১৫ এপ্রিল, ২০১৭

বন্ধুর বেশে প্রভু মেনে নেব না: খালেদা জিয়া



দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কারো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার বিকালে বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘৪৫ বছরে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। এমন অবস্থা দেখে অনেকেই এগিয়ে আসতে চায় দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার জন্য। উন্নয়নের নামে ঢুকে বাংলাদেশকে দুর্বল করতে চাই তারা।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এখন প্রয়োজন ঐক্যের, প্রয়োজন শান্তির ও কল্যাণের। আমরা সকলকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই, কিন্তু কেউ যদি বন্ধুর বেশে প্রভু হতে চায়, সেটা মেনে নেবো না, মেনে নিতে দিব না। বন্ধুর নামে প্রভুত্ব বাংলাদেশের মানুষ স্বীকার করবে না। তাই আসুন বাংলা নতুন বছরে সকলেই শপথ করি দেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করবো। জনগণের কল্যাণ করবো।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘সামনে আসছে শুকনা মৌসুম। আমরা বলতে চাই, আমাদের পানির যে প্রাপ্য সেই প্রাপ্য আমরা চাই। আমরা কারো দয়া চাচ্ছি না, আমাদের যতটুকু অধিকার ততটুকুই চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে ( ভারত সফর করেছেন) এসেছেন। কিন্তু নিজের দেশের মানুষের কথা বলতে পারেননি। কিছুই করতে পারেননি। দেশের মানুষের কথা না বলে নিজের দেশের সব কিছু দিয়ে এসেছেন,বিনিময়ে কিছু নিয়ে আসতে পারেননি।’
‘আজকে যদি এতোগুলো চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হয়েছে, প্রধামন্ত্রীর উদ্দেশে একটা কথা বলতে চাই- যদি তিনি সাহস করে একটা কথা বলতেন- আমাদের দেশের জনগণের সঙ্গে আলাপ করে তার পর চুক্তি ও এমওইউ করবো, যদি বলতে পারতেন আপনারা আমাকে তিস্তার পানির ন্যয্যা হিস্যা দেন তাহলে চুক্তি করতে রাজি আছি। এই কথা বললে আমরা সকলে মিলে তার পাশে থাকতাম। অবশ্যই তাকে সমর্থন দিতাম। কিন্তু তিনি সাহস করেননি।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হয়েছি। সামনে আবার যদি দেশের জন্য সংগ্রাম করতে হয় সেই সংগ্রামও আমরা করবো। বিজয়ী আমরা হবোই।’
খালেদা জিয়া বলেন, আজ শুভ নববর্ষ। আশা করি এই বছর সকলের জন্য সুন্দর হবে। নববর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সকল নেতাকর্মীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই এলাকার জনগণ ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ‘নববর্ষ যাতে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের মানুষের মনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে। আমরা কি চাই? আমরা চাই গণতন্ত্র, শান্তি, উন্নয়ন জনগণের কল্যাণ।’
বিএনপি প্রধান বলেন, ‘দেশের উন্নতি, জনগণের কল্যানের জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বিএনপি সব সময় জনগণের কল্যাণ ও জাতীয় ঐক্যতে বিশ্বাস করে।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা দেশ থেকে বিদায় করবো সন্ত্রাস, গুম, খুন, হত্যা, জঙ্গি হামলা। এসব বিদায় করে দেশে শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো।’
বিএনপি প্রধান বলেন, ‘আমরা জানি দেশের মানুষ কষ্টে আছে। কয়েকদিন আগে বৃষ্টি ও বাইরের পানি এসে হাওর অঞ্চলে মানুষের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই গবিরের পাশে দাঁড়াতে হবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
পরে জাসাস আয়োজিত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করেন খালেদা জিয়া।
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাদ) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় , আবদুল মঈন খান, নিতাই রায় চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমদ আজম খান, আমান উল্লাহ আমান, আতাউর রহমান ঢালী, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ অঙ্গ দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
জাসাস নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- হেলাল খান, বাবুল আহমেদ, আশরাফ উদ্দিন উজ্জল, শায়রুল কবির খান, সালাহ উদ্দিন ভুইয়া শিশির, ওবায়দুর রহমান চন্দন প্রমুখ।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: