্পতিবার বিকালে বিমানে করে রাজশাহীতে আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান সাকির এবং কমনওয়েলথের সেকেন্ড সেক্রেটারি ইসমাইল মুফিদ। তারা প্রথমে ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। এ সময় তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সেখান থেকে তারা রাজশাহী সার্কিট হাউসে গিয়ে ওঠেন। রাতে পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা ছিল তাদের।

রাওদার বাবা মোহাম্মদ আতিফ, মা আমিনাথ মুহারমিমাথসহ পরিবারের তিন সদস্য এদিন দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেন। এরপর বিকালে সড়কপথে তারা রাজশাহী রওনা হন। তবে সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা রাজশাহী পৌঁছাননি।

পুলিশ জানায়, ফোনে সবশেষ কার সঙ্গে রাওদার কথা হয়েছিল তা জানতে পারছে না পুলিশ। নগরীর শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘রাওদার সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একদিন পরই তার টিউটোরিয়াল পরীক্ষা ছিল। তাই পড়াশোনা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত ছিলেন তিনি। পড়াশোনার চিন্তায় আত্মহত্যা করতে পারেন কি-না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া প্রেম বা পারিবারিক কোনো বিষয় আছে কি-না, তাও জানার চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, ওয়েস্টার্ন পোশাক ছাড়ার চাপে ছিলেন ‘নীল নয়না’ মডেল রাওদা আতিফ। তিনি ছিলেন মালদ্বীপের সেলিব্রিটি মডেল। নিজ দেশের বাইরে ভারতেও তিনি মডেলিং করেন। গত বছরের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক ফ্যাশন পত্রিকা ‘ভোগ’ ইন্ডিয়ার নবম বর্ষপূর্তি সংখ্যার প্রচ্ছদে মডেল হিসেবে তার ছবি ছাপা হয়। র‌্যাম্পে ঝড় তোলা এই মডেল নিজের মতোই থাকতেন। ওয়েস্টার্ন পোশাকে অভ্যস্ত হলেও কলেজের ক্লাসে নিয়ম অনুযায়ী ওড়না মাথায় দিতেন। তবে ব্যবহারিক ক্লাসে খোলামেলা পোশাকেই যেতেন। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে কানাঘুষাও ছিল।

মেডিকেল কলেজের সেক্রেটারি আবদুল আজিজ রিয়াদ বলেন, মেডিকেল কলেজের ড্রেসকোড মেনে চলতেন রাওদা। এ নিয়ে কখনও কোনো চাপ ছিল না। ক্লাসের বাইরে যে যার মতো পোশাক পরে। এতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তার আত্মহত্যার বিষয়টি ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন তিনি আত্মহত্যা করলেন সে বিষয়ে কেউ কিছু জানাতে পারছেন না। এ ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষ থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার বেলা ১১টার দিকে হোস্টেলের ২০৯নং কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যানে রাওদার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

সূত্র:যুগান্তর

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: